পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' রাষ্ট্রের শাসকদের জুলুম, শোষণ ও নির্যাতনের প্রতিবাদে জনগণ প্রথম থেকে সোচ্চার হয়ে ওঠে। শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রটির একটি অঞ্চলের জনগণের ভাষা ও সংস্কৃতির উপরেও আঘাতহানে। ফলে জনগণ আরও বেশি আন্দোলনমুখর হয়। দীর্ঘ দুই যুগ পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণ তাদের পছন্দের দলকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তর না করে শাসকগোষ্ঠী নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করলে জনগণের প্রিয় নেতা স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ক)(1)
পলাশীর যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
- খ)(2)
৩ জুন পরিকল্পনা কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচনের সাথে তোমার পঠিত কোন নির্বাচনের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচন বস্তুতপক্ষে উক্ত 'ক' রাষ্ট্রটির রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটায় - বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪৭ সালের ৩ জুন ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত বিভাগের জন্য যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, তাকে '৩ জুন পরিকল্পনা' বা 'মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা' বলা হয়। এ পরিকল্পনার মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র সৃষ্টির রূপরেখা নির্ধারিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচনের সাথে আমার পঠিত ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের মিল রয়েছে।
পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ভাষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বৈষম্য ও দমন-পীড়ন চালায়। দীর্ঘ তেইশ বছর পর ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্দীপকেও দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠীর জুলুম, নির্যাতন ও ভাষার ওপর আঘাতের পর দীর্ঘ দুই যুগ পর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় যাতে জনগণ তাদের পছন্দের দলকে নিরঙ্কুশ বিজয়ী করে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও বাঙালি জনগণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে জয়ী করে। সুতরাং, উদ্দীপকের নির্বাচনটি মূলত ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন মূলত 'ক' রাষ্ট্র হিসেবে রূপায়িত পাকিস্তানের রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটায়—উক্তিটি যথার্থ ও ঐতিহাসিক সত্য।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১৬৭টি আসন) অর্জন করে। এ বিজয়ের ফলে বাঙালি জনগণের শাসনভার গ্রহণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক জান্তা জেনারেল ইয়াহিয়া খান ও পশ্চিম পাকিস্তানের সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতৃত্ব (যেমন জুলফিকার আলী ভুট্টো) বাঙালির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করলে পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। এরপর ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরীহ বাঙালির ওপর বর্বরোচিত 'অপারেশন সার্চলাইট' চালিয়ে গণহত্যা শুরু করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয় এবং অখণ্ড পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিলুপ্তি ও মৃত্যু ঘটে। তাই বলা যায়, ১৯৭০-এর নির্বাচন এবং তার গণরায় অস্বীকার করার কারণেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিভাজন ও পতন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও