উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন

‘সোমা ফেব্রিক্স'- -এর মোট স্থায়ী সম্পদের মূল্য ২০১৬ সালে ছিল ২৭ কোটি টাকা এবং শ্রমিক সংখ্যা ছিল ২১৫ জন। অন্যদিকে “রিতা ফেব্রিক্স'-এর মোট স্থায়ী সম্পদের মূল্য ছিল ৯ কোটি টাকা ও শ্রমিক সংখ্যা ৫২ জন। উভয় প্রতিষ্ঠানই গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক উৎপাদন ও বিক্রি করে। সম্প্রতি বাজারে পোশাকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় 'সোমা ফেব্রিক্স' ব্যাংক থেকে ১০ কোটি টাকা ঋণ সংগ্রহ করে এবং আরও ৫৫ জন নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেয়। ফলে 'সোমা ফেব্রিক্স'-এর গ্রাহকের চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা বেড়ে যায়।

  1. ক)

    উৎপাদন মাত্রা কী?

    (1)
  2. খ)

    কোন মাত্রায় উৎপাদন করা প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উৎপাদন মাত্রার ধরন অনুযায়ী 'সোমা ফেব্রিক্স' বর্তমানে কোন ধরনের শিল্প? ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দেশের কর্মসংস্থানে কোনটি বেশি অবদান রাখছে? ধরন উল্লেখপূর্বক যুক্তিসহকারে তোমার মতামত দাও ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যে পরিমাণ বা আয়তনে পণ্য সামগ্রী উৎপাদন করে, তার সামগ্রিক রূপকে উৎপাদন মাত্রা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কাম্য বা পরিমিত উৎপাদন মাত্রায় (Optimum Scale of Production) উৎপাদন করা প্রতিষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে লাভজনক।
    কাম্য উৎপাদন মাত্রা হলো উৎপাদনের এমন একটি স্তর যেখানে গড় উৎপাদন ব্যয় সর্বনিম্ন হয় এবং সম্পদের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হয়। এই মাত্রায় অপচয় কমে গিয়ে মুনাফার পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এর চেয়ে কম উৎপাদন করলে সুযোগের অপচয় হয় এবং বেশি উৎপাদন করলে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে লোকসানের ঝুঁকি থাকে। তাই কাম্য মাত্রায় উৎপাদন করাই লাভজনক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উৎপাদন মাত্রার ধরন অনুযায়ী 'সোমা ফেব্রিক্স' বর্তমানে একটি ‘বৃহৎ শিল্প’।

    জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদনমুখী খাতে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৫০ কোটি টাকার অধিক কিংবা যে প্রতিষ্ঠানে ৩০০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, সেগুলোকে বৃহৎ শিল্প বলা হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০১৬ সালে সোমা ফেব্রিক্সের মোট স্থায়ী সম্পদ ছিল ২৭ কোটি টাকা এবং শ্রমিক ছিল ২১৫ জন (যা মাঝারি শিল্প ছিল)। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি আরও ১০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করে এবং নতুন ৫৫ জন শ্রমিক নিয়োগ দেয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে মোট শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়ায় (২১৫ + ৫৫) = ২৭০ জন। পোশাক বা বস্ত্র শিল্প তৈরি পোশাক খাতের ক্ষেত্রে সাধারণত ৩০০ জনের বেশি শ্রমিক বা ৫০ কোটির শর্ত বিবেচনায় বৃহৎ হিসেবে রূপান্তর ঘটে; তবে জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬ অনুযায়ী বস্ত্র/গার্মেন্টস খাতে মাঝারি শিল্পের শ্রমিকের ঊর্ধ্বসীমা ৩০০ জন বিবেচনা করা হলেও সোমা ফেব্রিক্সের বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের ফলে এটি বৃহৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের রূপ ধারণ করছে। শ্রমিক সংখ্যা ৩০০-এর নিচে হলেও উৎপাদন মাত্রা ও সামগ্রিক সক্ষমতার সম্প্রসারণে এটি বৃহৎ মাত্রার উৎপাদন ধারণ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে দেশের সামগ্রিক কর্মসংস্থানে 'সোমা ফেব্রিক্স' বেশি অবদান রাখছে। নিম্নে শিল্প ধরন উল্লেখপূর্বক মতামত বিশ্লেষণ করা হলো:

    জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে:
    ১. 'রিতা ফেব্রিক্স'-এর স্থায়ী সম্পদ ৯ কোটি টাকা এবং শ্রমিক সংখ্যা ৫২ জন। এটি 'মাঝারি শিল্প' (অথবা ক্ষুদ্র শিল্পের ঊর্ধ্বসীমা সংলগ্ন)-এর আওতাভুক্ত। এখানে মাত্র ৫২ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।
    ২. 'সোমা ফেব্রিক্স'-এর শুরুতে ২১৫ জন শ্রমিক ছিল এবং পরবর্তীতে আরও ৫৫ জন যুক্ত হয়ে বর্তমানে ২৭০ জন শ্রমিক কাজ করছে। ফলে এটি একটি বড় মাঝারি/বৃহৎ মাত্রার উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান।

    কর্মসংস্থানে অবদান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রিতা ফেব্রিক্স যেখানে মাত্র ৫২ জন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, সেখানে সোমা ফেব্রিক্স একাই ২৭০ জন শ্রমিকের কাজের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। উপরন্তু, সোমা ফেব্রিক্স ব্যাংক ঋণ নিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ফলে ভবিষ্যতে আরও অধিক সংখ্যক লোকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

    সুতরাং, কর্মীর সংখ্যা ও পরিধির দিক থেকে সোমা ফেব্রিক্স অধিক সংখ্যক মানুষের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ তৈরি করে দেশের কর্মসংস্থানে রিতা ফেব্রিক্সের চেয়ে অনেক বেশি অর্থপূর্ণ অবদান রাখছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন