‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. করিম একটি নিটওয়্যার ফ্যাক্টরির মালিক। ২০১৫ সালের ১লা জানুয়ারিতে তার ফ্যাক্টরিতে মূলধনের পরিমাণ ছিল ১,০০,০০০ টাকা। প্রতি বছর ১০% হারে মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। সরকার মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য শিক্ষার হার বাড়ানো, সঞ্চয়ের ওপর কর হার হ্রাস, কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণদান ও অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

  1. ক)

    স্থায়ী মূলধন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মূলধন কেন একটি নিষ্ক্রিয় উপাদান?

    (2)
  3. গ)

    মূলধনের ক্ষয়ক্ষতিজনিত ব্যয় ৩,০০০ টাকা হলে ২০১৭ সালের ১লা জানুয়ারিতে তাঁর ফ্যাক্টরির নিট মূলধন বৃদ্ধির পরিমাণ নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ মূলধন বৃদ্ধির জন্য কীরূপ ভূমিকা রাখবে বলে তুমি মনে করো?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব মূলধন সামগ্রী উৎপাদনের ক্ষেত্রে বারবার বা দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহার করা যায়, তাকে স্থায়ী মূলধন বলে (যেমন- জমি, দালানকোঠা, ভারী যন্ত্রপাতি ইত্যাদি)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মূলধন উৎপাদনের একটি নিষ্ক্রিয় উপাদান, কারণ এটি নিজে নিজে কোনো কিছু উৎপাদন করতে পারে না।

    মানুষের শ্রম এবং উদ্যোগ ছাড়া মূলধন অকেজো বা জড় পদার্থের মতো পড়ে থাকে। কেবল মানবশ্রম এবং উদ্যোক্তার সিদ্ধান্তের স্পর্শেই মূলধন সক্রিয় হয়ে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে পারে। শ্রমের অনুপস্থিতিতে যন্ত্রপাতি বা কাঁচামাল কোনো নতুন পণ্য তৈরি করতে অক্ষম বলেই মূলধনকে উৎপাদনের একটি নিষ্ক্রিয় উপাদান বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক অনুযায়ী,
    ২০১৫ সালের ১লা জানুয়ারিতে মূলধনের পরিমাণ = ১,০০,০০০ টাকা।
    প্রতি বছর মূলধন বৃদ্ধির হার = ১০%

    ২০১৫ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ১লা জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কাল = ২ বছর।

    ১ম বছর শেষে (২০১৬ সালের ১লা জানুয়ারি) মূলধনের পরিমাণ:
    = ১,০০,০০০ + (১,০০,০০০ × ১০%)
    = ১,০০,০০০ + ১০,০০০ = ১,১০,০০০ টাকা।

    ২য় বছর শেষে (২০১৭ সালের ১লা জানুয়ারি) মোট মূলধনের পরিমাণ:
    = ১,১০,০০০ + (১,১০,০০০ × ১০%)
    = ১,১০,০০০ + ১১,০০০ = ১,২১,০০০ টাকা।

    অতএব, দুই বছরে মোট মূলধন বৃদ্ধি পায় = (১,২১,০০০ - ১,০০,০০০) = ২১,০০০ টাকা।

    উদ্দীপক অনুযায়ী, মূলধনের ক্ষয়ক্ষতিজনিত ব্যয় (Depreciation Cost) = ৩,০০০ টাকা।

    আমরা জানি,
    নিট মূলধন বৃদ্ধি = মোট মূলধন বৃদ্ধি - ক্ষয়ক্ষতিজনিত ব্যয়
    = ২১,০০০ - ৩,০০০
    = ১৮,০০০ টাকা।

    সুতরাং, ২০১৭ সালের ১লা জানুয়ারিতে মি. করিমের ফ্যাক্টরির নিট মূলধন বৃদ্ধির পরিমাণ ১৮,০০০ টাকা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ মূলধন গঠন ও বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এবং কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    মূলধন বৃদ্ধি মূলত নির্ভর করে সঞ্চয় করার ইচ্ছা, সঞ্চয় করার সামর্থ্য এবং সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তরের সুযোগ-সুবিধার ওপর। উদ্দীপকে সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখে তা নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. শিক্ষার হার বাড়ানো: শিক্ষার প্রসার মানুষের মধ্যে দূরদর্শিতা, ভবিষ্যৎ চিন্তা ও সঞ্চয়ী মনোভাব গড়ে তোলে। এর ফলে মানুষের সঞ্চয় করার ইচ্ছা বৃদ্ধি পায়, যা সার্বিক মূলধন গঠনে গতি আনে।

    ২. সঞ্চয়ের ওপর কর হার হ্রাস: সঞ্চিত অর্থ বা তার সুদের ওপর করের হার হ্রাস পেলে জনগণ তাদের আয়ের উদ্বৃত্ত অংশ সঞ্চয় করতে বেশি উৎসাহিত হয়। এটি সঞ্চয়ের সামর্থ্য ও আগ্রহ দুটোই বৃদ্ধি করে।

    ৩. কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণদান: বিনিয়োগকারীদের জন্য সস্তা ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুবিধা থাকলে মূলধনী যন্ত্রপাতি ক্রয় ও নতুন শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগের উৎসাহ বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। এর মাধ্যমে সঞ্চিত অর্থ দ্রুত মূলধনে রূপান্তরিত হয়।

    ৪. অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা: রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থা ও নিরাপত্তা তৈরি করে। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকলে দেশি-বিদেশি উভয় প্রকার বিনিয়োগ এবং মূলধন গঠন নির্বিঘ্ন থাকে।

    পরিশেষে বলা যায়, সরকারের এই পদক্ষেপগুলো মানুষের সঞ্চয় ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূলধন বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন