‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষার দাবী প্রথম কে উত্থাপন করেন?

    (1)
  2. খ)

    তমুদ্দুন মজলিস সম্পর্কে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে তোমার পঠিত কোন সালে নির্বাচনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উক্ত নির্বাচনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষার দাবি প্রথম উত্থাপন করেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তমুদ্দুন মজলিস হলো ভাষা আন্দোলনের সূচনাপর্বে গঠিত একটি নেতৃস্থানীয় ইসলামি সাংস্কৃতিক সংগঠন। ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?' শীর্ষক একটি ঐতিহাসিক পুস্তিকা প্রকাশ করে, যা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠার পেছনে বুদ্ধিবৃত্তিক ও আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    উদ্দীপকের ছকে '২১ দফা কর্মসূচি', 'যুক্তফ্রন্ট ২২৪টি আসন' এবং 'সরকারি দল ৯টি আসন' উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে পূর্ব বাংলায় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী দলগুলো (আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল) একত্রিত হয়ে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ঐতিহাসিক '২১ দফা কর্মসূচি'। নির্বাচনে মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে মুসলিম সংরক্ষিত ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি (পরবর্তীতে স্বতন্ত্র সদস্য যুক্ত হয়ে ২২৪টি) আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। অপরদিকে তৎকালীন সরকারি বা ক্ষমতাসীন দল মুসলিম লীগ চরম ভরাডুবি বরণ করে মাত্র ৯টি আসন পায়। উদ্দীপকের এই তথ্যগুলো সরাসরি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ফলাফল ও প্রেক্ষাপটকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম ও সুদূরপ্রসারী। নিচে এর গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:

    ১. মুসলিম লীগের একাধিপত্যের অবসান: পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই শাসক দল মুসলিম লীগ পূর্ব বাংলার জনগণের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য চাপিয়ে আসছিল। এ নির্বাচনের মাধ্যমে দলটির চরম রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটে এবং পূর্ব বাংলায় তাদের একাধিপত্যের চিরতরে অবসান হয়।

    ২. বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ: ১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার এক ঐতিহাসিক বহিঃপ্রকাশ। ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে যুক্তফ্রন্টের বিজয় প্রমাণ করে যে ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে বাঙালিরা নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন।

    ৩. ২১ দফার প্রতিফলন: যুক্তফ্রন্টের ২১ দফায় পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা, কৃষকদের খাজনা মওকুফ এবং জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণমুখী দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা পরবর্তী সকল আন্দোলনের ভিত্তি রচনা করেছিল।

    ৪. তরুণ নেতৃত্বের বিকাশ: এ নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বহু প্রগতিশীল ও তরুণ বাঙালি নেতা রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ও প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।

    পরিশেষে বলা যায়, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালিদের প্রথম গণতান্ত্রিক ব্যালট বিপ্লব, যা পরবর্তীকালে ১৯৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন