অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
শিক্ষক ক্লাসে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পটভূমি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, স্বাধীনতা পূর্ববর্তী তিন শাসনামল ১. ১২০০ হতে ১৭৫৭ খ্রি. পর্যন্ত ২. ১৭৫৭ হতে ১৯৪৭ খ্রি. পর্যন্ত ৩. ১৯৪৭ হতে ১৯৭১ খ্রি. পর্যন্ত বাংলাদেশ বিভিন্নভাবে শোষিত ও বঞ্চিত হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনীতির অবকাঠামোর উপখাতগুলোর উন্নয়ন হয়েছে।
- ক)(1)
প্রাকৃতিক পরিবেশ কী?
- খ)(2)
অবকাঠামোর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি শাসনামলের নামসহ অর্থনৈতিক বৈষম্য বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক গতিধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতির দ্বারা সৃষ্ট যেসব উপাদান যেমন—ভূ-প্রকৃতি, নদ-নদী, জলবায়ু, মাটি, বনভূমি ও খনিজ সম্পদ মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে, তাদের সামগ্রিক রূপকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অবকাঠামোর দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
১. দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী বিনিয়োগ: অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল পরিমাণ প্রাথমিক বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় এবং এটি দীর্ঘকাল ধরে সমাজে অর্থনৈতিক সেবাপ্রদান করে।
২. অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি: বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ইত্যাদির মতো অবকাঠামো দেশের সার্বিক উৎপাদন বৃদ্ধি ও সামাজিক কল্যাণ ত্বরান্বিত করার সহায়ক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত তিনটি ঐতিহাসিক শাসনামলের মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য শাসনামল হলো: ১৭৫৭ হতে ১৯৪৭ খ্রি. পর্যন্ত 'ব্রিটিশ শাসনামল' এবং ১৯৪৭ হতে ১৯৭১ খ্রি. পর্যন্ত 'পাকিস্তান শাসনামল'।
এ দুটি শাসনামলের অর্থনৈতিক বৈষম্য নিম্নরূপ:
১. ব্রিটিশ শাসনামল (১৭৫৭-১৯৪৭): এ সময় ঔপনিবেশিক শোষণের মাধ্যমে বাংলার সম্পদ ব্রিটেনে পাচার করা হয়। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে কৃষকদের শোষণ, নীল চাষে বাধ্য করা এবং এদেশীয় বিশ্বখ্যাত তাঁত ও মসলিন শিল্প ধ্বংস করে এ অঞ্চলকে তাদের শিল্পপণ্যের কাঁচামাল সরবরাহকারী ও বিক্রির বাজারে পরিণত করা হয়েছিল।
২. পাকিস্তান শাসনামল (১৯৪৭-১৯৭১): এই আমলে পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) পশ্চিম পাকিস্তানের উপনিবেশ হিসেবে শোষিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের পাট ও চা বিক্রির সিংহভাগ বৈদেশিক মুদ্রা পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ও সামরিক খাতে ব্যয় করা হতো। উন্নয়ন বাজেট, সরকারি চাকরি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে বাঙালিদের চরম বৈষম্যের শিকার হতে হয়।এভাবে উভয় শাসনামলেই এ অঞ্চল অর্থনৈতিক শোষণ ও বৈষম্যের শিকার হয়েছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের বর্তমান চলমান অর্থনৈতিক গতিধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনীতির অবকাঠামোগত উপখাতগুলোর অগ্রগতির ফলে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে।
২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার ইতিবাচক দিকসমূহ:
১. অবকাঠামো উন্নয়ন: পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেল এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্পগুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
২. মানবসম্পদ ও ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড: কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীর সদ্ব্যবহার দেশের উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করছে।
৩. রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও রেমিট্যান্স: তৈরি পোশাকের পাশাপাশি আইসিটি, ওষুধ শিল্প ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণ খাত বিকাশ লাভ করছে।তবে এ সম্ভাবনা পুরোপুরি বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে; যেমন—সুশাসন নিশ্চিত করা, আর্থিক খাতের সংস্কার, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈষম্য হ্রাস এবং মানবসম্পদের গুণগত মানোন্নয়ন। চলমান প্রবৃদ্ধি ও কাঠামোগত উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও