অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রতিটি দেশের অর্থনীতিতে পরিকল্পনার গুরুত্ব অনেক। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো দারিদ্র্য বিমোচনসহ দেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা। ইতোমধ্যেই সকল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সরকার দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার সফলতা অর্জন করেছে।
- ক)(1)
অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কী?
- খ)(2)
সুষ্ঠু পরিকল্পনা উন্নয়নে সহায়ক ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত রূপকল্পটি কোন পরিকল্পনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার উদ্দেশ্যসমূহ বর্ণনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নির্দিষ্ট কোনো সামাজিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে দেশের প্রাপ্তিসাধ্য সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুচিন্তিত রূপরেখাই হলো অর্থনৈতিক পরিকল্পনা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সুষ্ঠু পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
যে কোনো দেশের সম্পদ সীমিত। এই সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও জাতীয় আয় বাড়াতে একটি বাস্তবমুখী ও সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়, অগ্রাধিকার অনুযায়ী খাতসমূহে (যেমন—কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো) বিনিয়োগ বণ্টন করা যায় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দ্রুত ও দক্ষতার সাথে অর্জন করা যায়। তাই সুষ্ঠু পরিকল্পনা অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবসময় সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'রূপকল্প ২০২১' দীর্ঘমেয়াদি বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনাকে (Perspective Plan) নির্দেশ করে।
অর্থনীতিতে সময় বা মেয়াদের ভিত্তিতে পরিকল্পনাকে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় ভাগ করা হয়। সাধারণত ১০ থেকে ২০ বা তদূর্ধ্ব বছর মেয়াদের জন্য যে দূরদর্শী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, তাকে দীর্ঘমেয়াদি বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বলা হয়। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য থাকে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতি ও সমাজে কাঠামোগত রূপান্তর আনা।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'রূপকল্প ২০২১' ছিল ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের সময়ে (২০২১ সালে) বাংলাদেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত এবং একটি ডিজিটাল ও মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা। সুতরাং, মেয়াদের দিক থেকে এটি স্পষ্টভাবে দীর্ঘমেয়াদি বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনাকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১–২০১৫) ছিল রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের প্রথম কৌশলগত ধাপ। এর প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন: পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার শেষ নাগাদ ৮ শতাংশে উন্নীত করা।
২. দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস: দেশের দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করে চরম দারিদ্র্য দূর করা এবং আয়বৈষম্য কমিয়ে আনা।
৩. ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি: ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তির জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, বিশেষ করে উৎপাদনশীল খাতে নতুন কর্মসংস্থান বাড়ানো।
৪. কৃষি খাতের আধুনিকায়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা: কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা এবং সবার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৫. মানবসম্পদ উন্নয়ন: গুণগত শিক্ষা বিস্তার, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে মানবসম্পদকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা।
৬. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকট দূর করে জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ করা, যা শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের গতি বৃদ্ধি করে।
৭. পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা: টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ সহনশীল সক্ষমতা গড়ে তোলা।
পরিশেষে বলা যায়, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার এসব উদ্দেশ্য সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার ভিত রচিত হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও