পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
শাকিলা তার ছোট ভাই রিমনকে ঈদ মোবারক জানিয়ে নিচের উপহার প্রদান করে।
- ক)(1)
কত সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?
- খ)(2)
আগরতলা মামলা কেন দায়ের করা হয়েছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকে শাকিলার দেওয়া উপহারের ছবিতে স্থাপনাটির সাথে সম্পর্কিত তোমার পাঠ্যপুস্তকের যে ঘটনার মিল রয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের চিত্র স্থাপনাটি যাদের ত্যাগের স্মরণে নির্মিত হয়েছে, তাদের আত্মত্যাগকে কিভাবে মূল্যায়ন করবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ করা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় নেতাদের ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে চিরতরে স্তব্ধ করার উদ্দেশ্যে আইয়ুব সরকার 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' দায়ের করেছিল।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পেশকৃত ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালি জাতির মুক্তির সনদে পরিণত হলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শঙ্কিত হয়ে পড়ে। এ আন্দোলন স্তব্ধ করতে এবং পূর্ব পাকিস্তানকে ভারত সরকারের সহায়তায় বিচ্ছিন্ন করার মিথ্যা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য' নামে এ মামলাটি দায়ের করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শাকিলার দেওয়া উপহারে (১০০০ টাকার নোটে) মুদ্রিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবির সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনার মিল রয়েছে।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে কেবল উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত শুরু করে। এর প্রতিবাদে এদেশের ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা মিছিল বের করলে পুলিশ নির্মমভাবে গুলি চালায়। এতে বরকত, রফিক, জব্বার, সালামসহ অনেকেই শহীদ হন। এই আত্মদানের প্রতীক হিসেবে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মিত হয়।
উদ্দীপকের ১০০০ টাকার নোটে যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের চিত্র রয়েছে, তা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও আত্মত্যাগকে ধারণ করে। সুতরাং, উদ্দীপকের স্থাপনাটি সরাসরি ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রিত স্থাপনাটি (শহীদ মিনার) ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে। তাঁদের এই মহান আত্মত্যাগ বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি এবং স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম প্রেরণা হিসেবে অপরিসীম মূল্যায়নের দাবিদার।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় ঢাকার রাজপথে বরকত, সালাম, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা শহীদেরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন। পৃথিবীর ইতিহাসে মাতৃভাষার জন্য আত্মদানের এমন নজির বিরল। ভাষা শহীদদের এই রক্তদান কেবল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদাই এনে দেয়নি, বরং বাঙালি জাতিকে প্রথমবারের মতো নিজেদের অধিকার ও আত্মপরিচয় সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই দ্বিজাতিতত্ত্বের সাম্প্রদায়িক ভিত্তি চূর্ণ হয় এবং ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। এই আন্দোলনের চেতনা থেকেই পরবর্তীকালে ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ৬ দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পথ সুগম হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগই বাঙালির সব অধিকার আদায় ও স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিল। তাঁদের এই অনন্য ত্যাগের ফলেই আজ একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত ও সম্মানিত। তাই তাঁদের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলেও অত্যন্ত গৌরবময় ও অনন্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও