কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
ওসমান একজন ফল চাষী। তিনি পাঁচ বছর যাবত ফল চাষ। করে আসছেন। তার চাষকৃত ফলটিকে গরিবের আপেল বলা হয়। এটি ভিটামিন-সি এর ভালো উৎস। এ ফলের একটি জনপ্রিয় জাত হল স্বরূপকাঠি। বাংলাদেশের সর্বত্রই এর চাষ হয় এবং দিন দিন এরআবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- ক)(1)
জিনিং কী?
- খ)(2)
আঁশ জাতীয় ফসলের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ফলটির বংশবিস্তার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষোক্ত উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তুলা থেকে বীজ এবং আঁশ পৃথক করার যান্ত্রিক বা হস্তচালিত প্রক্রিয়াকে জিনিং (Ginning) বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আঁশ জাতীয় ফসল (যেমন- পাট, তুলা, মেস্তা ইত্যাদি) আমাদের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব ফসল থেকে প্রাপ্ত আঁশ বস্ত্রশিল্প, রশি, বস্তা, কার্পেট এবং বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। পাটকে 'সোনালী আঁশ' বলা হয় যা বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। এছাড়া আঁশ জাতীয় ফসল পরিবেশবান্ধব হওয়ায় পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'গরিবের আপেল', ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এবং 'স্বরূপকাঠি' জাতের ফলটি হলো পেয়ারা।
পেয়ারার বংশবিস্তার প্রধানত দুইভাবে সম্পন্ন করা হয়:
১. যৌন পদ্ধতি বা বীজের মাধ্যমে: পাকা ও সুস্থ পেয়ারা থেকে বীজ সংগ্রহ করে বীজতলায় বপন করে চারা তৈরি করা হয়। তবে এ পদ্ধতিতে মাতৃগাছের গুণাগুণ হুবহু বজায় থাকে না এবং ফল ধরতে দীর্ঘ সময় লাগে।২. অযৌন বা অঙ্গজ পদ্ধতি: মাতৃগাছের গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং দ্রুত ফলন পেতে অঙ্গজ বংশবিস্তার অধিক জনপ্রিয়। পেয়ারায় প্রধানত গুটি কলম (Air layering), জোড় কলম (Grafting), ও চোখ কলম (Budding) পদ্ধতির মাধ্যমে বংশবিস্তার করা হয়। এর মধ্যে গুটি কলম সবচেয়ে প্রচলিত। বর্ষাকালে সুস্থ-সবল ও পেন্সিলের মতো মোটা ডাল নির্বাচন করে বাকল তুলে নিয়ে সেখানে মাটি ও গোবরের মিশ্রণ দিয়ে পলিথিন ও সুতলি দিয়ে বেঁধে দিলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শিকড় গজায়। এরপর ডালটি কেটে আলাদা করে রোপণ করা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষোক্ত উক্তিটি হলো— "বাংলাদেশের সর্বত্রই এর চাষ হয় এবং দিন দিন এর আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।" উক্তিটি পেয়ারা চাষের উপযোগিতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যথার্থ।
পেয়ারা একটি পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও অত্যন্ত সহনশীল ফলগাছ। বাংলাদেশের প্রায় সব ধরনের মাটিতে এবং প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে পেয়ারা সফলভাবে জন্মায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে থাই পেয়ারা, ইপসা পেয়ারা, কাজী পেয়ারা এবং স্বরূপকাঠি জাতের উন্নত জাতগুলো উদ্ভাবিত হওয়ায় সারা বছরই প্রচুর ফলন পাওয়া যাচ্ছে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে পেয়ারা চাষ অত্যন্ত লাভজনক। স্বল্প জমিতে এবং অল্প পুঁজিতে পেয়ারার বাগান করে কৃষকরা দ্রুত আর্থিক সাফল্য পাচ্ছেন। এটি ভিটামিন-সি এর একটি চমৎকার প্রাকৃতিক উৎস হওয়ায় জনস্বাস্থ্যের সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাজারে এর চাহিদাও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষকদের দারিদ্র্য বিমোচনে পেয়ারা চাষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ফলে আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশে দিন দিন পেয়ারার আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং, উদ্দীপকের উক্তিটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও