পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'B' নামক রাষ্ট্রে স্বাধীনতার দুই যুগ পর প্রথম একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে বিজয়ী হয়। কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকার বিজয়ী দলকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় বিজয়ী দলের নেতা 'C' নামক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দেন।
- ক)(1)
১৯৭২ সালের সংবিধানে বাংলাদেশে কোন পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন করা হয়?
- খ)(2)
অপারেশন সার্চলাইট কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে? উক্ত নির্বাচনের ফলাফল বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচন বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করে- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির (বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত) সরকার প্রবর্তন করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ সারা দেশে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর যে বর্বরোচিত ও নৃশংস গণহত্যা চালায়, তাকে সামরিক পরিভাষায় 'অপারেশন সার্চলাইট' বলা হয়।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় সত্ত্বেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বাঙালি জাতিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এই উদ্দেশ্যে পরিচালিত সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে চিরতরে দমন করা, ছাত্র-জনতা, পুলিশ ও ইপিআর সদস্যদের হত্যা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার বা হত্যা করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচনের সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২৩ বছর (প্রায় দুই যুগ) পর ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে সেখানে প্রথম প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে জাতীয় পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত নির্বাচনের ফলাফল:
১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অভূতপূর্ব বিজয় অর্জন করে। জাতীয় পরিষদের ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৬৯টি আসন (মহিলা আসনসহ)। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসনে (১৬০টি সাধারণ ও ৭টি সংরক্ষিত মহিলা আসন) জয়লাভ করে একক ও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৮৮টি আসন (৮১টি সাধারণ ও পরবর্তীতে ৭টি মহিলা আসন) লাভ করে। পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ৩১০টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। এই অভাবনীয় ফলাফলের মাধ্যমে পাকিস্তানের শাসনক্ষমতায় বাঙালিদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন মূলত বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছিল—উক্তিটি যথার্থ।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে বাঙালি জনগণের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও ৬ দফার প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রতিফলিত হয়। নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় যে, পাকিস্তানের দুই অংশের আদর্শিক ও রাজনৈতিক পথ সম্পূর্ণ ভিন্ন। জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠনের বৈধ অধিকারী, তখন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানি কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। তারা ১ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করলে পূর্ববাংলায় তীব্র গণবিক্ষোভ শুরু হয়।
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর এই বিশ্বাসঘাতকতা বাঙালিদের বুঝতে সাহায্য করে যে, একটি অবিভক্ত পাকিস্তানের অধীনে বাঙালিদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব নয়। ফলে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু কার্যত স্বাধীনতার ডাক দেন। পরবর্তীতে ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামক নারকীয় গণহত্যা শুরু করলে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
অতএব, ১৯৭০ সালের নির্বাচন বাঙালিদের যেমন রাজনৈতিক ঐক্য ও বৈধতা এনে দিয়েছিল, তেমনি পাকিস্তানি জান্তার ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি ও বর্বর আক্রমণ বাঙালিদের মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে বাধ্য করে। ফলে বলা যায়, উদ্দীপকে প্রতিফলিত এই নির্বাচন বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে বিশেষভাবে ত্বরান্বিত করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও