বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

নিবেদিতা তার স্বামী প্লাবনসহ বইয়ের দোকানে এসে অবাক হলেন। ফোনে নিবেদিতা বই বিক্রেতাকে বইয়ের নাম, সংখ্যা, প্রকাশনী, কমিশন এবং সরবরাহের তারিখ প্রভৃতি বিষয়ে বিস্তারিত সব বলে দিয়েছিলেন। কিন্তু দোকানদার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ই সরবরাহের ন্যূনতম প্রস্তুতিও নেননি। এক পর্যায়ে দোকানদার প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করণে নিবেদিতা মোবাইল থেকে প্রমাণ উপস্থাপন করলেন। প্লাবনের অনুরোধে নিবেদিতা দোকানদারের সাথে আর তর্কে জড়ালেন না।

  1. ক)

    হরিশ কোথায় কাজ করে?

    (1)
  2. খ)

    “সেজন্য কিছু ভাবিবেন না - এখন উঠুন। " উক্তিটিতে বক্তার মনোভাব ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্লাবন ও 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মধ্যে সাদৃশ্য নির্ণয় কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকটি 'অপরিচিতা' গল্পের মূলভাবকে ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।"- মন্তব্যটির পক্ষে তোমার যুক্তি তুলে ধর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হরিশ কানপুরে কাজ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটিতে শম্ভুনাথ সেনের মানবিক, দায়িত্বশীল ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

    কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ সেন যখন দেখতে পান যে বিয়ের আসরে অনুপমের মামা বরযাত্রীদের খাওয়া-দাওয়ার কথা বিবেচনা না করে গহনা পরখ করতে ব্যস্ত, তখন তিনি বরযাত্রীদের অসম্মান করতে চাননি। তিনি অনুপম ও তার মামার অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিলেও নিমন্ত্রিত অভ্যাগতদের প্রতি ভদ্রতা ও আতিথেয়তায় কোনো ত্রুটি রাখেননি। তাই তিনি মামাকে বিয়ে ভাঙার সিদ্ধান্তের পর বিনয়ের সঙ্গেই খাবার টেবিলে উঠার জন্য এ কথাটি বলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্লাবনের নিষ্ক্রিয় ও আপসকামী মানসিকতার সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের ব্যক্তিত্বহীন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।

    'অপরিচিতা' গল্পে অনুপম ছিল ব্যক্তিত্বহীন ও ভীরু স্বভাবের এক যুবক। মামার অযৌক্তিক ও অপমানজনক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মতো সাহস কিংবা নিজের অন্যায়ের প্রতিবাদ জানানোর মতো আত্মমর্যাদাবোধ তার ছিল না। সে কেবল নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, নিবেদিতা বইয়ের দোকানে বই সরবরাহের অনিয়ম নিয়ে সঠিক প্রমাণসহ প্রতিবাদ করলেও তার স্বামী প্লাবন এগিয়ে এসে তাকে সমর্থন দেয়নি; বরং সে ঝামেলা এড়াতে নিবেদিতাকে তর্কে জড়াতে নিষেধ করে। উদ্দীপকের প্লাবনের এই নিষ্ক্রিয়তা, ভীরুতা এবং অন্যায় বা অনিয়মের মুখে আপস করার প্রবণতার সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মেরুদণ্ডহীন ও নির্লিপ্ত মনোভাবের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকটি 'অপরিচিতা' গল্পের মূলভাবকে ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।”— মন্তব্যটি যথার্থ।

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'অপরিচিতা' গল্পের মূলভাব হলো তৎকালীন হিন্দু সমাজের যৌতুক প্রথার মতো কুপ্রথার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ, নারী জাগরণ ও ব্যক্তিত্বের বিকাশ। গল্পের নায়িকা কল্যাণী ও তার পিতা শম্ভুনাথ সেন যৌতুকের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বিয়ে ভেঙে দিয়ে আত্মমর্যাদার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অনুপমের নিষ্ক্রিয়তা সেখানে বিদ্যমান সামাজিক দুর্বলতার চিত্রকে পরিস্ফুট করে।

    উদ্দীপকে একটি বইয়ের দোকানে সাধারণ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং সেই প্রেক্ষাপটে নিবেদিতার প্রতিবাদ ও তার স্বামী প্লাবনের আপসকামী মানসিকতা উঠে এসেছে। প্লাবনের আচরণে অনুপমের ব্যক্তিত্বহীনতার কিছুটা ছায়া থাকলেও, সামগ্রিকভাবে 'অপরিচিতা' গল্পের বৃহৎ সামাজিক প্রেক্ষাপট এতে অনুপস্থিত। গল্পে যে যৌতুকবিরোধী চেতনা, আত্মমর্যাদাবোধের প্রকাশ এবং কল্যাণীর মতো তেজস্বী নারীর প্রতিবাদী রূপ ও আজীবন দেশসেবার ব্রত গ্রহণের মাধ্যমে নারীমুক্তির চিত্র রয়েছে, উদ্দীপকে তা কোনোভাবেই প্রতিফলিত হয়নি।

    অতএব, উদ্দীপকটি কেবল একটি ক্ষুদ্র পারিবারিক ও বাণিজ্যিক সংকটের চিত্র তুলে ধরেছে, যা 'অপরিচিতা' গল্পের গভীর সামাজিক সংকট, যৌতুক প্রথা বিরোধী বার্তা ও মানবিক মর্যাদার মূলভাবকে পুরোপুরি ধারণ করতে সক্ষম হয়নি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন