ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৬
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে তেলের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। সরকারের তেলের বাড়তি মূল্য মেটাতে হিমশিম অবস্থা। দেশের অভ্যন্তরেও অর্থ সংকট সৃষ্টি হয়। অর্থ সংকট মোকাবিলায় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রচুর পরিমাণে কাগুজি মুদ্রা ছাপিয়ে বাজারে ছাড়ে। দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থ সংকটের সমাধান হলেও দ্রব্যমূল্য একলাফে কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
- ক)(1)
মুদ্রাস্ফীতি কাকে বলে?
- খ)(2)
'কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের ব্যাংক'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দেশের অর্থবাজার সচল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কীভাবে অবদান রেখেছে উদ্দীপকের আলোকে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাবলির আলোকে, দেশের অভ্যন্তরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ কী? কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখতে পারে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থের যোগান বৃদ্ধির ফলে পণ্যের মূল্যস্তর ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাওয়া এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বা মূল্য হ্রাস পাওয়াকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের প্রতিনিধি, উপদেষ্টা এবং অর্থ ব্যবস্থাপক হিসেবে সরকারের যাবতীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে বলে একে 'সরকারের ব্যাংক' বলা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের পক্ষে বিনামূল্যে যাবতীয় রাজস্ব ও অর্থ জমা রাখে, বিভিন্ন সরকারি ব্যয় নির্বাহ করে এবং ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের দায়িত্ব পালন করে। এছাড়া সরকারের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক আর্থিক লেনদেন সম্পাদন এবং অর্থনৈতিক সংকটে সরকারকে আর্থিক পরামর্শ ও ঋণ প্রদান করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের ব্যাংক হিসেবে ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে দেশের অর্থবাজার সচল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রচুর পরিমাণে নতুন কাগুজি মুদ্রা ছাপিয়ে বাজারে ছেড়ে অভ্যন্তরীণ অর্থ সংকট মোকাবিলা করেছে।
অর্থের যোগান নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাজারে মুদ্রার তারল্য বজায় রাখা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। যখন দেশে অভ্যন্তরীণ তারল্য সংকট বা অর্থের টানাটানি দেখা দেয়, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন মুদ্রা ইস্যু করে বাজারে অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি করতে পারে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট সংকট মেটাতে গিয়ে দেশে অভ্যন্তরীণ অর্থ সংকট দেখা দেয়। এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোট ইস্যুর ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রচুর কাগুজি মুদ্রা ছাপিয়ে বাজারে সরবরাহ করে। এর ফলে বাজারে প্রয়োজনীয় তারল্য পৌঁছায় এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থ সংকট দূর হয়ে অর্থবাজার সচল থাকে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাবলির আলোকে দেশের অভ্যন্তরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক অতিরিক্ত কাগুজি মুদ্রা ছাপিয়ে বাজারে ছাড়ার ফলে সৃষ্ট তীব্র মুদ্রাস্ফীতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন সংকোচনমূলক আর্থিক নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে এই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অবদান রাখতে পারে।
অর্থনীতিতে পণ্যের উৎপাদন বা যোগান না বাড়িয়ে শুধুমাত্র অর্থের যোগান অতিরিক্ত বাড়িয়ে দিলে অর্থের মূল্য হ্রাস পায় এবং সামগ্রিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকট কাটাতে অতিরিক্ত কাগুজি মুদ্রা বাজারে ছাড়ায় মানুষের হাতে অর্থ বেড়ে যায় এবং পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়, যা মুদ্রাস্ফীতির বহিঃপ্রকাশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে তার 'ঋণ নিয়ন্ত্রণ কৌশল' বা সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি প্রয়োগ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:
১. ব্যাংক হার বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার সুদের হার বৃদ্ধি করলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও সুদের হার বাড়ায়, ফলে ঋণগ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে বাজারে অর্থের প্রবাহ কমে।
২. খোলা বাজারে ঋণপত্র বিক্রয়: কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে সরকারি সিকিউরিটিজ বা বন্ড বিক্রয় করে জনসাধারণের এবং ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত অর্থ তুলে নিতে পারে।
৩. জমার হার বৃদ্ধি: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক রিজার্ভের অনুপাত (সিআরআর ও এসএলআর) বাড়িয়ে দিলে ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদানের ক্ষমতা হ্রাস পায়।সুতরাং, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি বাজারে বিদ্যমান অতিরিক্ত অর্থ তুলে নেওয়ার জন্য উল্লেখিত ঋণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করে, তবে অর্থের যোগান হ্রাস পেয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও