ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. রজত একটি ব্যাংকের উপ-পরিচালক। প্রত্যেকটি দেশেই এ ধরনের একটি ব্যাংক থাকে। এ ধরনের ব্যাংক জনগণের নিকট হতে আমানত সংগ্রহ করে না। মুনাফা অর্জনও এ ব্যাংকের প্রধান উদ্দেশ্য নয় । সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এ ধরনের ব্যাংকের প্রধান কাজ ।
- ক)(1)
নিকাশ ঘর কী?
- খ)(2)
কোন ব্যাংককে ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয় এবং কেন?
- গ)(3)
কার্যাবলির ভিত্তিতে উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. রজতের ব্যাংকটি কোন ধরনের ব্যাংক? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে মি. রজতের ব্যাংকটির ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে স্থানে বসে তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ তাদের পারস্পরিক দেনা-পাওনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে নিষ্পত্তি করে, তাকে নিকাশ ঘর (Clearing House) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কেন্দ্রীয় ব্যাংককে 'ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল' বলা হয়।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যখন কোনো আর্থিক সংকটকালে নিজস্ব তহবিল বা অন্য কোনো উৎস হতে প্রয়োজনীয় তহবিল বা ঋণ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শরণাপন্ন হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথম শ্রেণির বিল বা সরকারি সিকিউরিটিজ পুনঃবাট্টাকরণ করে অথবা সরাসরি ঋণ দিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। এভাবে সংকটকালে শেষ ভরসা হিসেবে কাজ করায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কার্যাবলির ভিত্তিতে উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. রজতের ব্যাংকটি হলো 'কেন্দ্রীয় ব্যাংক'।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো দেশের মুদ্রা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান, যা নোট ও মুদ্রা প্রচলন, ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কাজ করে। এটি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রত্যক্ষভাবে আমানত গ্রহণ করে না এবং মুনাফা অর্জন এর প্রধান উদ্দেশ্য নয়; বরং জনকল্যাণ ও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে এটি কাজ করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মি. রজত যে ব্যাংকে কর্মরত তা দেশের একমাত্র শীর্ষ ব্যাংক, যা জনগণের নিকট হতে আমানত নেয় না এবং মুনাফা অর্জন এর উদ্দেশ্য নয়। সরকারের প্রতিনিধি হয়ে এটি কাজ করে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকৃতি ও মৌলিক কার্যাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব, ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে মি. রজতের ব্যাংক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক ও গুরুত্বপূর্ণ।
১. মুদ্রা ও ঋণ নিয়ন্ত্রণ: কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক হার নীতি, খোলা বাজার নীতি, জমার হার পরিবর্তন ইত্যাদি পদ্ধতির মাধ্যমে বাজারে অর্থের সরবরাহ ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাসঙ্কোচন প্রতিহত হয়ে দামস্তর স্বাভাবিক থাকে।
২. নোট ও মুদ্রা প্রচলন: কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের প্রয়োজন ও জাতীয় আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাগজী মুদ্রা ও নোট ইস্যু করে, যা অর্থনীতিতে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহজনিত সংকট বা অর্থের ঘাটতি হতে দেয় না।
৩. বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা: কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে। এটি দেশীয় মুদ্রার বিনিময় মূল্যের ভারসাম্য রক্ষা করে বৈদেশিক বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা আনে।
৪. সরকারের ব্যাংক ও আর্থিক উপদেষ্টা: সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজেট বাস্তবায়ন, সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন আর্থিক নীতি প্রণয়নে পরামর্শ দিয়ে জাতীয় অর্থনীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করে।
৫. ব্যাংকিং ব্যবস্থার অভিভাবক: নিকাশ ঘর পরিচালনার মাধ্যমে আন্তঃব্যাংক দেনা-পাওনা সহজে মেটায় এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংকটে ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে আর্থিক খাতকে পতনের হাত থেকে বাঁচায়।সুতরাং, উল্লিখিত নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে মি. রজতের ব্যাংকটি (কেন্দ্রীয় ব্যাংক) দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শীর্ষ নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও