সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
ডাক্তার সামিন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাকরি করেন। ১৮৬৩ সালে দুটি দেশের যুদ্ধের ভয়াবহ অবস্থা দেখে যুবক "ক" এ সংস্থাটি গঠন করেন। ত্রাণ ও পুনর্বাসন, দুর্যোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম, দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র, স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ, রক্তদান কর্মসূচি, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে সংস্থাটি বাংলাদেশের সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। এ ভূমিকার জন্য সংস্থাটি একাধিকবার নোবেল পুরস্কার লাভ করে।
- ক)(1)
UNICEF এর পূর্ণরূপ লেখো।
- খ)(2)
আন্তর্জাতিক সংস্থা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বাংলাদেশের সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রমের সাথে জড়িত। কোন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের উন্নয়নে সংস্থাটির কার্যক্রম মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
UNICEF-এর পূর্ণরূপ হলো 'United Nations International Children's Emergency Fund' (বর্তমানে এর আনুষ্ঠানিক নাম 'United Nations Children's Fund')।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব সংস্থা কোনো নির্দিষ্ট একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে একাধিক দেশ বা বিশ্বব্যাপী মানবতার কল্যাণ, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করে, সেগুলোকে আন্তর্জাতিক সংস্থা বলা হয়। যেমন- জাতিসংঘ, রেড ক্রস ইত্যাদি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রমের সাথে জড়িত আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে ‘রেড ক্রস’ বা ‘রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’ (বাংলাদেশে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।
১৮৫৯ সালে ইতালি ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে সংঘটিত সলফেরিনোর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি স্বচক্ষে দেখে সুইস সমাজসেবক জঁ হেনরি ডুনান্ট গভীরভাবে ব্যথিত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮৬৩ সালে তিনি যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা ও মানবতার সেবায় ‘আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি’ (ICRC) প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্থাটি তার অসাধারণ মানবকল্যাণমূলক ভূমিকার জন্য এ পর্যন্ত তিনবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ১৮৬৩ সালে যুবক 'ক' (জঁ হেনরি ডুনান্ট) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সংস্থা, যুদ্ধাহত ও দুর্গতদের সেবা, আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন, রক্তদান এবং একাধিকবার নোবেল প্রাপ্তির ইতিহাস স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস/রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দিকে নির্দেশ করে। বাংলাদেশে এই সংস্থাটি 'বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি' নামে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ত্রাণ, পুনর্বাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও রক্তদানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের সামগ্রিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সমাজ উন্নয়নে রেড ক্রস তথা বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর ও প্রশংসনীয়। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো:
১. দুর্যোগকালীন ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম: বাংলাদেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা অগ্নিকাণ্ডের মতো প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট যেকোনো দুর্যোগে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকরা প্রথম সাড়াদানকারী হিসেবে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার ও শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি জীবনরক্ষাকারী সামগ্রী বিতরণ করে।
২. সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (CPP): উপকূলীয় অঞ্চলসমূহে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষকে আগাম সতর্কবার্তা প্রদান এবং সাইক্লোন শেল্টারে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সংস্থাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
৩. রক্তদান কার্যক্রম ও ব্লাড ব্যাংক: বাংলাদেশে নিরাপদ ও বিনামূল্যে রক্ত সংগ্রহ এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে রেড ক্রিসেন্ট ব্লাড ব্যাংক এক অনন্য অবদান রাখছে।
৪. স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাথমিক চিকিৎসা: সংস্থাটি দেশব্যাপী মাতৃসদন, সাধারণ হাসপাতাল ও ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগণকে প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে।
৫. পুনর্বাসন ও যুব উন্নয়ন: দুর্যোগ-পরবর্তী ঘরবাড়ি নির্মাণ, জীবিকায়ন সহায়তা এবং যুব সমাজকে সমাজসেবায় নিয়োজিত করতে যুব রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট গঠন করে তাদের নেতৃত্ব ও মানবিক গুণে দক্ষ করে গড়ে তুলছে।পরিশেষে বলা যায়, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশের অসহায় ও দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের টেকসই উন্নয়নে অনন্য অবদান রেখে চলেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও