যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    সংকর বিভাগ কী?

    (1)
  2. খ)

    বিশিষ্ট পদের যৌক্তিক বিভাগ সম্ভব নয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন ধরনের বিভাজন প্রক্রিয়ার প্রতিফলন ঘটেছে?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের বিভাজন প্রক্রিয়াটির সুবিধা ও অসুবিধা পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একই সময়ে একাধিক মূলসূত্রের ওপর ভিত্তি করে কোনো জাতিকে উপজাতিতে বিভক্ত করলে যে অনুপপত্তি ঘটে তাকে সংকর বিভাগ (Cross Division) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌক্তিক বিভাগে কোনো জাতি বা শ্রেণিকে তার অন্তর্গত ক্ষুদ্রতর উপজাতি বা শ্রেণিসমূহে বিভক্ত করা হয়। কিন্তু বিশিষ্ট পদ বা গুণগতভাবে কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশক পদের ক্ষেত্রে কোনো উপজাতি থাকে না; এটি কেবল একক ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে। যৌক্তিক বিভাগ কোনো একক ব্যক্তি বা বস্তুকে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা গুণে ভাগ করা নয় (তা যথাক্রমে অঙ্গগত বা গুণগত বিভাগ)। তাই বিশিষ্ট পদের ক্ষেত্রে যৌক্তিক বিভাগ সম্ভব নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে যৌক্তিক বিভাগের অন্যতম একটি বিশেষ রূপ 'দ্বিকোটিক বিভাগ' (Dichotomy)-এর প্রতিফলন ঘটেছে।

    যৌক্তিক নিয়মানুসারে কোনো শ্রেণিকে একটি নির্দিষ্ট গুণের উপস্থিতি এবং সেই গুণের অনুপস্থিতির ভিত্তিতে পরস্পর বিরোধী দুটি উপশ্রেণিতে ভাগ করার প্রক্রিয়াকে দ্বিকোটিক বিভাগ বলে।
    উদ্দীপকের ছকে দেখা যাচ্ছে, 'জীব' জাতিকে প্রথমে 'মানুষ' এবং 'অন্যান্য প্রাণী' (অ-মানুষ অর্থে) এই দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে 'মানুষ' উপজাতিকে সভ্যতার গুণের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ভিত্তিতে 'সভ্য মানুষ' এবং 'অসভ্য মানুষ'—এই দুটি পরস্পর বিরোধী অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। যেহেতু প্রতিটি স্তরে একটি মূল ধারণাকে দুটি পরস্পর বিরোধী উপজাতিতে বিভক্ত করা হয়েছে, তাই এটি স্পষ্টতই দ্বিকোটিক বিভাগের রূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রতিফলিত বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো 'দ্বিকোটিক বিভাগ' (Dichotomy)। যুক্তিবিদ্যায় এর সুস্পষ্ট কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে:

    সুবিধাসমূহ:
    ১. সহজ ও সুনির্দিষ্ট নিয়ম: দ্বিকোটিক বিভাগ চিন্তার মৌলিক নিয়মসমূহের (যেমন: বিরোধের নিয়ম ও মধ্যম রহিত নিয়ম) ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে একটি নির্দিষ্ট গুণের থাকা এবং না থাকার ভিত্তিতে দুটি ভাগে ভাগ করা হয় বিধায় কোনো বিভাগ বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকে না।
    ২. অনুপপত্তির ঝুঁকিহীনতা: এই পদ্ধতিতে অতিব্যাপক, অব্যাপক বা সংকর বিভাগজনিত অনুপপত্তি ঘটার কোনো সম্ভাবনা থাকে না।
    ৩. বস্তুগত জ্ঞানের স্বল্পতায়ও প্রযোজ্য: বিভাজ্য জাতির অন্তর্গত সব উপজাতি সম্পর্কে বাস্তব বা পূর্ণ জ্ঞান না থাকলেও কেবল 'ক' এবং 'অ-ক' এভাবে ইতিবাচক ও নেতিবাচক ভাগে নির্ভুলভাবে বিভাগ সম্পন্ন করা যায়।

    অসুবিধাসমূহ:
    ১. নেতিবাচক ভাগের অস্পষ্টতা: নেতিবাচক অংশটি (যেমন- 'অন্যান্য প্রাণী' বা 'অসভ্য মানুষ') অত্যন্ত অস্পষ্ট ও অনির্দিষ্ট থাকে। সেখানে ঠিক কী কী উপাদান রয়েছে তা পরিষ্কারভাবে জানা যায় না।
    ২. দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর প্রক্রিয়া: কোনো জটিল জাতিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিশ্লেষণ করতে গেলে দ্বিকোটিক বিভাজনের স্তর অনেক দীর্ঘ হয়ে পড়ে, যা বাস্তবিক ক্ষেত্রে অবাস্তব ও ক্লান্তিকর।
    ৩. বাস্তব জ্ঞানের অভাব: এটি কেবল একটি রূপগত বা আকারগত প্রক্রিয়া। ফলে এতে বাস্তব জগতের সঠিক জ্ঞান আহরণে খুব বেশি সহায়তা পাওয়া যায় না।

    সুতরাং, তাত্ত্বিক ও নিয়মগত দিক থেকে দ্বিকোটিক বিভাগ সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত হলেও বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন