জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
উগ্যামি কী?
- খ)(2)
হেটারোমরফিক জনুঃক্রম বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
চিত্র “M”-এর যৌন জনন বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের জীব দুটির মধ্যে কোনটি উন্নত— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে যৌন জনন প্রক্রিয়ায় একটি ক্ষুদ্র, সক্রিয় ও সচল পুংগ্যামেটের সাথে অপেক্ষাকৃত বৃহৎ, নিশ্চল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ স্ত্রীগ্যামেটের মিলন ঘটে, তাকে উগ্যামি (Oogamy) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো জীবের জীবনচক্রে হ্যাপ্লয়েড (গ্যামিটোফাইটিক) ও ডিপ্লয়েড (স্পোরোফাইটিক) জনু বা দশা দুটি যদি আকার, আকৃতি ও বাহ্যিক গঠনের দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের হয়, তবে সেই জনুঃক্রমকে হেটারোমরফিক জনুঃক্রম বলে। যেমন— ফার্ন (Pteris)-এর জীবনচক্রে স্পোরোফাইট উদ্ভিদটি মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত এবং দীর্ঘজীবী; অপরদিকে গ্যামিটোফাইট (প্রোথ্যালাস) ক্ষুদ্র, হৃৎপিণ্ডাকার ও স্বল্পজীবী। এদের বাহ্যিক গঠন ভিন্ন হওয়ায় এটি হেটারোমরফিক জনুঃক্রম।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র ‘M’ হলো শৈবাল ইউলোথ্রিক্স (Ulothrix)। নিচে ইউলোথ্রিক্সের যৌন জনন প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো:
১. গ্যামেট সৃষ্টি: ইউলোথ্রিক্সের যৌন জনন আইসোগ্যামাস প্রকৃতির। হোল্ডফাস্ট ব্যতীত উদ্ভিদের যেকোনো সাধারণ কোষ গ্যামেটানজিয়ামে রূপান্তরিত হয়। এর প্রোটোপ্লাস্ট মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে ৮, ১৬, ৩২ বা ৬৪টি ক্ষুদ্র গ্যামেট তৈরি করে। প্রতিটি গ্যামেট দ্বি-ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট এবং দেখতে নাশপাতি আকারের হয়।
২. গ্যামেট নির্গমন: গ্যামেটগুলো মাতৃকোষের প্রাচীরে একটি ছিদ্র সৃষ্টির মাধ্যমে একটি ভেসিকল বা থলিতে বের হয়ে আসে এবং থলি ফেটে গেলে পানিতে মুক্তভাবে সাঁতার কাটে।
৩. নিষেক বা সিনগ্যামি: ভিন্ন স্ট্রেইনের (+ ও -) দুটি বাহ্যিকভাবে সমরূপ দ্বি-ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট আইসোগ্যামেট পরস্পর মিলিত হয়ে একটি চতুর্-ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোস্পোর গঠন করে।
৪. জাইগোস্পোরের পরিণতি: জাইগোস্পোর কিছু সময় সাঁতার কাটার পর এর ফ্ল্যাজেলাগুলো বিনষ্ট হয় এবং এটি চারদিকে পুরু প্রাচীর তৈরি করে সুপ্তাবস্থায় বিশ্রাম নেয়। অনুকূল পরিবেশে এর নিউক্লিয়াসে মায়োসিস বিভাজন ঘটে এবং ৪টি হ্যাপ্লয়েড জুস্পোর (বা অ্যাপ্লানোস্পোর) তৈরি হয়, যা অঙ্কুরিত হয়ে নতুন হ্যাপ্লয়েড ইউলোথ্রিক্স ফিলামেন্ট গঠন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র ‘M’ হলো একটি থ্যালোফাইট শৈবাল (ইউলোথ্রিক্স বা Ulothrix) এবং চিত্র ‘N’ হলো একটি টেরিডোফাইট ফার্নের গ্যামিটোফাইট বা প্রোথ্যালাস (Pteris)। বিবর্তনীয় ও গঠনগত বৈশিষ্ট্যের বিশ্লেষণে চিত্র ‘N’-এর সংশ্লিষ্ট ফার্ন উদ্ভিদটি চিত্র ‘M’-এর শৈবালের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। নিম্নে এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. উদ্ভিদের দৈহিক গঠন: চিত্র ‘M’ (ইউলোথ্রিক্স) সমাঙ্গদেহী বা থ্যালয়েড প্রকৃতির; এর দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। পক্ষান্তরে, চিত্র ‘N’ যে ফার্ন উদ্ভিদের অংশ, তার প্রধান দেহটি একটি উন্নত স্পোরোফাইট, যা মূল, রাইজোম (রূপান্তরিত কাণ্ড) এবং পাতায় (ফ্রন্ড) সুনির্দিষ্টভাবে বিন্যস্ত।
২. পরিবহন তন্ত্র (Vascular system): ইউলোথ্রিক্স তথা শৈবালে কোনো সংবহন কলাতন্ত্র থাকে না। অপরদিকে ফার্ন হলো ভাস্কুলার ক্রিপ্টোগ্যামস; এদের দেহে জাইলেম ও ফ্লোয়েম সমন্বিত সুস্পষ্ট সংবহন তন্ত্র উপস্থিত।
৩. জনন অঙ্গের জটিলতা: ইউলোথ্রিক্সের জননাঙ্গ এককোষী এবং কোনো বন্ধ্যা আবরণী দ্বারা আবৃত নয়। অপরদিকে চিত্র ‘N’ প্রোথ্যালাসে গঠিত পুংজননাঙ্গ (অ্যান্থেরিডিয়াম) ও স্ত্রীজননাঙ্গ (আর্কিগোনিয়াম) উভয়ই বহুকোষী এবং বন্ধ্যা কোষাবরণী দ্বারা সুরক্ষিত।
৪. যৌন জননের প্রকৃতি: ইউলোথ্রিক্সের যৌন জনন মূলত আদিম প্রকৃতির আইসোগ্যামাস। কিন্তু ফার্নে উন্নত প্রকৃতির উগ্যামাস যৌন জনন সম্পন্ন হয়।
৫. জীবনচক্রের প্রধান দশা: শৈবালের প্রধান উদ্ভিদদেহটি হ্যাপ্লয়েড গ্যামিটোফাইট, কিন্তু ফার্নের প্রধান দেহটি ডিপ্লয়েড স্পোরোফাইট এবং এটি স্বাধীন ও দীর্ঘজীবী।
অতএব, দৈহিক গঠন, সংবহন তন্ত্র ও প্রজনন প্রক্রিয়ার জটিলতা বিবেচনায় চিত্র ‘N’ সংশ্লিষ্ট জীবটি (ফার্ন) চিত্র ‘M’ (শৈবাল)-এর চেয়ে স্পষ্টতই উন্নত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও