‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

জাইমা ও আফিফা দ্বাদশ শ্রেণির মানবিকের ছাত্রী। তাদের শিক্ষক ক্লাসে বললেন, "বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে একটি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত। প্রতিষ্ঠান আছে। উক্ত প্রতিষ্ঠানে ১ জন চেয়ারম্যান, ৯ জন সদস্য, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য এবং ১ জন সচিব আছেন।"

  1. ক)

    NGO-এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় উক্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    NGO-এর পূর্ণরূপ হলো Non-Governmental Organization (বেসরকারি সংস্থা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানীয় এলাকার শাসন পরিচালনার জন্য স্থানীয় জনসাধারণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত স্বশাসিত প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন (Local Self-Government) বলে। এ ব্যবস্থার সদস্যরা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে স্থানীয় নীতি নির্ধারণ, কর ধার্য এবং উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করেন। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ইত্যাদি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের উদাহরণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ জন চেয়ারম্যান, ৯ জন সাধারণ সদস্য এবং ৩ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্যবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি হলো 'ইউনিয়ন পরিষদ'। এটি গ্রামীণ স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান। ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ নিম্নরূপ:

    ১. তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর গণতন্ত্র ও স্থানীয় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
    ২. গ্রামীণ অবকাঠামো ও সার্বিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন সাধন করা।
    ৩. স্থানীয় পর্যায়ের জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধান, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার বিস্তার নিশ্চিত করা।
    ৪. স্থানীয় বিরোধের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করে গ্রামীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
    ৫. কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা ও কর্মসূচি সফলভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হলো ইউনিয়ন পরিষদ। তৃণমূল বা গ্রামীণ পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ও তা শক্তিশালীকরণে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যাবলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ভোটাধিকার প্রয়োগ ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গ্রামীণ জনগণ প্রত্যক্ষভাবে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচন করে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও ভোটাধিকারের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়, যা গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।
    ২. স্থানীয় নেতৃত্ব তৈরি: ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব বিকাশের প্রাথমিক পাঠশালা হিসেবে কাজ করে। সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের নেতারা এখান থেকেই নেতৃত্বদানের অভিজ্ঞতা অর্জন করে পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে অবদান রাখেন।
    ৩. নারীর ক্ষমতায়ন: ইউনিয়ন পরিষদে ৩টি ওয়ার্ডের জন্য ১ জন করে মোট ৩ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের রাজনীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়, যা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে সহায়ক।
    ৪. স্থানীয় স্বশাসন ও জনগণের অংশগ্রহণ: ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়নে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ঘটে। এতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
    ৫. ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা ইউনিয়ন পরিষদের রয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে আইনের শাসন ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।

    সুতরাং, তৃণমূল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটিয়ে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গঠনে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যাবলি অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন