‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

M ও N নামক দুটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদ্যমান ছিল। M প্রদেশের নেতৃত্ব বিন্দুরাই স্বাধীনতার শুরু থেকে শাসন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সে কারণে M প্রতিষ্ঠির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নানা বৈষম্যের শিকার হয়। N অঞ্চলের একজন মহান নেতা বৈষম্য অবসানের লক্ষ্যে কয়েকটি দাবি পেশ করে। উক্ত দাবিতে প্রাদেশিক রাজত্ব ব্যবস্থা, সুশাসন, বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা ও সরকারি চাকরিতে N প্রদেশের জনগণের জন্য গোটা সিস্টেম রাখার কর্মসূচি পেশ করা হয়।

  1. ক)

    ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন কে জারি করেন?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল অখণ্ড পাকিস্তানের শেষ মৃত্যুবার্তা- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে N প্রদেশের মহান নেতার উত্থাপিত দাবির সাথে তোমার পঠিত কোন কর্মসূচির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশ ও স্বাধীনতা অর্জনের উক্ত কর্মসূচির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, যা ছিল মূলত ৬ দফার প্রতি জনগণের সুস্পষ্ট রায়। কিন্তু পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। এর ফলে বাঙালিরা পাকিস্তানের অখণ্ড কাঠামো থেকে বের হয়ে স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হয়, তাই এ ফলাফল কার্যত অখণ্ড পাকিস্তানের শেষ মৃত্যুবার্তা ঘোষণা করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে N প্রদেশের মহান নেতার উত্থাপিত দাবির সাথে আমার পঠিত ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি'-র মিল রয়েছে।

    ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের লক্ষ্যে ছয় দফা দাবি পেশ করেন। এতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা, মুদ্রা ও শুল্ক সংক্রান্ত পৃথক ব্যবস্থা, এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রদেশের কর্তৃত্বসহ বাঙালির অধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    উদ্দীপকের N অঞ্চলের নেতাও প্রাদেশিক বৈষম্য বিলোপের জন্য প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, রাজস্ব, বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষমতা এবং চাকরিতে কোটাব্যবস্থার দাবি উত্থাপন করেন, যা মূলত ১৯৬৬ সালের বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা কর্মসূচির সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ছয় দফা কর্মসূচির গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।

    ছয় দফা আন্দোলন ছিল মূলত বাঙালি জাতির মুক্তিসনদ বা ম্যাগনাকার্টা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শোষণ-বৈষম্যের চিত্র সুস্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়। এর ফলে রাজনৈতিক আন্দোলন মধ্যবিত্ত ও ছাত্রসমাজ থেকে সাধারণ কৃষক-শ্রমিক তথা সমগ্র জনগণের স্বাধিকার আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়।

    ছয় দফার ভিত্তিতেই বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয় এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট দেয়। পশ্চিমা শাসকচক্র এই দাবি মেনে না নেওয়ায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়। অতএব, বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার রূপায়ণ ও স্বাধীনতা অর্জনে ছয় দফা ছিল এক চূড়ান্ত ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন