কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • ভূমি সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

ধান চাষি মানিক মিয়া প্রচলিত নিয়মে ধান চাষ করে। গুছি প্রতি ৩/৪টি চারা রোপণ করে। পাশের জমিতে রতন মিয়া গুছি প্রতি ১টি ধানের চারা নিয়ে বর্গাকারে চাষ করে এবং AWD পদ্ধতিতে পানি সেচ দেয়। এতে তার উৎপাদন খরচ কম হয়।

  1. ক)

    ভূমিক্ষয় কী?

    (1)
  2. খ)

    পানি নিকাশ কেন করা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    রতন মিয়া কোন পদ্ধতিতে ধান চাষ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মানিক মিয়া এবং রতন মিয়ার চাষ পদ্ধতির মধ্যে কোনটির উপযোগিতা বেশি তার সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাকৃতিক বিভিন্ন শক্তি (যেমন- বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ) অথবা মানুষের কর্মকাণ্ডের দ্বারা মাটির উপরিভাগের কণা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হওয়াকে ভূমিক্ষয় বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফসলের জমিতে বা গাছের গোড়ায় অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় পানি জমে থাকলে তা কৃত্রিম উপায়ে বের করে দেওয়াকে পানি নিকাশ বলে। মাটিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে উদ্ভিদের শিকড়ের স্বাভাবিক বায়ু চলাচল ব্যাহত হয়, মাটি বিষাক্ত হতে পারে এবং শিকড় পচে গিয়ে গাছ মারা যায়। এছাড়া প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান গ্রহণেও বাধা সৃষ্টি হয়। তাই মাটির ভৌত পরিবেশ বজায় রাখা ও ফসলের সুস্থ বৃদ্ধির জন্য পানি নিকাশ করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রতন মিয়া 'এসআরআই' (SRI - System of Rice Intensification) বা ধান নিবিড়করণ পদ্ধতিতে ধান চাষ করেছেন এবং সেচে এডব্লিউডি (AWD - Alternate Wetting and Drying) প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন।

    এসআরআই পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো কম বয়সের চারা (৮-১২ দিন বা অল্প বয়স্ক) ব্যবহার করে প্রতি গুছিতে মাত্র ১টি করে চারা বর্গাকারে (২৫ সেমি × ২৫ সেমি দূরত্বে) রোপণ করা। এতে প্রতিটি চারা পর্যাপ্ত আলো, বাতাস ও মাটির পুষ্টি উপাদান পায়, যার ফলে কার্যকর কুশির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া রতন মিয়া এডব্লিউডি পদ্ধতিতে পানি সেচ দেন, যা পালাক্রমে জমি ভেজানো ও শুকানো প্রযুক্তি। এর ফলে জমিতে সবসময় পানি আটকে না রেখে মাটির আর্দ্রতা অনুযায়ী পানি দেওয়া হয়। এই সমন্বিত পদ্ধতির কারণে চারার খরচ, সেচের খরচ ও অন্যান্য উৎপাদন খরচ অনেক কমে যায় এবং ভালো ফলন নিশ্চিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানিক মিয়ার প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় রতন মিয়ার এসআরআই (SRI) ও এডব্লিউডি (AWD) প্রযুক্তিনির্ভর ধান চাষ পদ্ধতির উপযোগিতা অনেক বেশি।

    উদ্দীপকে মানিক মিয়া প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রতি গুছিতে ৩-৪টি চারা রোপণ করেন। এতে চারার সংখ্যা ও খরচ বেশি হয় এবং ঘন চারা থাকার কারণে সূর্যের আলো ও বাতাস চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে, ফলে রোগের প্রকোপ ও অপুষ্টির সম্ভাবনা বাড়ে। এছাড়া প্রচলিত নিয়মে জমিতে সারাক্ষণ পানি জমিয়ে রাখার কারণে সেচের খরচ ও পানির অপচয় হয় প্রচুর।

    অন্যদিকে, রতন মিয়া এসআরআই পদ্ধতিতে মাত্র ১টি চারা বর্গাকারে রোপণ করায় চারার খরচ অনেক কমে যায়। প্রতিটি গাছ পর্যাপ্ত ফাঁকা স্থান পাওয়ায় প্রচুর শিকড় ও উৎপাদনশীল কুশি গজাতে পারে। সেই সাথে এডব্লিউডি পদ্ধতি ব্যবহারে প্রায় ২৫-৩০% সেচের পানি সাশ্রয় হয় এবং জ্বালানি খরচ কমে যায়। এতে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং ফলন প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে শতকরা ১৫-২০ ভাগ বেশি হতে পারে।

    অতএব, সার-বীজ-পানির অপচয় রোধ, উৎপাদন খরচ হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব অধিক ফলনের দিক বিবেচনা করলে মানিক মিয়ার চেয়ে রতন মিয়ার চাষ পদ্ধতির উপযোগিতা নিঃসন্দেহে বেশি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন