গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • উত্তরা কলেজ, ঢাকা • উত্তরা কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

মারইয়াম তার মেয়ে সৌমির জন্য নতুন কাপড় কিনে সৌমির দেহের মাপ অনুযায়ী কাগজে নকশা এঁকে, কাপড় কেটে, সেলাই করে একটি সালোয়ার ও কামিজ তৈরি করলেন। পোশাক দুইটিই সুন্দর ফিটিং হলো। কিন্তু পরবর্তীতে ধোয়ার পর কামিজটি টাইট হলো এবং সালোয়ার লম্বায় খাটো হয়ে গেল। মারইয়াম এ বিষয়টি সেলাই কাজে দক্ষ একজন প্রতিবেশীকে বললেন। তিনি বললেন, “পোশাক তৈরির বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে, যা সঠিকভাবে অনুসরণ করলে এই জটিলতা এড়ানো সম্ভব”।

  1. ক)

    ড্রেপিং কী?

    (1)
  2. খ)

    সেলাই মেশিনের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন-ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মারইয়াম যে পদ্ধতি অনুসরণ করে নকশা তৈরি ও সেলাই করেছেন সেই পদ্ধতিটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিবেশীর উক্তিটির যথার্থতা ব্যাখ্যা করে পোশাক তৈরির বিভিন্ন পর্যায় বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষের দেহ বা ডামির ওপর সরাসরি কাপড় জড়িয়ে পিন দিয়ে আটকে নকশা বা প্যাটার্ন তৈরির পদ্ধতিকে ড্রেপিং বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সেলাই মেশিন একটি যান্ত্রিক সরঞ্জাম, যা নিয়মিত ও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করলে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। মেশিনে ধুলাবালি ও সুতার আঁশ জমে জ্যাম হতে পারে এবং অংশগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার করা, যথাস্থানে তেল দেওয়া এবং যত্ন সহকারে ব্যবহার করলে মেশিন দীর্ঘদিন সচল থাকে এবং সেলাই সুন্দর ও নিখুঁত হয়। তাই সেলাই মেশিনের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মারইয়াম 'ড্রাফটিং' পদ্ধতি অনুসরণ করে নকশা তৈরি ও পোশাক সেলাই করেছেন।

    ড্রাফটিং হলো শরীরের নিখুঁত মাপ নিয়ে স্কেল, ফিতা, পেনসিল ইত্যাদি ব্যবহার করে ব্রাউন পেপার বা সাধারণ কাগজের ওপর অঙ্কন করে প্যাটার্ন তৈরি করার পদ্ধতি। মারইয়াম তার মেয়ে সৌমির শরীরের সঠিক মাপ গ্রহণ করেন এবং সেই মাপ অনুযায়ী কাগজে নকশা (প্যাটার্ন) অঙ্কন করেন। এরপর সেই কাগজের নকশা কাপড়ের ওপর বসিয়ে মাপমতো কাপড় কেটে নেন এবং তা সেলাই করে সালোয়ার-কামিজ তৈরি করেন। এই পদ্ধতিতে পোশাক তৈরি করলে পোশাকের সঠিক ফিটিং নিশ্চিত হয় এবং কাপড়ের অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রতিবেশীর উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ। পোশাক তৈরির নির্ধারিত পর্যায়গুলো সঠিকভাবে অনুসরণ না করায় মারইয়ামের তৈরি পোশাক ধোয়ার পর সংকুচিত (shrink) হয়ে টাইট ও খাটো হয়ে গেছে।

    পোশাক তৈরির পর্যায়গুলো হলো:
    ১. কাপড় নির্বাচন ও প্রস্তুতি: সুতি বা নির্দিষ্ট কিছু কাপড় তৈরির আগেই পানিতে ভিজিয়ে ও শুকিয়ে 'শ্রিঙ্ক' বা ক্ষরণমুক্ত করে নিতে হয়। মারইয়াম নতুন কাপড় না ভিজিয়েই সেলাই করেছিলেন, ফলে ধোয়ার পর তা কুঁচকে ছোট হয়ে যায়।
    ২. সঠিক মাপ গ্রহণ: ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন অংশের সঠিক ও নিখুঁত মাপ নেওয়া।
    ৩. প্যাটার্ন বা নকশা তৈরি: মাপ অনুযায়ী ড্রাফটিং বা ড্রেপিং পদ্ধতিতে প্যাটার্ন তৈরি করা।
    ৪. লে-আউট ও কাটিং: কাপড়ের ওপর প্যাটার্ন নিখুঁতভাবে বসিয়ে সিম অ্যালাউন্স (অতিরিক্ত সেলাই মার্জিন) রেখে কাটা।
    ৫. সেলাই ও ফিটিং: সঠিক নির্দেশনায় সেলাই করা এবং ট্রায়াল দিয়ে ফিটিং পরীক্ষা করা।
    ৬. ফিনিশিং: ইস্ত্রি করা, বোতাম বা হুক লাগানো।

    মারইয়াম যদি কাপড় কাটার পূর্বে কাপড় ভিজিয়ে ধুয়ে ইস্ত্রি করে নিতেন, তবে ধোয়ার পর পোশাক টাইট ও খাটো হওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হতো না। সুতরাং, পোশাক তৈরির প্রতিটি পর্যায় অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন