সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
সংঘ কী?
- খ)(2)
'পরিবার সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বাহন'- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্র 'ক'-এর '?' চিহ্নিত স্থানে কোন মৌল প্রত্যয়ের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' ও 'খ'-এর মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য অর্জনের জন্য একদল মানুষের সুসংগঠিত রূপই হলো সংঘ (Association)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবার হলো সমাজের সবচেয়ে আদিম ও প্রধান অনানুষ্ঠানিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান, যা ব্যক্তির আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। শিশুর সামাজিকীকরণের প্রথম পাঠ শুরু হয় পরিবার থেকে। পরিবারের মাধ্যমে একজন মানুষ সমাজের রীতিনীতি, মূল্যবোধ, আদর্শ এবং বিধিনিষেধ শিক্ষালাভ করে। পরিবারের স্নেহ, ভালোবাসা এবং শাসন একজন ব্যক্তিকে অপরাধমূলক বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখে এবং সমাজের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। তাই পরিবারকে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম শক্তিশালী বাহন বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'ক'-এর '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজবিজ্ঞানের মৌলিক প্রত্যয় 'সমাজ' (Society)-এর বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে।
সমাজ হলো মানুষের পারস্পরিক সামাজিক সম্পর্কের একটি জটিল জাল। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজের মতে, সমাজ হলো সামাজিক সম্পর্কের এমন এক ব্যবস্থা, যার মধ্যে আমরা বসবাস করি।
উদ্দীপকের চিত্র 'ক'-তে তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে: 'পারস্পরিক সম্পর্ক সূত্রে আবদ্ধ', 'গতিশীল ও সর্বদা পরিবর্তনশীল' এবং 'সহযোগিতার ভিত্তিতে গঠিত'। সমাজে বসবাসকারী ব্যক্তিরা একে অপরের সাথে নানা সম্পর্কে আবদ্ধ থাকে এবং তাদের সম্মিলিত প্রয়াসেই সমাজ পরিচালিত হয়। সমাজ কখনোই স্থবির নয়, এটি পরিবর্তনশীল ও গতিশীল। তাছাড়া পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া সামাজিক জীবন অসম্ভব। এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে সমাজ প্রত্যয়টির নির্দেশক। সুতরাং, চিত্র 'ক'-এর '?' চিহ্নিত স্থানে 'সমাজ' প্রত্যয়টির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র 'ক' নির্দেশ করে 'সমাজ' (Society) এবং চিত্র 'খ' নির্দেশ করে 'সম্প্রদায়' (Community)। নিম্নে এদের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা: সম্প্রদায়ের একটি অপরিহার্য শর্ত হলো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা। কিন্তু সমাজের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট বা সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার বাধ্যবাধকতা নেই; এটি অনেক বিস্তৃত ও সার্বজনীন হতে পারে।
২. 'আমরা' অনুভূতি (Community Sentiment): সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে অভিন্ন উদ্দেশ্য, স্বার্থ এবং গভীর 'আমরা' অনুভূতি (We-feeling) কাজ করে। কিন্তু সমাজের ক্ষেত্রে এই অনুভূতি ততটা গভীর না-ও হতে পারে, বরং সমাজে সাধারণ সহযোগিতা ও সম্পর্কই মূল ভিত্তি।
৩. পরিধি ও বিস্তৃতি: সমাজ একটি অত্যন্ত ব্যাপক ও বিশাল প্রত্যয়। একটি সমাজের অভ্যন্তরে একাধিক বা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব থাকতে পারে। কিন্তু সম্প্রদায় সমাজের মতো এতো বিস্তৃত নয়।
৪. স্থায়িত্ব ও গতিশীলতা: সমাজ অত্যন্ত গতিশীল এবং মানুষের সম্পর্কের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তনশীল। অপরপক্ষে, সম্প্রদায় অপেক্ষাকৃত সুসংবদ্ধ ও নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে স্থিতিশীল।
৫. উদ্দেশ্য ও জীবনপদ্ধতি: সম্প্রদায় মূলত একই ধরনের অভিন্ন স্বার্থ ও জীবনযাত্রার দ্বারা পরিচালিত হয়। পক্ষান্তরে, সমাজের মানুষ বৈচিত্র্যময় উদ্দেশ্য নিয়ে একসাথে মিলেমিশে বসবাস করে এবং সহযোগিতার মাধ্যমে জীবন অতিবাহিত করে।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, চিত্র 'ক' (সমাজ) সম্পর্কের জালের মাধ্যমে গঠিত একটি সামগ্রিক কাঠামো এবং চিত্র 'খ' (সম্প্রদায়) হলো সেই কাঠামোর ভেতরে নির্দিষ্ট অঞ্চল ও অভিন্ন অনুভূতিসম্পন্ন একটি গোষ্ঠী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও