যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

রুনা বাসায় ঢোকার সাথে সাথেই তার নাকে সুগন্ধ লাগে। সে ভেতরের কক্ষে প্রবেশ করে দেখল তার মামা এসেছে। কিছুক্ষণ পর মামা চলে যাওয়ায় রুনা আর সুগন্ধ পাচ্ছিল না। তখন সে সিদ্ধান্ত নিল, মামাই ছিল সুগন্ধের কারণ।

  1. ক)

    পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি কত প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    কাকতালীয় অনুপপত্তি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে পরীক্ষণমূলক কোন পদ্ধতিটি ফুটে উঠেছে?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে প্রকাশিত পদ্ধতিটির সুবিধা আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে পরীক্ষনাত্মক পদ্ধতি পাঁচ প্রকার।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কার্যকারণ সম্পর্কের বিচার না করে কেবল পূর্ববর্তী ঘটনাকে পরবর্তী ঘটনার কারণ বলে মনে করার কারণে যে অনুপপত্তি বা যুক্তিদোষ ঘটে, তাকে কাকতালীয় অনুপপত্তি (Post hoc ergo propter hoc) বলে। যেমন— আকাশে ধূমকেতু ওঠার পরেই রাজার মৃত্যু হওয়ায় ধূমকেতুকে মৃত্যুর কারণ মনে করা কাকতালীয় অনুপপত্তির উদাহরণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মিলের পরীক্ষনাত্মক পদ্ধতির মধ্যে 'ব্যতিরেকী পদ্ধতি' (Method of Difference) ফুটে উঠেছে।

    ব্যতিরেকী পদ্ধতির মূল কথা হলো— যদি আলোচ্য ঘটনাযুক্ত একটি দৃষ্টান্ত এবং ঘটনামুক্ত অপর একটি দৃষ্টান্তের মধ্যে একটি পরিস্থিতি ছাড়া বাকি সব বিষয়ে সাদৃশ্য থাকে, তবে যে পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, সেটিই আলোচ্য ঘটনার কার্য বা কারণ বা কারণের অপরিহার্য অংশ।

    উদ্দীপকে রুনা দেখল: মামা উপস্থিত থাকা অবস্থায় সুগন্ধ আছে (সদর্থক দৃষ্টান্ত), কিন্তু মামা চলে যাওয়ার পর সুগন্ধ আর নেই (নঞর্থক দৃষ্টান্ত)। অর্থাৎ মামার উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির সাথেই সুগন্ধের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির পার্থক্য ঘটেছে। এই দুটি দৃষ্টান্তের পার্থক্যের ভিত্তিতে মামাকে সুগন্ধের কারণ ধরা হয়েছে, যা স্পষ্টতই ব্যতিরেকী পদ্ধতির রূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রকাশিত পদ্ধতিটি হলো 'ব্যতিরেকী পদ্ধতি'। পরীক্ষনাত্মক পদ্ধতিগুলোর মধ্যে ব্যতিরেকী পদ্ধতির গুরুত্ব অপরিসীম। এর প্রধান সুবিধাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. নিশ্চিত কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়: ব্যতিরেকী পদ্ধতি পরীক্ষণের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এর সাহায্যে অত্যন্ত নিশ্চিতভাবে কারণ ও কার্যের সম্পর্ক প্রমাণ করা যায়।
    ২. অতি সংক্ষিপ্ত ও কার্যকর: কার্যকারণ নির্ণয়ে মাত্র দুটি দৃষ্টান্তের (একটি সদর্থক ও একটি নঞর্থক) প্রয়োজন হয়। ফলে অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় কম সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।
    ৩. নির্ভরযোগ্যতা: কেবল পর্যবেক্ষণের চেয়ে নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষণে এই পদ্ধতি চমৎকার কাজ করে। সেজন্য একে বিজ্ঞানের সবচেয়ে নিখুঁত প্রমাণ পদ্ধতি বলা হয়।
    ৪. প্রকৃতির অপনয়ন নিয়ম কার্যকর: ব্যতিরেকী পদ্ধতিতে মিলের অপনয়নের দ্বিতীয় সূত্র সঠিকভাবে প্রয়োগ করে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় সহজে বর্জন করা যায়।

    তবে এ পদ্ধতিতে অসতর্কভাবে কারণ নির্ধারণ করলে অনুপপত্তি (যেমন কাকতালীয় অনুপপত্তি) ঘটার আশঙ্কা থাকে, তবুও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এটি একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও ফলপ্রসূ পদ্ধতি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন