জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
এক ধরনের কোষীয় অঙ্গাণু যা আত্মঘাতী থলিকা 'নামে পরিচিত কিন্তু প্রয়োজনীয় অঙ্গাণু। আর এক ধরনের কোষীয় অঙ্গাণু থাকে, যাকে সার্বজনীন অঙ্গাণু বলে এবং যার কোনো আবরণী নেই।
- ক)(1)
টনোপ্লাস্ট কী?
- খ)(2)
কোষীয় কঙ্কাল কীভাবে গঠিত হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথম অংশে উল্লিখিত কোষীয় অঙ্গানুটির গঠন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে উল্লিখিত অঙ্গাণুটির ক্ষেত্রে যে মন্তব্য করা হয়েছে তার তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ভিদকোষের কোষগহ্বরকে বেষ্টনকারী পাতলা প্লাজমা পর্দাকে টনোপ্লাস্ট (Tonoplast) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইউক্যারিওটিক কোষের সাইটোপ্লাজমে প্রোটিন নির্মিত বিভিন্ন ধরনের সূক্ষ্ম তন্তুর এক জটিল জালক বিন্যস্ত থাকে, যা কোষীয় কঙ্কাল বা সাইটোস্কেলেটন গঠন করে। এটি মূলত তিন প্রকার উপাদান নিয়ে গঠিত:
১. মাইক্রোটিউবিউলস (টিউবুলিন প্রোটিন নির্মিত ফাঁপা নালিকা),
২. মাইক্রোফিলামেন্ট বা অ্যাকটিন ফিলামেন্ট (অ্যাকটিন প্রোটিন নির্মিত নিরেট তন্তু), এবং
৩. ইন্টারমিডিয়েট ফিলামেন্ট (বিভিন্ন ধরনের আঁশযুক্ত প্রোটিন, যেমন- কেরাটিন নির্মিত)।
এসব তন্তু কোষের ভেতরে সুনির্দিষ্ট বিন্যাসের মাধ্যমে সাইটোপ্লাজমীয় কাঠামো বা কোষীয় কঙ্কাল তৈরি করে কোষের আকৃতি বজায় রাখে ও দৃঢ়তা প্রদান করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথম অংশে উল্লিখিত 'আত্মঘাতী থলিকা' (Suicidal bag) হিসেবে পরিচিত কোষীয় অঙ্গাণুটি হলো লাইসোজোম। নিচে লাইসোজোমের ভৌত ও রাসায়নিক গঠন বর্ণনা করা হলো:
১. ভৌত গঠন:
(ক) আকার ও আকৃতি: লাইসোজোম সাধারণত বৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার থলির মতো অঙ্গাণু। এদের ব্যাস সাধারণত ০.২ থেকে ০.৮ মাইক্রোমিটার হয়ে থাকে।
(খ) একক পর্দা: প্রতিটি লাইসোজোম একটি লিপোপ্রোটিন নির্মিত দ্বিস্তরী একক পর্দা (Unit membrane) দ্বারা আবৃত থাকে। এই পর্দাটি লাইসোজোমের অভ্যন্তরীণ শক্তিশালী হাইড্রোলাইটিক এনজাইমগুলোকে সাইটোপ্লাজম থেকে পৃথক রাখে এবং স্ব-পরিপাক হতে কোষকে রক্ষা করে।
(গ) ম্যাট্রিক্স বা মাতৃকা: পর্দার অভ্যন্তরে একটি ঘন ও সমসত্ত্ব দানাদার তরল ম্যাট্রিক্স থাকে।
(ঘ) পলিমরফিজম বা বহুরূপিতা: কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে লাইসোজোম চার রূপে দেখা যায়— প্রাথমিক লাইসোজোম, গৌণ লাইসোজোম (ফ্যাগোলাইসোজোম), অবশিষ্ট কায় (রেসিডুয়াল বডি) এবং অটোফ্যাজিক ভ্যাকুওল।২. রাসায়নিক গঠন:
লাইসোজোমের অভ্যন্তরে প্রায় ৪০-৫০ ধরনের ক্ষারীয় বা অম্লীয় আর্দ্রবিশ্লেষক (হাইড্রোলাইটিক) এনজাইম থাকে। এর মধ্যে অ্যাসিড ফসফেটেজ, রাইবোনিউক্লিয়েজ, ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিয়েজ, প্রোটিয়েজ, লাইপেজ ইত্যাদি প্রধান। এর আবরণীতে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল ও স্পিংগোমায়োলিন থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে বর্ণিত অঙ্গাণুটি হলো রাইবোসোম, যাকে 'সার্বজনীন অঙ্গাণু' এবং 'আবরণীহীন অঙ্গাণু' বলা হয়েছে। নিম্নে মন্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সার্বজনীন অঙ্গাণু হিসেবে তাৎপর্য:
রাইবোসোমকে জীবকোষের সার্বজনীন অঙ্গাণু বলা হয়, কারণ এটি সমস্ত জীবিত কোষে বিদ্যমান। আদি কোষ (Prokaryotic cell) যেমন ব্যাকটেরিয়া এবং প্রকৃত কোষ (Eukaryotic cell) যেমন উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষ—উভয় ধরনের কোষেই রাইবোসোম উপস্থিত থাকে। অন্য কোনো অঙ্গাণু (যেমন—মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, গলগি বস্তু ইত্যাদি) আদিকোষে পাওয়া যায় না, কিন্তু রাইবোসোম আদিকোষে ৭০S এবং প্রকৃত কোষে ৮০S রূপে সাইটোপ্লাজমে বা অঙ্গাণুর ভেতরে (মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট) অপরিহার্যভাবে পাওয়া যায়।২. আবরণীবিহীন অঙ্গাণু হিসেবে তাৎপর্য:
কোষের অন্যান্য অধিকাংশ অঙ্গাণু লিপিড ও প্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত একক বা দ্বিস্তরী পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। কিন্তু রাইবোসোম কোনো জৈব ঝিল্লি বা আবরণী দ্বারা বেষ্টিত থাকে না। এটি মূলত রাইবোসোমাল আরএনএ (rRNA) এবং বিভিন্ন মৌলিক প্রোটিনের (রাইবোনিউক্লিওপ্রোটিন কণা) সমষ্টি। পর্দা না থাকায় এটি সাইটোপ্লাজমে মুক্তভাবে ছড়ানো থাকতে পারে বা এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের গায়ে যুক্ত হতে পারে।৩. শারীরবৃত্তীয় গুরুত্ব:
রাইবোসোম হলো কোষের প্রোটিন তৈরির কারখানা (Protein factory)। জীবনের মূল ভিত্তি হলো প্রোটিন ও এনজাইম সংশ্লেষণ। সার্বজনীন ও পর্দাশূন্য গঠন বৈশিষ্ট্যের কারণেই এটি দ্রুত এমআরএনএ (mRNA) ও টিআরএনএ (tRNA)-র সাথে সংযোগ ঘটিয়ে ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়ায় প্রোটিন তৈরি করতে পারে।অতএব, আদি ও প্রকৃত সকল কোষে অবস্থান এবং কোনো আবরণী না থাকা সত্ত্বেও প্রোটিন সংশ্লেষণের মতো মৌলিক দায়িত্ব পালন করায় রাইবোসোম সম্পর্কে করা মন্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও