‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

সম্প্রতি রসুলগঞ্জ গ্রামে পল্লি সঞ্চয় ব্যাংকের একটি শাখা স্থাপিত হয়েছে। গ্রামটি একেবারে ছোট নয়। গ্রামের অধিকাংশ লোক প্রান্তিক চাষি ও মৎস্যজীবী। উক্ত ব্যাংকের তরুণ কর্মীরা গ্রামবাসীদের তাদের ভবিষ্যৎ দূরদৃষ্টি, সঞ্চয়ের উপকারিতা, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, বেকারত্ব দূরের উপায়, সম্পদের সদ্ব্যবহার প্রভৃতি সম্পর্কে বোঝাতে লাগলেন। কিছু দিনের মধ্যে দেখা গেল উক্ত গ্রামের পুরুষ-মহিলারা তাদের স্বল্প সঞ্চয় ব্যাংকে জমাতে শুরু করেছেন। অল্প দিনের মধ্যে উক্ত ব্যাংকে ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়ে যায়।

  1. ক)

    নিমজ্জমান মূলধন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ‘মূলধন সঞ্চয় দ্বারা সৃষ্টি'— কথাটি বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে মূলধন গঠনের সমস্যা উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কী কী বিষয়ের উপর ভিত্তি করে মূলধন গঠিত হয় তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব মূলধন সামগ্রী কেবল একটি নির্দিষ্ট উৎপাদন কাজে একবারই ব্যবহার করা যায় এবং অন্য কোনো উদ্দেশ্যে রূপান্তর বা ব্যবহার করা যায় না, তাকে নিমজ্জমান মূলধন (Sunk Capital) বলে (যেমন: রেললাইন)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মূলধন আপনা-আপনি সৃষ্টি হয় না, বরং মানুষের বর্তমান ভোগ স্থগিত রেখে সঞ্চয় করার মাধ্যমেই মূলধনের সৃষ্টি হয়।

    মানুষ তার আয়ের সম্পূর্ণ অংশ ভোগে ব্যয় না করে ভবিষ্যতের জন্য যে উদ্বৃত্ত অংশ জমা রাখে, তা-ই সঞ্চয়। এই সঞ্চিত অর্থ যখন পুনরায় উৎপাদনমূলক কাজে বা বিনিয়োগে খাটানো হয়, তখনই তা মূলধনে পরিণত হয়। সঞ্চয় না থাকলে বিনিয়োগ অসম্ভব, আর বিনিয়োগ ছাড়া নতুন যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল বা মূলধনী সামগ্রী তৈরি হতে পারে না। তাই বলা হয়, ‘মূলধন সঞ্চয় দ্বারা সৃষ্টি’।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে মূলধন গঠনের প্রধান সমস্যাগুলো উদ্দীপকের রসুলগঞ্জ গ্রামের প্রাথমিক অবস্থার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রসুলগঞ্জ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ প্রান্তিক চাষি ও মৎস্যজীবী। তারা নিম্ন আয়ের মানুষ হওয়ায় এবং তাদের মধ্যে দূরদর্শিতা ও সঞ্চয়ের সুবিধার জ্ঞানের অভাব থাকায় তারা সঞ্চয় করতে পারত না। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে মূলধন গঠনের প্রধান সমস্যাগুলো হলো:
    ১. স্বল্প মাথাপিছু আয়: জনগণের সিংহভাগ প্রান্তিক পর্যায়ের হওয়ায় তাদের আয় কম, ফলে ভোগ ব্যয় মিটিয়ে সঞ্চয়ের সুযোগ থাকে না।
    ২. সঞ্চয়ের মানসিকতা ও দূরদর্শিতার অভাব: উদ্দীপকে যেমন ব্যাংকের কর্মীরা বোঝানোর আগে গ্রামবাসীদের দূরদর্শিতার অভাব ছিল, তেমনি উন্নয়নশীল দেশে সঞ্চয় সচেতনতার ঘাটতি থাকে।
    ৩. আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অপ্রতুলতা: ব্যাংকের শাখা প্রতিষ্ঠার আগে গ্রামবাসীদের ক্ষুদ্র সঞ্চয় জমা করার কোনো মাধ্যম ছিল না। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অভাব উন্নয়নশীল দেশে মূলধন সংগ্রহের একটি বড় অন্তরায়।

    সুতরাং, নিম্ন আয়, সঞ্চয়হীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগের অভাবই উদ্দীপকের আলোকে মূলধন গঠনের মূল সমস্যা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মূলধন গঠন মূলত তিনটি প্রধান পর্যায়ের ওপর ভিত্তি করে সম্পন্ন হয়: সঞ্চয়ের সামর্থ্য, সঞ্চয়ের ইচ্ছা এবং সঞ্চয় সংগ্রহ করে তা বিনিয়োগে রূপান্তর। উদ্দীপকে এই উপাদানগুলোর স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়:

    ১. সঞ্চয়ের ইচ্ছা ও দূরদর্শিতা: মূলধন গঠনের প্রথম ভিত্তি হলো মানুষের সঞ্চয় করার ইচ্ছা। উদ্দীপকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মীরা গ্রামবাসীদের ভবিষ্যৎ দূরদৃষ্টি, সঞ্চয়ের উপকারিতা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন সম্পর্কে সচেতন করার পর তাদের সঞ্চয়ের ইচ্ছা জাগ্রত হয়।
    ২. সঞ্চয়ের সামর্থ্য ও ক্ষুদ্র সঞ্চয়: আয়ের উদ্বৃত্ত অংশ সঞ্চয়ের সামর্থ্য নির্দেশ করে। প্রান্তিক কৃষক ও মৎস্যজীবীদের আয় সীমিত হলেও সচেতনতা বৃদ্ধির পর তারা তাদের অপচয় কমিয়ে ‘স্বল্প সঞ্চয়’ করতে সক্ষম হয়।
    ৩. আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি ও সঞ্চয় সংগ্রহ: শুধু সঞ্চয় করলেই মূলধন হয় না, তা একত্রিত করা প্রয়োজন। গ্রামে ব্যাংকের শাখা স্থাপিত হওয়ায় অলস ক্ষুদ্র সঞ্চয়গুলো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একত্রিত বা সংগৃহীত হয়।
    ৪. সঞ্চয়ের বিনিয়োগ বা মূলধনে রূপান্তর: উদ্দীপকের শেষ পর্যায়ে ব্যাংকটি ‘ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি’ শুরু করে। এর মাধ্যমে সংগৃহীত সঞ্চয় প্রান্তিক চাষি ও মৎস্যজীবীদের উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে ঋণ হিসেবে বিনিয়োগ হয়, যা প্রকৃত মূলধন গঠন করে।

    অতএব, উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়—সঞ্চয় সচেতনতা তৈরি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অলস সঞ্চয় একত্রীকরণ এবং তা ঋণ হিসেবে বিনিয়োগে রূপান্তরের ওপর ভিত্তি করেই মূলধন গঠিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন