যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল নেপালে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। যার ফলে দেশটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। এর কারণ হিসেবে সেখানকার ধর্মপ্রাণ মানুষেরা বলেছেন, দেবতার অসন্তুষ্টির কারণে এমনটি হয়েছে।দৃশ্যকল্প-২: সলিল রবিকে চন্দ্রগ্রহণের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বললো যে, সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ নিজ নিজ কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করার সময় যখন একটি সমান্তরাল রেখায় এসে পড়ে, তখনই পৃথিবীর ছায়ার মধ্য দিয়ে চাঁদকে অতিক্রম করতে হয় বলে চন্দ্রগ্রহণ হয়।

  1. ক)

    ব্যাখ্যা কত প্রকার ও কী কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্যাখ্যা আপেক্ষিক হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ যে ব্যাখ্যার ধারণা পাওয়া যায়—তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত ব্যাখ্যার মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ্যা অনুসারে ব্যাখ্যা প্রধানত দুই প্রকার: লৌকিক ব্যাখ্যা এবং বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যাখ্যা ব্যক্তিবিশেষের জ্ঞান, বুদ্ধিবৃত্তি, দৃষ্টিভঙ্গি ও সময়ের পার্থক্যের কারণে পরিবর্তিত হয় বলে ব্যাখ্যাকে আপেক্ষিক বলা হয়। কোনো একটি জটিল ঘটনা সাধারণ মানুষের কাছে একভাবে এবং বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তির কাছে অন্যভাবে প্রতিভাত হতে পারে। এছাড়া জ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে অতীতের কোনো ব্যাখ্যা বাতিল হয়ে নতুন ও অধিকতর গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তাই ব্যাখ্যা সার্বজনীন বা স্থির নয়, বরং আপেক্ষিক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ 'লৌকিক ব্যাখ্যা'র ধারণা পাওয়া যায়।

    কোনো ঘটনার পেছনের অন্তর্নিহিত প্রাকৃতিক বা বৈজ্ঞানিক কার্যকারণ সম্পর্ক অনুসন্ধান না করে কেবল বাহ্যিক সাদৃশ্য, অন্ধবিশ্বাস, অতিপ্রাকৃতিক শক্তি বা অদৃশ্য দেবতার ওপর ভিত্তি করে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে।

    দৃশ্যকল্প-১ এ ২০১৫ সালের নেপালের প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্পকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি (যেমন: টেকটোনিক প্লেটের স্থানচ্যুতি) থেকে বিবেচনা না করে ধর্মপ্রাণ মানুষেরা 'দেবতার অসন্তুষ্টি'কে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অদৃশ্য বা অতিপ্রাকৃতিক শক্তির সাহায্যে এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ব্যাখ্যা প্রদান সম্পূর্ণভাবে লৌকিক ব্যাখ্যার পরিচয় বহন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ লৌকিক ব্যাখ্যা এবং দৃশ্যকল্প-২ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার প্রতিফলন ঘটেছে। এ দুটি ব্যাখ্যার তুলনামূলক আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. ভিত্তি ও স্বরূপ: দৃশ্যকল্প-১ এর লৌকিক ব্যাখ্যা অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার ও অলৌকিক শক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে দৃশ্যকল্প-২ এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রাকৃতিক নিয়ম, বাস্তব কার্যকারণ সম্পর্ক এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের সুনির্দিষ্ট নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

    ২. পরীক্ষণ ও যাচাইযোগ্যতা: দৃশ্যকল্প-১ এ দেবতার অসন্তুষ্টির কোনো বাস্তব পরীক্ষণ বা নিরীক্ষণ সম্ভব নয়, এটি যাচাইযোগ্য নয়। কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ এ পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের নির্দিষ্ট কক্ষপথ এবং আলোর সরলরৈখিক গতির ফলে ছায়া সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণযোগ্য।

    ৩. সার্বজনীনতা ও নিশ্চিততা: লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয় এবং এর কোনো নির্দিষ্ট সার্বজনীন ভিত্তি নেই। পক্ষান্তরে, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সার্বজনীন, সুনির্দিষ্ট ও সকলের জন্য সমানভাবে সত্য।

    ৪. জটিলতা দূরীকরণ: দৃশ্যকল্প-২ চন্দ্রগ্রহণের পেছনের জটিল ও অস্পষ্ট ধারণাকে প্রাকৃতিক নিয়মের সাথে সংযুক্ত করে স্পষ্ট ও সহজবোধ্য করে তোলে। কিন্তু দৃশ্যকল্প-১ ভূমিকম্পের মতো ঘটনাকে আরও রহস্যময় ও ভীতিপ্রদ করে তোলে।

    অতএব, দৃশ্যকল্প-১ অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক লৌকিক ব্যাখ্যাকে নির্দেশ করে, যেখানে দৃশ্যকল্প-২ যুক্তিসিদ্ধ, প্রমাণিত ও সুসংগত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন