বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

রেদওয়ান তরুণ প্রতিভাবান কবি-সাহিত্যিক হিসেবে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছে। যদিও আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে সে জীবন-যাপন করছে, তবু সে কখনও নিজেকে দরিদ্র মনে করে না। কেননা সে জানে, তার চিন্তা-চেতনার রাজ্যে সে নিজেই সম্রাট। আপন চেতনালোকে সে লালন করে ভিন্ন এক পৃথিবী; যেখানে রূপ-সৌন্দর্য ও মাধুর্যে সে হয় অভিভূত। আর সেই রূপ-সৌন্দর্য এবং মাধুর্যেই তরুণ কবি রেদওয়ান সৃষ্টি করে তার প্রতিটি কবিতা।

  1. ক)

    বনচারী বাতাসের তালে কী দোলে?

    (1)
  2. খ)

    কবির চেতনার মণি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'লোক-লোকান্তর' কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকটিতে যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে তা 'লোক-লোকান্তর' কবিতার সার্বিক বিষয় নয়"- যুক্তিপূর্ণ মতামত দিয়ে বুঝিয়ে দাও।।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বনচারী বাতাসের তালে সুপারি গাছের চারা দোলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কবির চেতনায় নতুন কাব্যপ্রেরণা ও শিল্পসৌন্দর্যের উপলব্ধির স্ফুরণ ঘটায় তাঁর চেতনার মণি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

    'লোক-লোকান্তর' কবিতায় কবি তাঁর চেতনাকে একটি সাদা পাখির রূপকে তুলে ধরেছেন। কবি যখন জাগতিক সংকীর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে শিল্প ও প্রকৃতির অনন্ত সৌন্দর্যের গভীরে নিমগ্ন হন, তখন তাঁর সৃজনশীল বোধ প্রখর হয়ে ওঠে এবং তিনি কবিতার রূপকার্থে নিজেকে আবিষ্কার করেন। এই নান্দনিক সৃষ্টিশীলতাই কবির চেতনার মণিকে দীপ্তিমান করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'লোক-লোকান্তর' কবিতার কবির অন্তর্জগতের শিল্পচেতনা ও রূপ-সৌন্দর্যের অনন্য অনুভূতির দিকটি ফুটে উঠেছে।

    'লোক-লোকান্তর' কবিতায় কবি আল মাহমুদ তাঁর আত্মজৈবনিক অনুভূতি ও চেতনার স্বরূপ প্রকাশ করেছেন। কবি পার্থিব জগতের দুঃখ-কষ্ট ও বাস্তবতাকে ছাপিয়ে নিজের চেতনালোকে কাব্যসৃষ্টির এক অপার আনন্দময় জগৎ রচনা করেন। সেখানে তিনি তাঁর কবিসত্তার ভেতর এক পরম সৌন্দর্য ও শক্তির প্রকাশ দেখতে পান।

    উদ্দীপকের কবি রেদওয়ানও চরম আর্থিক অনটনে থাকলেও নিজেকে দরিদ্র মনে করে না; বরং নিজের চিন্তাভাবনার রাজ্যে সে একজন স্বাধীন সম্রাট। তার সৃষ্টিশীল চেতনার সেই ভিন্ন জগৎ রূপ, সৌন্দর্য ও মাধুর্যে পরিপূর্ণ, যার অনুপ্রেরণায় সে কবিতা রচনা করে। কবির এই নিজস্ব ভাবলোক ও সৃজনশীলতার দিকটিই 'লোক-লোকান্তর' কবিতার মূল ভাবের সাথে উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকটিতে যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে তা 'লোক-লোকান্তর' কবিতার সার্বিক বিষয় নয়"—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    'লোক-লোকান্তর' কবিতায় কবি কেবল নিজের চেতনালোকের কাব্যসৌন্দর্যই তুলে ধরেননি, বরং চেতনাকে চন্দনের ডালে বসা একটি রূপক শাদা পাখির সাথে তুলনা করে কাব্যসাধনার গভীরতা নির্দেশ করেছেন। কবিতায় প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গ—বুনো লতা, সুপারির চারা, বনচারী বাতাস এবং শিকারির লোভী চোখ বা তক্ষকের মতো পার্থিব বিপদ ও হিংস্রতার প্রতীকী প্রকাশ ঘটেছে। কবি দেখিয়েছেন কীভাবে পার্থিব লোভ-লালসা ও হিংসা কবির শিল্পচেতনাকে বিনষ্ট করতে চায়, তবু কবি লোক থেকে লোকান্তরে সেই রূপান্তরের ভেতর দিয়ে কাব্য সৃষ্টি করে চলেন।

    অপরদিকে, উদ্দীপকে তরুণ কবি রেদওয়ানের দারিদ্র্যের মধ্যেও মানসিক তৃপ্তি এবং রূপ-সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে কবিতা রচনার বিষয়টি কেবল একটি সাধারণ ভাব হিসেবে এসেছে। সেখানে আত্মমগ্ন কবির কল্পনালোকের আনন্দের উল্লেখ থাকলেও 'লোক-লোকান্তর' কবিতার রূপকধর্মিতা, সমাজ-বাস্তবতার হিংস্রতা ও শিল্পের প্রতি কবির যে সামগ্রিক নিবেদন এবং অস্তিত্বের সংকট—তা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি।

    সুতরাং, উদ্দীপকটি কবিতার চেতনার জগতটির আংশিক চিত্র তুলে ধরলেও কবিতার গভীর রূপক ও সার্বিক ভাবকে ধারণ করতে পারেনি। তাই বলা যায় মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন