গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
সোনালী মধ্যবিত্ত কৃষি পরিবারের সন্তান। সে প্রায়ই উঠানে গিয়ে দেখে তার মা রোদে ধান, মরিচ, আচার, মাছ শুকাতে দেন। সোনালী তার মাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, খাদ্যবস্তু যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য এ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে হয়।
- ক)(1)
খাদ্য বিষক্রিয়া কী?
- খ)(2)
"ব্যাকটেরিয়া খাদ্যকে নষ্ট করে"— বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সোনালীর মা যে পদ্ধতিতে খাদ্য সংরক্ষণ করেছেন সে পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত পদ্ধতি ছাড়া আরও বিভিন্ন উপায়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায়— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জীবাণু বা রাসায়নিক বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রিত খাদ্য গ্রহণের ফলে দেহে যে অসুস্থতা বা বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, তাকে খাদ্য বিষক্রিয়া বা ফুড পয়জনিং বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যাকটেরিয়া অনুকূল পরিবেশে খাদ্যদ্রব্যে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং তাদের বিপাকীয় ক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যকে পচিয়ে ফেলে বা বিষাক্ত করে তোলে। খাদ্যের আর্দ্রতা, পুষ্টি উপাদান এবং সাধারণ তাপমাত্রায় ব্যাকটেরিয়া খাদ্যের জটিল উপাদানগুলোকে ভেঙে ফেলে, ফলে খাদ্যদ্রব্যের স্বাভাবিক বর্ণ, গন্ধ ও স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া কিছু ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর টক্সিন নির্গত করে খাদ্যকে বিষাক্ত করে তোলে, যা খেলে মানুষের পেটের পীড়া বা ফুড পয়জনিং হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সোনালীর মা রোদে শুকানো বা শুষ্কীকরণ (Sun Drying/Dehydration) পদ্ধতিতে খাদ্য সংরক্ষণ করেছেন।
শুকানো হলো খাদ্য সংরক্ষণের সবচেয়ে প্রাচীন এবং সহজ প্রাকৃতিক পদ্ধতি। খাদ্যে উপস্থিত পানির পরিমাণ কমিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করাই হলো এ পদ্ধতির মূল কৌশল। খাদ্য নষ্টের জন্য দায়ী বিভিন্ন অণুজীব (যেমন ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি) বেঁচে থাকার এবং বংশবৃদ্ধির জন্য আর্দ্রতা বা পানির প্রয়োজন হয়। খাদ্য রোদে দিলে তাপে এর মধ্যস্থিত আর্দ্রতা বা পানি বাষ্পীভূত হয়ে শুকিয়ে যায়। আর্দ্রতাহীন পরিবেশে অণুজীবের বৃদ্ধি ও খাদ্যের উৎসেচকীয় কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যায়, ফলে খাদ্যবস্তু দীর্ঘদিন ভালো থাকে। সোনালীর মা এভাবেই ধান, মরিচ, মাছ ইত্যাদি সংরক্ষণ করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রোদে শুকানো ছাড়াও খাদ্য সংরক্ষণের আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী আরও বিভিন্ন কার্যকর উপায় রয়েছে, যা খাদ্যকে দীর্ঘস্থায়ী করে।
উক্ত শুষ্কীকরণ পদ্ধতি ছাড়াও খাদ্য সংরক্ষণের অন্যান্য পদ্ধতিগুলো হলো:
১. শৈত্যকরণ বা হিমাগমন (Refrigeration & Freezing): কম তাপমাত্রায় অণুজীবের বৃদ্ধি স্থবির থাকে। রেফ্রিজারেটরে ফলমূল, শাকসবজি এবং ডিপ ফ্রিজে মাছ-মাংস দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়।
২. রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার (লবণ, চিনি ও তেল): মাছ-মাংসে পর্যাপ্ত লবণ প্রয়োগ করে (লবণায়ন) জীবাণুর বৃদ্ধি রোধ করা যায়। চিনি সহযোগে মোরব্বা, জ্যাম, জেলি তৈরি করা হয় এবং তেলে ডুবিয়ে আচার সংরক্ষণ করা হয়।
৩. ক্যানিং বা বোতলজাতকরণ (Canning): বায়ুরোধী পাত্রে খাদ্যদ্রব্যকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় জীবাণুমুক্ত করে দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা যায়।
৪. ভিনেগার বা অ্যাসিটিক এসিডের ব্যবহার: অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে আচার বা সস সংরক্ষণ করা হয়।সুতরাং, শুষ্কীকরণ ছাড়াও উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য অপচয়ের হাত থেকে রক্ষা করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও