বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
কোভিড-১৯ এর সময়ে ‘পদ্মরাগ' নামক সামাজিক সংগঠনটি ছিন্নমূল মানুষদের এক বেলা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছিল। প্রতিদিন শত শত মানুষকে খাবার দিয়েও প্রতিষ্ঠানটি তৃপ্ত হতে পারেনি। ইদানিং সংগঠনটির সদস্যদের নতুন উপলব্ধি হয়েছে যে, তাঁরা প্রতি মাসে একজন করে ছিন্নমূল মানুষকে আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত করে পরাবলম্বন থেকে মুক্তি দিবেন।
- ক)(1)
‘মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধটি কত সালে রচিত?
- খ)(2)
‘সত্যিকার মানব-কল্যাণ মহৎ চিন্তা-ভাবনারই ফসল।' -এ বাক্যের মর্মার্থ লেখ ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের পদ্মরাগ সংগঠনটির কোভিডকালীন কার্যক্রম আমাদের কোন্ গতানুগতিক রীতির প্রতিফলন? ‘মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধ অনুসারে ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
পদ্মরাগ সংগঠনটির সদস্যদের নতুন উপলব্ধির মাঝে কি ‘মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূলবক্তব্য নিহিত রয়েছে? তোমার যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধটি ১৯৭২ সালে রচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশ্নোক্ত বাক্যের মর্মার্থ হলো—প্রকৃত মানব-কল্যাণ কেবল বাহ্যিক দান-খয়রাত নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির আত্মমর্যাদা ও সামগ্রিক বিকাশের মহৎ ভাবনার সাথে জড়িত।
লেখক আবুল ফজলের মতে, ওপর থেকে নিচে হাত বাড়িয়ে কোনো কিছু দান করা প্রকৃত মানব-কল্যাণ নয়; এতে গ্রহীতার মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। সত্যিকার মানব-কল্যাণ সাধিত হয় তখনই, যখন প্রতিটি মানুষের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে তার ভেতরকার সুপ্ত মানবীয় সম্ভাবনার বিকাশ ঘটানো যায়। আর এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন গভীর, মহৎ এবং সামগ্রিক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ‘পদ্মরাগ’ সংগঠনের কোভিডকালীন কার্যক্রম আমাদের গতানুগতিক 'দান-খয়রাত' বা 'রিফিল' মানসিকতার প্রতিফলন।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন যে, সমাজে প্রচলিত মানব-কল্যাণ ধারণাটি মূলত ভিক্ষা দেওয়া বা রিলিফ বিতরণের মতো বাহ্যিক দানশীলতার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এতে মানুষের সাময়িক ক্ষুধা মিটলেও তাদের কোনো স্থায়ী সমাধান হয় না, উল্টো গ্রহীতাকে পরমুখাপেক্ষী করে তোলা হয় এবং তার মানবমর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়।
উদ্দীপকে পদ্মরাগ সংগঠনটি করোনাকালীন সংকটে ছিন্নমূল মানুষদের এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা করেছিল। এটি মানুষের তাৎক্ষণিক ক্ষুধা নিবারণের জন্য সহানুভূতির প্রকাশ হলেও তা প্রচলিত দান-খয়রাতের সংকীর্ণ ধারণারই অনুরূপ। 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধ অনুসারে এ ধরনের সাময়িক দান মানুষের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি বা তাকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখে না, যা আমাদের সমাজের গতানুগতিক রিলিফধর্মী সমাজসেবারই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, পদ্মরাগ সংগঠনটির সদস্যদের নতুন উপলব্ধির মাঝে ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের মূলবক্তব্য যথার্থভাবেই নিহিত রয়েছে।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক আবুল ফজল প্রচলিত দান-খয়রাত ও রিলিফ বিতরণের সংকীর্ণতাকে অতিক্রম করে মানুষের স্থায়ী মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। লেখকের মতে, মানুষকে পরনির্ভরশীলতা বা পরাবলম্বন থেকে মুক্তি দিয়ে আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই হলো সত্যিকারের মানব-কল্যাণ।
উদ্দীপকের পদ্মরাগ সংগঠনটি প্রথম দিকে কেবল খাবার বিতরণের মাধ্যমে সাময়িক সেবা দিলেও পরবর্তীতে বুঝতে পারে যে এতে মানুষের স্থায়ী কোনো মুক্তি মেলে না। তাই তারা সিদ্ধান্ত নেয় প্রতি মাসে একজন করে ছিন্নমূল মানুষকে আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত করে পরমুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্তি দেবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি ও মর্যাদাকে সম্মান জানিয়ে তাকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধেও ঠিক এই বিষয়টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে যে, কল্যাণ হতে হবে মানবমর্যাদা রক্ষা করে এবং মানুষকে আত্মনির্ভর করার মাধ্যমে। পদ্মরাগ সংগঠনের নতুন ভাবনাটি এই মূল দর্শনকেই ধারণ করে। তাই বলা যায়, তাদের নতুন উপলব্ধির মাঝেই 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূলভাব চমৎকারভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও