ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
শ্রীমাভো বন্দরনায়েক আধুনিক বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করার পর দেশ-বিদেশের কতিপয় অভিজাত শ্রেণির সমালোচনার মুখোমুখি হন। সমালোচকরা নারী বলে শ্রীমাভো। বন্দরনায়েককে শাসনকার্যে অনুপযোগী, অদক্ষ বলে অভিহিত করেন। কিন্তু নিজ মেধাগুণ, তেজস্বিতা আর কর্মদক্ষতায় শ্রীমাভো সকল বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি প্রতিহত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের উন্নতি করেন।
- ক)(1)
'বন্দেগান-ই-চেহেলগান' কে গঠন করেন?
- খ)(2)
ইলতুৎমিশ দাস রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে শ্রীমাভো বন্দরনায়েকের সাথে দিল্লি সালতানাতের কোন নারী শাসকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত নারী শাসকের কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুলতান শামসুদ্দীন ইলতুৎমিশ 'বন্দেগান-ই-চেহেলগান' বা চল্লিশ চক্র গঠন করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুলতান শামসুদ্দীন ইলতুৎমিশ ছিলেন দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা এবং দাস বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক। কুতুবউদ্দিন আইবেকের মৃত্যুর পর নবপ্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাম্রাজ্য যখন অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও বহিঃশত্রুর (যেমন- চেঙ্গিস খানের নেতৃত্বাধীন মোঙ্গলদের) তীব্র হুমকির মুখে পড়ে, তখন ইলতুৎমিশ তাঁর অসাধারণ সামরিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে সাম্রাজ্যকে সংহত ও সুরক্ষিত করেন। তিনি রৌপ্যমুদ্রা 'টঙ্কা' প্রবর্তন, ইকতা ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং বাগদাদের খলিফার স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে সালতানাতকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বলে তাঁকে দাস রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শ্রীমাভো বন্দরনায়েকের সাথে দিল্লি সালতানাতের প্রথম এবং একমাত্র নারী শাসক সুলতানা রাজিয়ার সাদৃশ্য রয়েছে।
সুলতানা রাজিয়া ছিলেন সুলতান ইলতুৎমিশের যোগ্য কন্যা। ১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণের পর তিনি তৎকালীন মধ্যযুগীয় পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং গোঁড়া উলেমা ও তুর্কি অভিজাতদের চরম বাধার সম্মুখীন হন। অভিজাতরা একজন নারীর কর্তৃত্ব মেনে নিতে অস্বীকার করে তাঁর বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
উদ্দীপকের শ্রীমাভো বন্দরনায়েকও ক্ষমতা গ্রহণের পর কতিপয় অভিজাত শ্রেণির বিরোধিতার মুখে পড়েন এবং নারী হওয়ার কারণে তাঁকে অনুপযোগী ও অদক্ষ বলা হয়। তবে রাজিয়া ও শ্রীমাভো বন্দরনায়েক উভয়েই নিজেদের মেধা, সাহস ও দৃঢ়তা দিয়ে প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে রাজ্য পরিচালনা করেছিলেন। এই প্রতিকূল সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি মোকাবিলা ও যোগ্য নেতৃত্বের দিক থেকে তাঁদের মধ্যে স্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে দিল্লি সালতানাতের শাসক সুলতানা রাজিয়ার কৃতিত্ব অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ।
সুলতানা রাজিয়া নিজ যোগ্যতা ও সাহসিকতার মাধ্যমে মধ্যযুগীয় মুসলিম ভারতের ইতিহাসে এক অনন্য স্থান অধিকার করেছিলেন। উদ্দীপকে যেমন শ্রীমাভো বন্দরনায়েক তাঁর মেধা, তেজস্বিতা ও কর্মদক্ষতায় বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করে সুশাসন কায়েম করেছিলেন, ঠিক তেমনি রাজিয়াও সিংহাসনে আরোহণ করে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি বোরকা ও পর্দা পরিত্যাগ করে পুরুষের পোশাকে দরবারে উপস্থিত হতেন, যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্য পরিচালনা করতেন এবং নিজ নামে মুদ্রা জারি করেন।
ঐতিহাসিক মিনহাজ-উস-সিরাজ তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন যে, রাজিয়া ছিলেন একজন মহান শাসক, বিচক্ষণ, ন্যায়পরায়ণ, প্রজাদরদি ও রণকৌশলী। তিনি যোগ্যতার ভিত্তিতে জামালউদ্দিন ইয়াকুতসহ অ-তুর্কি কর্মকর্তাদের উচ্চপদে নিয়োগ দিয়ে তুর্কি আমিরদের একচেটিয়া প্রভাব খর্ব করার চেষ্টা করেন এবং রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন। নারী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও দৃঢ় শাসন পরিচালনা দিল্লি সালতানাতকে সাময়িকভাবে স্থিতিশীল করেছিল, যা তাঁর ঐতিহাসিক কৃতিত্বের সাক্ষ্য দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও