সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
দিবা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। সে JSC পরীক্ষার জন্য ফরম ফিলাপ করেছে। কিন্তু পরীক্ষার সময় স্বামী ও অভিভাবকগণ পরীক্ষা দিতে বারণ করায় পরীক্ষা দিতে পারে নাই। যার ফলশ্রুতিতে দিবার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। এটি একটি সামাজিক অপ্রত্যাশিত অবস্থা।
- ক)(1)
গ্রিক Problema শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধি- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনাটি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন সমস্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনাটি নিরসনের জন্য যে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে তা যথার্থ কিনা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রিক 'Problema' শব্দের অর্থ হলো 'কোনো কিছু সমাধানের জন্য সম্মুখে উপস্থাপন করা' (to put forward something for solution)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌতুক হলো বিবাহ উপলক্ষে বর বা কনেপক্ষের দাবিকৃত অর্থ বা মূল্যবান সামগ্রী। এটি সমাজে নারী নির্যাতন, পারিবারিক অশান্তি, বিবাহবিচ্ছেদ এবং মেয়েদের শিক্ষার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যৌতুকের কারণে নারীরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন, এমনকি আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটে। যৌতুকের এই সর্বগ্রাসী নেতিবাচক প্রভাব সমাজের স্বাভাবিক বিকাশকে ব্যাহত করায় একে একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি পাঠ্যবইয়ের 'বাল্যবিবাহ' সমস্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ে এবং ২১ বছরের কম বয়সী ছেলের বিবাহ হলো বাল্যবিবাহ। এটি একটি মারাত্মক সামাজিক সমস্যা, যা ব্যক্তি ও জাতীয় উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।
উদ্দীপকের দিবা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী, অর্থাৎ তার বয়স স্পষ্টতই ১৮ বছরের নিচে। সে JSC পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করলেও পরীক্ষার সময় স্বামী ও অভিভাবকগণের নিষেধাজ্ঞার কারণে পরীক্ষা দিতে পারেনি এবং তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। নাবালিকা বয়সেই তাকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেই পরীক্ষার সময় তার ওপর স্বামীর কর্তৃত্ব আরোপ হয়েছে। সুতরাং, অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি আমাদের পাঠ্যবইয়ের বাল্যবিবাহ সমস্যার সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বাল্যবিবাহ সমস্যা নিরসনের জন্য বাংলাদেশে প্রণীত 'বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭' অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যথার্থ পদক্ষেপ।
পূর্বের ১৯২৯ সালের আইনটির অকার্যকারিতা দূর করতে সরকার 'বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭' প্রণয়ন করে। এই আইনে বাল্যবিবাহকে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এতে ১৮ বছরের কম বয়সী নারী এবং ২১ বছরের কম বয়সী পুরুষের বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন অমান্য করে বাল্যবিবাহ সম্পাদন বা সহায়তা করলে বর, কনেপক্ষ, ঘটক, কাজী বা সংশ্লিষ্টদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
উদ্দীপকে দিবার মতো অসংখ্য কিশোরীর শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়া রোধ করতে এই আইনটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। যদিও এতে বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালতের নির্দেশে বিয়ের একটি বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, সার্বিকভাবে কঠোর শাস্তির বিধান এবং প্রশাসনিক নজরদারির সুযোগ থাকায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এই আইনটি অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও যথার্থ ভূমিকা পালন করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও