অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

সিরাজ মিয়া একজন দরিদ্র কৃষক। অভাবের সংসারে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সামান্য জমি ছাড়া আর কোনো সম্পদ তার নেই। তাই কৃষিকাজ করার সময় তাকে ধানের বীজ, কীটনাশক ও সার ক্রয়ের জন্য স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ হারে সুদে টাকা ধার নিতে হয়।

  1. ক)

    কৃষি খামার কী?

    (1)
  2. খ)

    মাশরুম কি ঔষধি সবজি? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সিরাজ মিয়া কৃষিকাজের জন্য কোন ধরনের উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে করো উদ্দীপকে উল্লিখিত উৎস কৃষি ঋণের জন্য পর্যাপ্ত? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একজন কৃষকের অধীনে এক বা একাধিক খণ্ডে বিভক্ত চাষযোগ্য মোট জমির পরিমাণকে কৃষি খামার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, মাশরুম একটি ঔষধি গুণসম্পন্ন পুষ্টিকর সবজি। মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং আঁশ থাকে, অথচ এতে চর্বি ও শর্করার পরিমাণ খুবই কম। এটি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এসব ভেষজ ও স্বাস্থ্যগত গুণের কারণেই মাশরুমকে ঔষধি সবজি হিসেবে গণ্য করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সিরাজ মিয়া কৃষিকাজের জন্য অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস (Informal/Non-institutional source) থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন।

    কৃষি ঋণের উৎসকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়— প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস। যেসব উৎস কোনো সরকারি নিয়মকানুন বা আর্থিক কাঠামোর আওতাধীন নয় এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের ভিত্তিতে ঋণ প্রদান করে, সেগুলোকে অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস বলা হয়। যেমন— গ্রামীণ মহাজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, গ্রাম্য ব্যবসায়ী ইত্যাদি।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, দরিদ্র কৃষক সিরাজ মিয়া কৃষিকাজের উপকরণ (বীজ, কীটনাশক, সার) ক্রয়ের জন্য স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ গ্রহণ করেন। যেহেতু মহাজন কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশ নয় এবং এটি একটি প্রাচীন ব্যক্তিগত ব্যবস্থা, তাই সিরাজ মিয়ার গৃহীত ঋণের উৎসটি অপ্রাতিষ্ঠানিক কৃষি ঋণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আমি মনে করি না যে উদ্দীপকে উল্লিখিত অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎসটি (গ্রাম্য মহাজন) কৃষি ঋণের জন্য পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত।

    অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে দ্রুত ও জামানতহীনভাবে ঋণ পাওয়া গেলেও এটি দেশের কৃষকদের সামগ্রিক চাহিদা মেটানোর জন্য মোটেও পর্যাপ্ত নয়। এর কারণসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. উচ্চ সুদের হার: মহাজনরা অত্যন্ত চড়া সুদে ঋণ প্রদান করে। ফলে কৃষকরা ঋণের আসল ও সুদের চক্রবৃদ্ধিতে আটকে যায়, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব করে দেয়।
    ২. ঋণের সীমিত পরিমাণ: কোনো একক মহাজনের পক্ষে বৃহৎ আকারের আধুনিক কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ করা সম্ভব নয়।
    ৩. শোষণমূলক শর্ত: অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সাথে প্রায়শই কঠোর শর্ত যুক্ত থাকে, যা অনেক সময় কৃষকের জমি বা ফসল কম দামে মহাজনের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য করে।
    ৪. দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে অক্ষমতা: ট্রাক্টর, গভীর নলকূপ স্থাপন বা কৃষি আধুনিকায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণের দরকার হয়, যা মহাজনরা দিতে পারে না।

    কৃষি উন্নয়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উৎস (যেমন- বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও সমবায় ব্যাংক) থেকে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে পর্যাপ্ত ঋণ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। অতএব, গ্রামীণ মহাজনের মতো অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস কৃষি ঋণের জন্য কোনোভাবেই পর্যাপ্ত বা টেকসই নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন