জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদের কিছুসংখ্যক সবুজ, আবার কিছুসংখ্যক অসবুজ হে থাকে। সবুজগুলোর মধ্যে বহুকোষী একটিতে গার্ডল ক্লোরোপ্লাস্ট বিদ্যমান অসবুজগুলোর মধ্যে একটি বেকারি শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।'

  1. ক)

    হলোকাপিক ছত্রাক কী?

    (1)
  2. খ)

    আইসোগ্যামি বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত সবুজ উদ্ভিদটির অযৌন জনন চিত্রের সাহায্যে দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত উদ্ভিদ গোষ্ঠী দুটির অঙ্গজ জননের তুলনামূলক ব‍্যাখ্যা দাও ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব এককোষী ছত্রাকের সম্পূর্ণ দেহটি রূপান্তরিত হয়ে জননাঙ্গে বা প্রজনন এককে পরিণত হয়, তাদের হলোকার্পিক (Holocarpic) ছত্রাক বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আকার, আকৃতি ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যে হুবহু একই রকম দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যে যৌন জনন সম্পন্ন হয়, তাকে আইসোগ্যামি (Isogamy) বলে। এ ধরনের মিলনক্ষম গ্যামেট দুটিকে আইসোগ্যামেট বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, Ulothrix শৈবালে আইসোগ্যামাস প্রকৃতির যৌন জনন দেখা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত সবুজ উদ্ভিদটি হলো গার্ডল আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত শৈবাল ইউলোথ্রিক্স (Ulothrix)।

    ইউলোথ্রিক্স প্রধানত জুস্পোর (Zoospore) সৃষ্টির মাধ্যমে অযৌন জনন সম্পন্ন করে। অনুকূল পরিবেশে এর শীর্ষ ও সংলগ্ন কোষ ছাড়া যেকোনো দেহকোষ জুস্পোরানজিয়ামে রূপান্তরিত হয়। এর প্রোটোপ্লাস্ট কয়েকবার বিভাজিত হয়ে ১ থেকে ৩২টি চার-ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট ম্যাক্রোজুস্পোর বা মাইক্রোজুস্পোর তৈরি করে। এগুলো ভেসিকলের মাধ্যমে মুক্ত হয়ে সাঁতার কাটে এবং উপযুক্ত কোনো বস্তুর সাথে যুক্ত হয়ে নতুন ইউলোথ্রিক্স সূত্র তৈরি করে। এছাড়া প্রতিকূল পরিবেশে অ্যাপ্লানোস্পোর, হিপনোস্পোর এবং পামেলা দশার মাধ্যমেও এরা অযৌন জনন ঘটাতে পারে।

    [পরীক্ষার খাতায় এখানে ইউলোথ্রিক্সের অযৌন জনন প্রক্রিয়ার চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে হবে: জুস্পোরানজিয়াম → ফ্ল্যাজেলাযুক্ত জুস্পোর মুক্তি → জুস্পোরের সংযুক্তি → বিভাজনের মাধ্যমে নতুন ফিলামেন্ট গঠন]

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সবুজ উদ্ভিদ গোষ্ঠীটি হলো শৈবাল (Ulothrix) এবং অসবুজ গোষ্ঠীটি হলো ছত্রাক (ইস্ট বা Saccharomyces)। এদের অঙ্গজ জননের তুলনামূলক ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

    ১. খণ্ডায়ন (Fragmentation): ইউলোথ্রিক্সসহ বহুকোষী শৈবালের অঙ্গজ জনন মূলত ফিলামেন্টের খণ্ডায়নের মাধ্যমে ঘটে। কোনো আঘাত বা প্রতিকূলতায় ফিলামেন্ট ভেঙে গেলে প্রতিটি অংশ কোষ বিভাজনের মাধ্যমে নতুন সূত্রে পরিণত হয়। অন্যদিকে এককোষী ইস্টে খণ্ডায়ন ঘটে না, তবে বহুকোষী ছত্রাকের ক্ষেত্রে হাইফার খণ্ডায়ন দেখা যায়।
    ২. কোরকোদ্গম বা বাডিং (Budding): এটি ইস্টের সবচেয়ে প্রধান ও সাধারণ অঙ্গজ জনন পদ্ধতি। ইস্টের মাতৃকোষ থেকে একটি উপবৃদ্ধি বা বাড (bud) তৈরি হয়, যার মধ্যে নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে মাতৃকোষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন ইস্ট কোষে পরিণত হয়। কিন্তু ইউলোথ্রিক্স শৈবালে এ ধরনের কোনো বাডিং হয় না।
    ৩. দ্বি-ভাজন (Binary Fission): অনুকূল পরিবেশে ইস্টের কিছু প্রজাতি (যেমন- Schizosaccharomyces) কোষ বিভাজনের মাধ্যমে সোজা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে দুটি সমান অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। ইউলোথ্রিক্সের পুরো দেহকোষ এভাবে এককোষী হিসেবে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি করে না।
    ৪. হরমোগোনিয়া বা বিশেষ অঙ্গজ গঠন: শৈবালে হরমোগোনিয়া বা টিউবারের মাধ্যমে অঙ্গজ বিস্তার ঘটতে পারে, যা ইস্ট বা ছত্রাকে অনুপস্থিত।

    সুতরাং, শৈবালের অঙ্গজ জনন প্রধানত দৈহিক ভাঙন বা খণ্ডায়নের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে ইস্টের অঙ্গজ জনন মূলত কোষীয় বিভাজন তথা কোরকোদ্গম (বাডিং) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুত সম্পন্ন হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন