বাংলা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
10.
(ক) সারমর্ম লেখ:ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই- ছোটো সে তরী আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।শ্রাবণ গগন ঘিরে ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে, শূন্য নদীর তীরে, রহিনু পড়ি-যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী।।অথবা,(খ) ভাব-সম্প্রসারণ কর:সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক) সারমর্ম:
জগতে মানুষের সৃষ্ট কর্ম বা মহৎ অবদানই টিকে থাকে, স্বয়ং ব্যক্তি মানুষ চিরকাল বাঁচে না। মহাকালের নিষ্ঠুর স্রোত কেবল মানুষের সৃষ্টিশীল কর্ম ও অর্জনকে সাদরে গ্রহণ করে সংরক্ষণ করে, কিন্তু রক্তমাংসের নশ্বর স্রষ্টাকে অনিবার্যভাবেই পেছনে ফেলে যায়। নশ্বর দেহের বিনাশ ঘটলেও কর্মের মধ্য দিয়েই মানুষ অমরত্ব লাভ করে।
অথবা,
(খ) ভাব-সম্প্রসারণ:
"সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।"
মূলভাব: মানুষ সামাজিক জীব। পারস্পরিক সহযোগিতা, সহানুভূতি ও ত্যাগের মনোভাবের ওপরই মানবসমাজের অস্তিত্ব ও সুখ-শান্তি নির্ভরশীল। নিঃস্বার্থ পরোপকারই মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ সার্থকতা।
সম্প্রসারিত ভাব: মানবজাতি বিচ্ছিন্ন কোনো সত্তা নয়; প্রত্যেকে একে অপরের পরিপূরক। সমাজবদ্ধ জীবনে কেবল নিজের স্বার্থ নিয়ে ভাবলে মানবসভ্যতার অগ্রগতি অসম্ভব। স্বার্থপরতা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক মনোভাব সমাজকে বিচ্ছিন্ন ও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। পক্ষান্তরে, একে অপরের সুখে সুখী হওয়া এবং অন্যের দুঃখে ব্যথিত হয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই মানবতার মূল ধর্ম।
পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যাঁরা চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন, তাঁরা কখনোই নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভাবেননি; বরং সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। একজন চিকিৎসকের সেবা, কৃষকের শ্রম, শ্রমিকের ঘাম—সবকিছুই অন্যের উপকারের লক্ষ্যে নিবেদিত। আমরা যদি একে অপরের পাশে না দাঁড়াই, তবে সমাজ স্থবির ও অচল হয়ে পড়বে। ক্ষুদ্র ‘আমি’-কে বিসর্জন দিয়ে বৃহত্তর ‘আমরা’-র চেতনায় জাগ্রত হওয়াই জীবনের আসল লক্ষ্য।
মন্তব্য: আত্মকেন্দ্রিকতা ত্যাগ করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও পরোপকারের ব্রত গ্রহণ করলেই এই পৃথিবী সুন্দর, বাসযোগ্য ও শান্তিময় হয়ে উঠবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও