জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
হৃদপেশিতে অক্সিজেন (O2)(O_2) সরবরাহ না হলে বুকে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং ঘাম হয়।
- ক)(1)
BMI কী?
- খ)(2)
লসিকাতন্ত্র বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত লক্ষণগুলো যে রোগের উহার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
BMI হলো Body Mass Index, যা মানুষের দেহের ওজনকে (কেজিতে) তার উচ্চতার (মিটারে) বর্গ দিয়ে ভাগ করে নির্ণয় করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লসিকাতন্ত্র হলো মানবদেহের একটি বিশেষ সংবহনতন্ত্র, যা লসিকা, লসিকা নালী, লসিকা গ্রন্থি (যেমন: প্লীহা, টনসিল ইত্যাদি) এবং লসিকা অঙ্গ নিয়ে গঠিত। এটি দেহকোষের মধ্যবর্তী স্থান থেকে অতিরিক্ত তরল রক্তস্রোতে ফিরিয়ে আনে, ফ্যাট জাতীয় খাদ্য পরিবহন করে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত লক্ষণগুলো—হৃদপেশিতে অক্সিজেন সরবরাহ না হওয়া, বুকে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং অতিরিক্ত ঘাম হওয়া মূলত 'হার্ট অ্যাটাক' বা 'মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন' (Myocardial Infarction) এবং 'এনজাইনা' (Angina)-র লক্ষণ।
এই রোগের প্রধান কারণসমূহ নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. করোনারি অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস: করোনারি ধমনির অন্তঃপ্রাচীরে কোলেস্টেরল, চর্বি ও ক্যালসিয়াম জমে 'প্ল্যাক' (Plaque) সৃষ্টি হয়। এর ফলে রক্তনালির লুমেন বা পথ সরু হয়ে যায় এবং রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।
২. থ্রম্বোসিস বা রক্তজমাট: সরু হয়ে যাওয়া করোনারি ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধলে (করোনারি থ্রম্বোসিস) রক্তনালী সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে যায়।
৩. ইস্কেমিয়া: রক্তপ্রবাহ বন্ধ বা হ্রাস পেলে হৃৎপেশিতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টির চরম ঘাটতি দেখা দেয়, যাকে ইস্কেমিয়া বলে। দীর্ঘস্থায়ী ইস্কেমিয়ার ফলে অক্সিজেন না পেয়ে হৃদপেশি কোষের মৃত্যু ঘটে, যা হার্ট অ্যাটাকের কারণ।
৪. সহায়ক ঝুঁকিপূর্ণ কারণ: অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, ধূমপান, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপ এই রোগের ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাটি হলো হার্ট অ্যাটাক বা করোনারি হৃদরোগ। সঠিক জীবনযাত্রা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে এই রোগ সফলভাবে প্রতিরোধ করা যায়। প্রতিরোধের উপায়গুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সুষম ও চর্বিমুক্ত খাদ্য গ্রহণ: খাদ্যাভ্যাস থেকে অতিরিক্ত চর্বি, কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার (যেমন: লাল মাংস, ঘি, ডালডা) এবং ফাস্টফুড বর্জন করতে হবে। খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে টাটকা শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার রাখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত লবণ ও চিনি গ্রহণ পরিহার করতে হবে।
২. নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা, সাঁতার কাটা বা হালকা ব্যায়াম রক্তে ভালো কোলেস্টেরলের (HDL) মাত্রা বাড়ায় এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) হ্রাস করে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা ভালো রাখে।
৩. দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত শারীরিক ওজন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। তাই BMI স্বাভাবিক সীমার (১৮.৫ - ২৪.৯) মধ্যে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
৪. ধূমপান ও তামাক বর্জন: তামাকের নিকোটিন রক্তচাপ বাড়ায় এবং করোনারি ধমনিতে প্লাক সৃষ্টি ত্বরান্বিত করে। তাই ধূমপান ও যেকোনো ধরনের তামাক সেবন সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে হবে।
৫. প্রাথমিক রোগ নিয়ন্ত্রণ: উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস হৃদরোগের প্রধান অনুঘটক। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৬. মানসিক চাপমুক্ত থাকা: অতিরিক্ত উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কর্টিসল হরমোন নিঃসরণ বাড়িয়ে রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম এবং মেডিটেশনের মাধ্যমে মানসিক চাপমুক্ত ও প্রফুল্ল থাকতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, সুশৃঙ্খল ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমেই হার্ট অ্যাটাক জাতীয় মারাত্মক হৃদরোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও