সাহিত্য পাঠ • পদ্মা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
"দেশবন্ধু আসিয়াছে ক্ষুরধার পদ্মায় এবার, কালীদহে ক্লান্ত গাঙশালিখের ভিড়ে যেন আসিয়াছে ঝড়, আসিয়াছে চণ্ডীদাস- রামপ্রসাদের শ্যামা সাথে সাথে তার; শঙ্খমালা, চন্দ্রমালা; মৃত শত কিশোরীর কঙ্কণের স্বর।
- ক)(1)
'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতার যেকোনো দুইটি গাছের নাম লেখো।
- খ)(2)
'বিশালাক্ষী দিয়েছিল বর,' কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'দেশবন্ধু' শব্দটি দ্বারা 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতার কবির মনোভাবের কোন দিকটির প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে? বুঝিয়ে লেখো।
- ঘ)(4)
'রূপকথা ও চিত্রকল্পের' ব্যবহারে উদ্দীপকের সাথে 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতার সাদৃশ্য বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতায় উল্লিখিত যেকোনো দুইটি গাছ হলো কাঁঠাল ও অশ্বত্থ (বা জাম)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বিশালাক্ষী দিয়েছিল বর' চরণটি দ্বারা বাংলার অপরূপ রূপ ও সমৃদ্ধির ওপর পৌরাণিক বা লোকায়ত দেবীর আশীর্বাদের রূপক আবহকে বোঝানো হয়েছে।
কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার নদী, গাছপালা ও প্রকৃতির অনুপম সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে মনে করেছেন যে, এই দেশ কোনো সাধারণ ভূখণ্ড নয়। যেন করুণাময়ী দেবী বিশালাক্ষীর কৃপা ও আশীর্বাদে এই শ্যামল রূপসী বাংলা রূপ-রসে এমন অনন্ত মহিমায় গড়ে উঠেছে। বাংলার রূপ-সৌন্দর্য ও কল্যাণের পেছনে এই দেবীর আশীর্বাদ রয়েছে বলেই কবি কল্পনা করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'দেশবন্ধু' শব্দটি দ্বারা 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতার কবির গভীর স্বদেশপ্রেম ও বাংলার চিরন্তন ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসার দিকটিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার শান্ত, শ্যামল ও রূপময় প্রকৃতির বন্দনা করেছেন। রূপসী বাংলার সাধারণ অনুষঙ্গ—গাছগাছালি, পলিমাটি, নদী ইত্যাদির ভেতর দিয়ে কবি নিজের দেশের প্রতি নিবিড় আত্মীয়তা ও একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
উদ্দীপকে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের নাম স্মরণের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেম এবং বাংলার নদীমাতৃক রূপ ও ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ ঘটেছে। কবি জীবনানন্দ দাশ যেভাবে বাংলার রূপের মধ্যে সমগ্র বাংলাকে পরম মমতায় আপন করে নিয়েছেন, উদ্দীপকের 'দেশবন্ধু' আহ্বানও ঠিক তেমনি নিজের জন্মভূমির মাটির প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ইঙ্গিত বহন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'রূপকথা ও চিত্রকল্পের' ব্যবহারের দিক থেকে উদ্দীপকের চরণগুলো জীবনানন্দ দাশের 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতার ভাব ও শৈলীর সাথে চমৎকার সাদৃশ্যপূর্ণ।
'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতায় জীবনানন্দ দাশ বাংলার নিসর্গকে ফুটিয়ে তুলতে বাংলার লোকপুরাণ ও রূপকথার অনুষঙ্গ ব্যবহার করেছেন। যেমন—মধুসূদন, বিশালাক্ষী, শঙ্খমালা, চম্পা, ইত্যাদি চরিত্র ও লোককাহিনির চিত্রকল্পের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলার অতীত ও বর্তমানের এক মায়াময় আবহ রচনা করেছেন। সেখানে রূপকথার মাধুর্য ও দৃশ্যমান চিত্রকল্প পাশাপাশি স্থান পেয়েছে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, ক্ষুরধার পদ্মা ও কালীদহের মতো ভৌগোলিক-পৌরাণিক চিত্রকল্পের পাশাপাশি চণ্ডীদাস, রামপ্রসাদ, শ্যামা এবং রূপকথার চরিত্র শঙ্খমালা, চন্দ্রমালা ও মৃত কিশোরীর কঙ্কণের স্বরের উল্লেখ রয়েছে। রূপকথা ও লোকজ ঐতিহ্যের এই সমাবেশ সরাসরি জীবনানন্দ দাশের কাব্যরীতির কথাই মনে করিয়ে দেয়।
উভয় স্থানেই দৃশ্যমান বাস্তবতার সাথে ঐতিহ্যবাহী রূপকথা, পুরাণ ও লোকস্মৃতির মেলবন্ধনে অপার্থিব চিত্রকল্প নির্মাণ করা হয়েছে। সুতরাং, রূপকথা ও চিত্রকল্পের সার্থক প্রয়োগের দিক দিয়ে উদ্দীপকটি 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতার সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও