অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

শিল্পায়নের ভিত্তি মজবুত করা এবং অর্থনীতির অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে 'X' দেশের সরকার সম্প্রতি এক নতুন নীতি গ্রহণ করেছে। এ নীতির আওতায় সরকার বিদ্যুৎ খাতে ১৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পে বেসরকারি উদ্যোক্তা মনটেক্স গ্রুপ সরকারের সাথে আছে। অর্থনীতিবিদ জনাব অনীকের মতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সাথে নিয়ে সরকারের এ ধরনের প্রকল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।

  1. ক)

    বৃহৎ শিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    'আমদানি বিকল্প শিল্প বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে।'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রকল্পটি কী প্রকৃতির? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    অর্থনীতিবিদ জনাব অনীকের মতের যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব শিল্পে বিপুল পরিমাণ মূলধন বিনিয়োগ করা হয়, আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয় এবং অধিক সংখ্যক শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, সেগুলোকে বৃহৎ শিল্প বলে (যেমন: বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা, ভারী যন্ত্রপাতি শিল্প ইত্যাদি)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আমদানি বিকল্প শিল্প বলতে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত দ্রব্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই সমজাতীয় দ্রব্য উৎপাদনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাকে বোঝায়।

    আমদানি বিকল্প দ্রব্য দেশে উৎপাদিত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা স্থানীয়ভাবেই পূরণ করা সম্ভব হয়। ফলে বিদেশ থেকে ওই পণ্য আমদানির প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পায় বা বন্ধ হয়। এর মাধ্যমে পূর্বে যে পরিমাণ মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আমদানির পেছনে ব্যয় হতো, তা সাশ্রয় হয় এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি (Public-Private Partnership - PPP) প্রকৃতির বৃহৎ অবকাঠামোগত শিল্প প্রকল্প।

    অর্থনীতির ভাষায়, যখন কোনো বৃহৎ বা অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকার এবং বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে মূলধন, কারিগরি দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনার সমন্বয় ঘটিয়ে কাজ করে, তখন তাকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) প্রকল্প বলা হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, 'X' দেশের সরকার বিদ্যুৎ খাতের অবকাঠামোগত ভিত্তি মজবুত করার জন্য ১৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রকল্পে সরকারের সাথে বেসরকারি উদ্যোক্তা হিসেবে 'মনটেক্স গ্রুপ' যুক্ত রয়েছে। সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পটি একটি সুস্পষ্ট সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বমূলক (PPP) প্রকল্প।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থনীতিবিদ জনাব অনীকের মতটি—বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সাথে নিয়ে সরকারের এ ধরনের প্রকল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে—সম্পূর্ণরূপে যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    যেকোনো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান পূর্বশর্ত হলো অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যার মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত অন্যতম। বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য বা সেবা খাতের বিকাশ অসম্ভব। তবে এ জাতীয় বৃহৎ প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ মূলধন ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়, যা এককভাবে সরকারের পক্ষে জোগাড় করা অনেক সময় দুরূহ হয়ে পড়ে।

    সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (PPP) মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে:
    ১. মূলধন ও প্রযুক্তির সমন্বয়: সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের আর্থিক সংস্থান ও কারিগরি দক্ষতা একত্রিত হয়ে প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুত ও দক্ষ হয়।
    ২. বিদ্যুৎ ঘাটতি দূরীকরণ: ১৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে, যা নতুন কলকারখানা স্থাপনে শিল্পোদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করবে।
    ৩. কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি: শিল্পায়নের গতি বাড়লে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়বে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
    ৪. সরকারি ঋণের চাপ হ্রাস: বেসরকারি বিনিয়োগের ফলে অবকাঠামো নির্মাণে সরকারের বৈদেশিক ঋণ বা বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে যায়।

    অতএব, বিদ্যুৎ খাতের মতো মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার ফলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেগবান হবে। তাই জনাব অনীকের মন্তব্যটি অত্যন্ত যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন