পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
১৯৫৬ সালের শ্রীলঙ্কায় ভাষানীতি প্রবর্তন করা হয়। এতে বলা হয়, যারা শুদ্ধভাবে সিংহলী ভাষা বলতে ও লিখতে পারবে না তাদের সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। এ নিয়মের বিরুদ্ধে তামিল জনগোষ্ঠীর সংগঠন ফেডারেল পার্টি তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
- ক)(1)
যুক্তফ্রন্ট কী?
- খ)(2)
১৯৫৬ সালের সংবিধানের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলাদেশে কোন ঘটনার মিল পাওয়া যায় তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনার সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্ট হলো ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে গঠিত প্রধান বিরোধী দলগুলোর (আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-প্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল) একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনী রাজনৈতিক মোর্চা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানের দুটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
১. ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা: রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান' ঘোষণা করা হয় এবং রাষ্ট্রপ্রধানের পদ কেবল মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়।
২. সংসদীয় পদ্ধতির সরকার: সংবিধানে রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতির পরিবর্তে ব্রিটিশ ধাঁচের সংসদীয় বা মন্ত্রিসভা শাসিত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলাদেশে ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক 'ভাষা আন্দোলন'-এর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শ্রীলঙ্কায় সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা সিংহলীকে বাধ্যতামূলক করে সংখ্যালঘু তামিলদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অন্যায় নীতি গ্রহণ করা হলে তামিলরা এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলে।
একইভাবে, তৎকালীন পাকিস্তানের শতকরা ৫৬ ভাগ মানুষের মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। এর ফলে বাঙালি জাতি তাদের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় ১৯৪৮ সাল থেকে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলে এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। সুতরাং, উদ্দীপকের ভাষানীতি ও আন্দোলনের চিত্রটি ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল ভিত্তি ও প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছিল।
ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালিরা প্রথম বুঝতে পারে যে পাকিস্তানি কাঠামোতে তাদের জাতীয় অস্তিত্ব, সংস্কৃতি ও অধিকার কখনোই সুরক্ষিত নয়। এটি তৎকালীন পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে দ্বিজাতিতত্ত্বের সাম্প্রদায়িক মনোভাবের বিপরীতে এক অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটায়, যা 'বাঙালি জাতীয়তাবাদ' হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
এই আন্দোলনের সাফল্য পরবর্তী সময়ে বাঙালি জাতিকে নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে বাঙালি জাতির সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট লাভ হয়। পরিশেষে, ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করেই বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। অতএব, স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চালিকাশক্তি ছিল এই ভাষা আন্দোলন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও