জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
ঘাসফড়িংয়ে প্রাণিজগতের অনন্য প্রকৃতির শ্বসন প্রক্রিয়া দেখা যায়। রুইমাছের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি ভিন্ন উপায়ে সম্পন্ন হয়।
- ক)(1)
টিমপেনাম কী?
- খ)(2)
সম্পূর্ণ রূপান্তর বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথম প্রাণীতে উল্লেখিত প্রক্রিয়াটি যে তন্ত্রের মাধ্যমে সংগঠিত হয় তার গঠন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপক দু’টিতে উল্লেখিত প্রক্রিয়াটির তুলনামূলক বিশ্লেষন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঘাসফড়িংয়ের প্রথম উদরীয় খণ্ডের উভয় পাশের একজোড়া ডিম্বাকার পর্দা বা শ্রবণ অঙ্গকে টিমপেনাম (শ্রবণ পর্দা) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে রূপান্তরে পতঙ্গের ডিম ফুটে যে বাচ্চা বের হয় তা আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রাণী হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এদের জীবনচক্রে ডিম, লার্ভা, পিউপা ও পূর্ণাঙ্গ (ইমাগো)— এই চারটি সুস্পষ্ট ও স্বতন্ত্র দশা পরিলক্ষিত হয়, তাকে সম্পূর্ণ রূপান্তর বলে। যেমন- মৌমাছি, প্রজাপতি ইত্যাদির রূপান্তর।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথম প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং এবং এর শ্বসন প্রক্রিয়া শ্বসনতন্ত্র বা ট্রাকিয়াল তন্ত্রের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। ঘাসফড়িংয়ের ট্রাকিয়াল তন্ত্রের গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. শ্বাসরন্ধ্র বা স্পাইরাকল (Spiracles): ঘাসফড়িংয়ের দেহে ১০ জোড়া শ্বাসরন্ধ্র থাকে (২ জোড়া বক্ষে ও ৮ জোড়া উদরে)। এগুলো কাইটিনময় পেরিট্রিম দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে এবং কপাটিকা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
২. ট্রাকিয়া (Trachea): এগুলো কাইটিন নির্মিত স্থিতিস্থাপক শাখা-প্রশাখাযুক্ত নালি। ট্রাকিয়ার অন্তঃপ্রাচীরে ইনটিমা নামক বলয়াকার স্তর থাকে, যা টেনিডিয়া গঠন করে এবং ট্রাকিয়াকে চুপসে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
৩. ট্রাকিওল (Tracheole): ট্রাকিয়ার সূক্ষ্মতম শাখাকে ট্রাকিওল বলে। এগুলোর প্রাচীরে ইনটিমা ও টেনিডিয়া থাকে না এবং এদের অভ্যন্তরে প্রোটিনযুক্ত ট্রাকিওল তরল থাকে, যা সরাসরি দেহকোষের সংস্পর্শে এসে গ্যাস বিনিময় ঘটায়।
৪. ট্রাকিয়াল কাণ্ড (Tracheal trunks): প্রধান প্রধান ট্রাকিয়া মিলে অনুদৈর্ঘ্য ও অনুপ্রস্থ ট্রাকিয়াল কাণ্ড গঠন করে, যা পুরো দেহে জালের মতো বিস্তৃত।
৫. বায়ুথলি (Air sacs): ট্রাকিয়ার কিছু অংশ প্রসারিত হয়ে পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট বায়ুথলি গঠন করে, যা শ্বসনের সময় বায়ু সঞ্চয় করে রাখে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণী দুটি হলো ঘাসফড়িং ও রুইমাছ। এদের শ্বসন প্রক্রিয়ার তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. শ্বসন অঙ্গের প্রকৃতি: ঘাসফড়িংয়ের শ্বসন অঙ্গ হলো ট্রাকিয়াল তন্ত্র, যার মাধ্যমে বায়বীয় শ্বসন ঘটে। রুইমাছের শ্বসন অঙ্গ হলো গলবিলের দুপাশে অবস্থিত ফুলকা, যার মাধ্যমে জলজ শ্বসন সম্পন্ন হয়।
২. পরিবেশীয় মাধ্যম: ঘাসফড়িং সরাসরি বাতাস থেকে গ্যাসীয় অক্সিজেন গ্রহণ করে। অন্যদিকে, রুইমাছ পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন ফুলকার সাহায্যে গ্রহণ করে।
৩. রক্তের ভূমিকা: ঘাসফড়িংয়ের রক্তে (হিমোলিম্ফে) কোনো শ্বসন রঞ্জক (হিমোগ্লোবিন) থাকে না, ফলে গ্যাস পরিবহনে রক্ত অংশ নেয় না; ট্রাকিওল সরাসরি কোষে গ্যাস সরবরাহ করে। রুইমাছের রক্তে হিমোগ্লোবিন থাকে এবং রক্ত সংবহনতন্ত্রের মাধ্যমেই ফুলকা থেকে অক্সিজেন সারাদেহে পরিবাহিত হয়।
৪. গ্যাস বিনিময়ের কৌশল: ঘাসফড়িংয়ে শ্বাসরন্ধ্রের খোলা ও বন্ধের মাধ্যমে সরাসরি ট্রাকিওল তরল ও দেহকোষের মধ্যে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাস বিনিময় ঘটে। রুইমাছে বিপরীতমুখী প্রবাহ (Counter-current mechanism) কৌশলে ফুলকা ল্যামেলির রক্ত ও পানির মধ্যে গ্যাস বিনিময় সম্পন্ন হয়।পরিশেষে, ঘাসফড়িংয়ের শ্বসন প্রক্রিয়া হলো প্রত্যক্ষ ট্রাকিয়াল বায়বীয় শ্বসন এবং রুইমাছের শ্বসন হলো পরোক্ষ ফুলকাভিত্তিক জলজ শ্বসন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও