অর্থনীতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:চিত্রে প্রদর্শিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যাংক হার, নগদ রিজার্ভ অনুপাত, সরকারি ব্যয় ও কর হার পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

- ক)(1)
সূচক সংখ্যা কী?
- খ)(2)
"মুদ্রাস্ফীতি সর্বদা খারাপ নয়"-ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্রে কোন ধরনের মুদ্রাস্ফীতি দেখানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
চিত্রে প্রদর্শিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারের পদক্ষেপগুলো মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভিত্তি বছরের সাপেক্ষে চলতি বছরে অর্থনৈতিক কোনো চলকের (যেমন: দামস্তর, জীবনযাত্রার ব্যয় বা উৎপাদন) আপেক্ষিক পরিবর্তনের পরিমাপক সংখ্যাকে সূচক সংখ্যা (Index Number) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৃদু বা পরিমিত মুদ্রাস্ফীতি অর্থনীতির জন্য সহায়ক এবং উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে বলে মুদ্রাস্ফীতি সর্বদা খারাপ নয়।
অর্থনীতিতে হালকা মুদ্রাস্ফীতি (সাধারণত বার্ষিক ২%-৪% বা মৃদু মুদ্রাস্ফীতি) বিরাজ করলে উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ভালো দাম ও বাড়তি মুনাফার প্রত্যাশা করে। এর ফলে তারা নতুন নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হয়, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। তবে অতিরিক্ত বা উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে। তাই মৃদু মুদ্রাস্ফীতি ক্ষতিকর না হয়ে বরং অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে 'চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি' (Demand-Pull Inflation) দেখানো হয়েছে।
যখন সামগ্রিক যোগান স্থির থাকা অবস্থায় কোনো কারণে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং এর প্রভাবে সাধারণ দামস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখন তাকে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলে।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যায়, সামগ্রিক যোগান রেখা AS লম্ব অক্ষের সমান্তরাল বা স্থির (পূর্ণ নিয়োগ স্তরে Y₁ জাতীয় আয়ে নির্দিষ্ট)। প্রাথমিক সামগ্রিক চাহিদা রেখা AD₁ সামগ্রিক যোগান রেখা AS-কে E বিন্দুতে ছেদ করে, যেখানে দামস্তর নির্ধারিত হয় P₁। পরবর্তীতে সামগ্রিক যোগান স্থির থাকা অবস্থায় কোনো কারণে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে AD₁ থেকে ডানদিকে স্থানান্তরিত হয়ে AD₂ হয়। নতুন ভারসাম্য বিন্দু F-এ দামস্তর বৃদ্ধি পেয়ে P₁ থেকে P₂ হয়। যেহেতু এখানে পূর্ণ নিয়োগ অবস্থায় সামগ্রিক যোগান স্থির থেকে কেবল সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই দামস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই এটি চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত আর্থিক নীতি ও রাজস্ব নীতির পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত কার্যকর ও যৌক্তিক। নিচে এগুলোর মূল্যায়ন করা হলো:
১. ব্যাংক হার বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে দেওয়া ঋণের সুদের হার বা ব্যাংক হার বৃদ্ধি করে, তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও তাদের গ্রাহকদের জন্য ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি পায়, জনগণ ও ব্যবসায়ীরা ঋণ গ্রহণে নিরুৎসাহিত হয় এবং বাজারে অর্থের সরবরাহ ও সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পেয়ে দামস্তর নিয়ন্ত্রণে আসে।
২. নগদ রিজার্ভ অনুপাত (CRR) বৃদ্ধি: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের যে নির্দিষ্ট অংশ বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়, তা হলো নগদ রিজার্ভ অনুপাত। এটি বৃদ্ধি পেলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদানের ক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে বাজারে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হয়ে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পায়।
৩. সরকারি ব্যয় হ্রাস: সরকার উন্নয়নমূলক বা অনুৎপাদনশীল ব্যয় সংকোচন করলে জনগণের হাতে অর্থের প্রবাহ সরাসরি কমে যায়। এতে ভোগ ও সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায়, যা মুদ্রাস্ফীতি রোধে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।
৪. কর হার বৃদ্ধি: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের হার বাড়ালে জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় হ্রাস পায়। ব্যয়যোগ্য আয় কমলে তারা ভোগব্যয় কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়, যা সামগ্রিক চাহিদাকে AD₂ থেকে পুনরায় AD₁-এর দিকে নামিয়ে এনে দামস্তর হ্রাস করতে সাহায্য করে।
সুতরাং, চিত্রে প্রদর্শিত চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি (ব্যাংক হার ও রিজার্ভ অনুপাত বৃদ্ধি) এবং সংকোচনমূলক রাজস্ব নীতি (সরকারি ব্যয় হ্রাস ও কর হার বৃদ্ধি) সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করা সম্পূর্ণ সঠিক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও