‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

বিশিষ্ট সাংবাদিক জনাব কৌশিক খান টিভি টকশোতে বললেন, “প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর ভাষার প্রতি সবার সম্মান থাকা উচিত। কারণ, পাকিস্তান স্বাধীন হবার পর ভাষার স্বীকৃতি না দেওয়ার কারণে আন্দোলন হয়। সে আন্দোলনে সালাম, রফিক ও অন্যরা মৃত্যুবরণ করে।”

  1. ক)

    পাকিস্তানের সংবিধান কখন রচিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ঘটনার তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ রচিত ও কার্যকর হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা (যার আনুষ্ঠানিক নাম ছিল 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য') হলো ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক দায়েরকৃত একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জন বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভারতের সহায়তায় সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ঘটনাটি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এ আন্দোলনের প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে নিচে বর্ণনা করা হলো:
    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির সময় মোট জনসংখ্যার ৫৬% ছিল বাঙালি এবং তাদের মাতৃভাষা ছিল বাংলা। কিন্তু পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী শুরু থেকেই উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র শুরু করে। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় ঘোষণা করেন যে, 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা'। এতে পূর্ব বাংলার ছাত্র-সমাজ ও বুদ্ধিজীবীরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে ১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন পুনরায় উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে অসন্তোষ চরমে পৌঁছায়। এর ফলে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি সাধারণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য বাঙালি জাতির ইতিহাসে অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী।
    ১. জাতীয়তাবাদের উন্মেষ: ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের বিপরীতে ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের শক্ত ভিত্তি রচিত হয়।
    ২. অধিকার সচেতনতা ও বিজয়: সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ শহীদদের আত্মত্যাগের ফলে পাকিস্তান সরকার ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
    ৩. পরবর্তী আন্দোলনের প্রেরণা: এ আন্দোলন বাঙালিদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস যোগায়, যা ক্রমান্বয়ে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
    ৪. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: বাংলা ভাষার জন্য এই আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে।
    অতএব, ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার মর্যাদার লড়াই ছিল না, এটি ছিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রথম মাইলফলক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন