জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
ইন্টারফেজ কাকে বলে?
- খ)(2)
সাইটোকাইনেসিস কী ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ও চিত্রে প্রদর্শিত 'দশার পরবর্তী দশাটির বৈশিষ্টগুলো লেখো
- ঘ)(4)
চিত্রের কোষ বিভাজন বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে-বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি কোষ বিভাজন সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী বিভাজন শুরু হওয়া পর্যন্ত যে মধ্যবর্তী প্রস্তুতিমূলক পর্যায় অতিক্রম করে, তাকে ইন্টারফেজ (Interphase) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোষ বিভাজনে নিউক্লিয়াসের বিভাজন (ক্যারিওকাইনেসিস) সম্পন্ন হওয়ার পর সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস বলে।
উদ্ভিদকোষে টেলোফেজ দশায় বিষুবীয় অঞ্চলে এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ও ভেসিকল জমা হয়ে কোষপ্লেট গঠন করে, যা পরবর্তীতে রূপান্তরিত হয়ে কোষ প্রাচীর তৈরি করে কোষ দুটিকে পৃথক করে। প্রাণীকোষে সাইটোকাইনেসিস ঘটে ক্লিভেজ বা ফারোয়িং প্রক্রিয়ায়, যেখানে কোষপর্দা উভয় দিক থেকে সংকুচিত হয়ে মধ্যস্থলে মিলিত হয় এবং দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে চিত্র B হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রো-মেটাফেজ দশা। এর পরবর্তী দশাটি হলো 'মেটাফেজ' দশা।
মেটাফেজ দশার বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. এই দশার শুরুতে ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে (ইকুয়েটর) অবস্থান নেয়। এই প্রক্রিয়াকে মেটাকাইনেসিস বলে।
২. ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক সংকুচিত, খাটো ও মোটা দেখায়। ফলে এদের মাইক্রোস্কোপে সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায়।
৩. প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার বিষুবীয় অঞ্চলে এবং বাহু দুটি মেরুমুখী হয়ে অবস্থান করে।
৪. এই দশার শেষভাগে প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং প্রতিটি ক্রোমাটিড একটি অপত্য ক্রোমোজোমে পরিণত হয়।
৫. নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার মেমব্রেন সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত কোষ বিভাজনটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন। তবে সাধারণত জীবদেহে বৈচিত্র্য (জিনগত বৈচিত্র্য) সৃষ্টি করে মিওসিস কোষ বিভাজন, মাইটোসিস নয়। নিচে এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. মাইটোসিসের ভূমিকা: মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে মাতৃকোষের সমগুণসম্পন্ন দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি হয়। এখানে ক্রোমোজোম বা জিনের কোনো পুনর্সংযোজন (recombination) বা ক্রসিং ওভার ঘটে না। ফলে মাইটোসিস মূলত জীবের দৈহিক বৃদ্ধি, ক্ষতপূরণ এবং নির্দিষ্ট প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ও গুণগত বৈশিষ্ট্য হুবহু বজায় রাখতে কাজ করে। তাই মাইটোসিসের মাধ্যমে কোনো নতুন জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয় না (কেবলমাত্র বিরল ক্ষেত্রে মিউটেশন ঘটলে ভিন্নতা আসতে পারে)।
২. বৈচিত্র্য সৃষ্টিতে মিওসিসের ভূমিকা: যৌন জননক্ষম জীবে মিওসিস বিভাজনের মাধ্যমে গ্যামেট সৃষ্টি হয়। মিওসিস-১ এর প্রফেজ-১-এর প্যাকাইটিন উপ-দশায় নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে ক্রসিং ওভার ঘটে। এর ফলে ক্রোমোজোমের খণ্ডাংশের পারস্পরিক বিনিময় ঘটে এবং জিনের নতুন সংমিশ্রণ (জিনগত পুনর্বিন্যাস) সম্পন্ন হয়। এ প্রক্রিয়ায় একই প্রজাতির সন্তানদের মধ্যেও বৈশিষ্ট্যগত ভিন্নতা বা বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়।
সুতরাং, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চিত্রের মাইটোসিস কোষ বিভাজন জীবের বংশানুক্রমিক ও জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি করতে পারে না; বরং মিওসিস বিভাজনই জীবে বৈচিত্র্য সৃষ্টির মূল নিয়ামক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও