অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
“ক” দেশের সরকার প্রতিরক্ষা, সাধারণ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা, রাস্তাঘাট, সেতু নির্মাণ ও বাঁধ নির্মাণের কাজ করে থাকে। এ সকল ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার আয়কর, আমদানি শুল্ক, রপ্তানি শুল্ক, টোল, ফি ও VAT এর আওতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
- ক)(1)
অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য কাকে বলে?
- খ)(2)
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য খাদ্য ঘাটতি পূরণের সহায়তা করে - ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
ক দেশের সরকারের ব্যয়ের খাত গুলো ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য উদ্দীপকের গৃহীত পদক্ষেপ গুলো বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার ভেতরে বিভিন্ন অঞ্চল বা ব্যক্তির মধ্যে পরিচালিত ক্রয়-বিক্রয় বা বাণিজ্যকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ুর প্রতিকূলতা বা কম উৎপাদনের কারণে খাদ্য সংকটে পড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে তা মেটানো সম্ভব হয়। একটি দেশ তার উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানি করে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদনকারী দেশ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য সহজে আমদানি করতে পারে। এভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য যেকোনো দেশের আকস্মিক বা দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ‘ক’ দেশের সরকারের ব্যয়ের খাতগুলো প্রধানত দুই ধরনের: অনুন্নয়নমূলক বা প্রশাসনিক ব্যয় এবং উন্নয়নমূলক ব্যয়।
১. অনুন্নয়নমূলক বা সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয়: রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এ ব্যয় অপরিহার্য। উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিরক্ষা (সামরিক বাহিনী পরিচালনা ও অস্ত্রশস্ত্র ক্রয়), সাধারণ প্রশাসন (সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও দাপ্তরিক কাজ) এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা (পুলিশ ও বিচার বিভাগ পরিচালনা) হলো অনুন্নয়ন বা চলতি ব্যয়ের প্রধান খাত।
২. উন্নয়নমূলক ব্যয়: দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য সরকার যে ব্যয় করে তাকে উন্নয়নমূলক ব্যয় বলে। উদ্দীপকে উল্লিখিত রাস্তাঘাট, সেতু নির্মাণ এবং বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোধে বাঁধ নির্মাণের কাজগুলো সরকারের উন্নয়নমূলক ও মূলধনি ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত।সুতরাং, ‘ক’ দেশের সরকার সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অনুন্নয়নমূলক ব্যয় এবং জনগণের কল্যাণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে উন্নয়নমূলক ব্যয়ের খাতসমূহে অর্থ বরাদ্দ করে থাকে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকারের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য উদ্দীপকে রাজস্ব আহরণের যে পদক্ষেপগুলো (আয়কর, আমদানি শুল্ক, রপ্তানি শুল্ক, টোল, ফি ও VAT-এর আওতা বৃদ্ধি) গ্রহণ করা হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের আয়ের প্রধান দুটি উৎস হলো কর রাজস্ব এবং কর-বহির্ভূত রাজস্ব। উদ্দীপকের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
১. প্রত্যক্ষ করের আওতা বৃদ্ধি: উদ্দীপকে আয়করের পরিধি বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। আয়কর একটি প্রত্যক্ষ কর, যার আওতা বাড়ালে সরকারের নিয়মিত আয়ের ভিত্তি সুদৃঢ় হয় এবং সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য হ্রাস পায়।
২. পরোক্ষ করের সম্প্রসারণ: আমদানি শুল্ক, রপ্তানি শুল্ক এবং ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর বা VAT) সরকারের পরোক্ষ কর রাজস্বের প্রধান উৎস। ভ্যাট এবং শুল্কের পরিধি বাড়ালে বৃহৎ জনগোষ্ঠী থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় বা কর হিসেবে বিশাল পরিমাণ রাজস্ব সরকারি তহবিলে জমা হয়।
৩. কর-বহির্ভূত রাজস্ব আহরণ: রাস্তাঘাট ও সেতু ব্যবহারের জন্য ‘টোল’ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ও বিচারিক সেবার জন্য ‘ফি’ হলো কর-বহির্ভূত রাজস্বের উদাহরণ। এগুলো সরকারের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যয় নির্বাহে সরাসরি অবদান রাখে।প্রতিরক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি বৃহৎ অবকাঠামো (সেতু, বাঁধ) নির্মাণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। যদি সরকার শুধুমাত্র ঋণের ওপর নির্ভরশীল থাকে, তবে ভবিষ্যৎ দায় বৃদ্ধি পায়। তাই কর ও কর-বহির্ভূত খাতের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে আয় বৃদ্ধি করা একটি টেকসই ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও