বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
'হুযুর কেবলা' গল্পে এমদাদ নামক শিক্ষিত যুবক অনেকটা কৌতূহলের বশে ভন্ডপীরের মুরিদ হয়। কিন্তু যখনই ভণ্ডপীরের চালাকি ও তার লোলুপ কামনা এমদাদের সামনে উন্মোচিত হয়েছে, তখনই সে প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু ভন্ডপীর হুযুর কেবলা তার ধর্মান্ধ মুরিদদের সহায়তায় এমদাদকে পাগল আখ্যা দিয়ে গ্রাম থেকে বের করে দিয়েছে। আর নিজে মুরিদের সুন্দরী স্ত্রীকে কৌশলে তালাক দিতে। বাধ্য করেছে এবং নিজের বাসনা পূরণ করেছে।
- ক)(1)
'লালসালু' উপন্যাসে অশীতিপর বৃদ্ধ কে?
- খ)(2)
"শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি"- এখানে কী বুঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের এমদাদের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের হুযুর কেবলা আর 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ একই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী"-উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত 'লালসালু' উপন্যাসে অশীতিপর বৃদ্ধ হলেন খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবির পিতা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত বাক্যটির মাধ্যমে মহব্বতনগর গ্রামে প্রয়োজনীয় জীবনোপকরণের অপ্রতুলতা এবং মানুষের মধ্যে অন্ধ ধর্মবিশ্বাস ও কুসংস্কারের ব্যাপক আধিক্যকে বোঝানো হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত অঞ্চলটিতে মানুষের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় শস্য বা খাদ্যের উৎপাদন ছিল অপ্রতুল। কিন্তু অভাব-অনটনপীড়িত মানুষগুলোর মাঝে ধর্মকে কেন্দ্র করে গোঁড়ামি, ভণ্ডামি ও অন্ধ কুসংস্কার বাসা বেঁধেছিল। প্রকৃত ধর্মীয় চেতনার বদলে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস আগাছার মতো বংশবিস্তার করে মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল বলেই লেখক এমন মন্তব্য করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সচেতন ও প্রতিবাদী এমদাদের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের প্রতিবাদী চরিত্র আক্কাসের সাদৃশ্য রয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, আক্কাস শহরের আলো-হাওয়া পাওয়া একজন সচেতন যুবক। সে গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ধর্মের নামে কর্তৃত্ব বজায় রাখা ভণ্ড মজিদ বুঝতে পারে যে মানুষ শিক্ষিত ও সচেতন হলে তার ধর্মব্যবসা এবং প্রভাব খর্ব হবে। তাই মজিদ কূটকৌশল খাটিয়ে ধর্মসভার ডাক দিয়ে আক্কাসের দাড়ি না থাকার বিষয়টিকে বড় অপরাধ হিসেবে তুলে ধরে তাকে কোণঠাসা ও গ্রামছাড়া করে।
উদ্দীপকের এমদাদও একজন শিক্ষিত যুবক, যে ভণ্ডপীর হুযুর কেবলার অনৈতিক কামলিপ্সা ও প্রতারণার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু ভণ্ডপীর ধর্মের দোহাই দিয়ে সাধারণ ধর্মান্ধ মুরিদদের সহায়তায় এমদাদকে পাগল আখ্যা দিয়ে সমাজচ্যুত করে। আক্কাস এবং এমদাদ উভয়েই ধর্মান্ধ সমাজের সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রয়াসী হয়ে শেষ পর্যন্ত ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ীদের কূটকৌশল ও ধর্মান্ধ সাধারণ মানুষের অসহযোগিতার শিকার হয়ে বিতাড়িত হয়েছে। এই দিক থেকেই এমদাদের সাথে আক্কাস চরিত্রের গভীর সাদৃশ্য লক্ষণীয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের হুযুর কেবলা আর 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ একই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী"—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ। উভয় চরিত্রই ধর্মের মুখোশ পরে নিজেদের স্বার্থ, ক্ষমতা ও জৈবিক কামনা চরিতার্থকারী ধর্মব্যবসায়ীর প্রতীক।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ একটি অজ্ঞাত কবরকে মোদাচ্ছের পিরের মাজার দাবি করে লালসালু কাপড়ে ঢেকে মহব্বতনগর গ্রামে নিজের ক্ষমতার ভিত গড়ে তোলে। সে সাধারণ মানুষের সরল ধর্মবিশ্বাস ও অজ্ঞতাকে পুঁজি করে নিজের অস্তিত্ব ও কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখে। মজিদ কেবল আধিপত্যই কায়েম করেনি, জীবনের নানা সংকট যেমন খালেক ব্যাপারীর স্ত্রীর নিঃস্তানতা বা নিজের দ্বিতীয় বিয়েতে নারীলোলুপ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। সে ধর্মের ভয় দেখিয়ে পুরো গ্রামকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং প্রতিবাদী আক্কাসকে দমন করেছে।
উদ্দীপকের হুযুর কেবলা চরিত্রটিও আধ্যাত্মিকতার আবরণে এক ভয়ংকর ভণ্ড ও কামুক প্রকৃতির মানুষ। সে নিজের লোলুপ কামনা পূরণের জন্য ধর্মের দোহাই দিয়ে মুরিদের স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্য করে এবং প্রতিবাদী এমদাদকে সমাজচ্যুত করে।
সুতরাং দেখা যায়, মজিদ ও হুযুর কেবলা উভয়েই ধর্মকে আত্মস্বার্থ, ভোগলিপ্সা এবং আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। উভয় চরিত্রই সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অন্ধতাকে পুঁজি করে শোষণ কায়েম রাখে এবং বিরোধিতাকারীদের কৌশলে ধ্বংস করে। এই চারিত্রিক মিলের কারণেই বলা যায় যে হুযুর কেবলা ও মজিদ অভিন্ন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও