উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
মহিমা এম এ পাস করে মানসম্মত চাকরি না পেয়ে আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৫০ জন শ্রমিক ও ৫ কোটি টাকা স্থায়ী মূলধন নিয়ে নরসিংদীতে একটি হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠা করেন। তার তৈরি হস্তশিল্প সামগ্রী জনপ্রিয় হওয়ায় ব্যবসায়কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে তিনি সক্ষম হন।
- ক)(1)
ক্ষুদ্র শিল্প কী?
- খ)(2)
"উৎপাদনমাত্রা বাড়লে মুনাফার পরিমাণ বাড়ে"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মহিমার ব্যবসায়টি কোন ধরনের শিল্প? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"শ্রম ও মূলধনের ওপর ব্যবসায়ের ধরন নির্ভরশীল"-- উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৭৫ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা কিংবা যে শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৩১ থেকে ১২০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, তাকে ক্ষুদ্র শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উৎপাদনমাত্রা বাড়লে মুনাফার পরিমাণ বাড়ে"- কারণ বড় মাত্রায় উৎপাদনের ফলে বৃহদায়তন উৎপাদনের অভ্যন্তরীণ ব্যয়সংকোচ সুবিধা অর্জিত হয়।
উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে একক প্রতি স্থির খরচ (Fixed Cost) হ্রাস পায়, ফলে সামগ্রিক গড় উৎপাদন ব্যয় কমে যায়। গড় উৎপাদন ব্যয় কমলে পণ্য তুলনামূলক কম খরচে তৈরি করা যায় এবং বাজারে বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি একক প্রতি লাভের হারও বৃদ্ধি পায়। ফলে সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানের মোট মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহিমার ব্যবসায়টি উৎপাদনমুখী বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অন্তর্গত একটি 'ক্ষুদ্র শিল্প'।
বাংলাদেশের জাতীয় শিল্পনীতি ২০১০ ও ২০১৬ অনুসারে, ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৭৫ লাখ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা এবং কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ৩১ থেকে ১২০ জন হয়, তাকে ক্ষুদ্র শিল্প বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মহিমা নরসিংদীতে যে হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠা করেছেন সেখানে ৫০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন এবং তার স্থায়ী মূলধনের পরিমাণ ৫ কোটি টাকা। এখানে শ্রমিক সংখ্যা (৫০ জন) ৩১ থেকে ১২০ জনের মধ্যে এবং স্থায়ী মূলধন (৫ কোটি টাকা) ৭৫ লাখ থেকে ১৫ কোটি টাকার সীমার মধ্যে অবস্থান করছে। অতএব, স্থায়ী মূলধনের পরিমাণ ও নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যার মানদণ্ডে মহিমার হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠানটি একটি ক্ষুদ্র শিল্প।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"শ্রম ও মূলধনের ওপর ব্যবসায়ের ধরন নির্ভরশীল"- উক্তিটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিবিভাগের প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ যথার্থ।
একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারি নাকি বৃহৎ হবে, তা মূলত প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত স্থায়ী মূলধনের পরিমাণ (জমি ও দালানকোঠা ছাড়া) এবং সেখানে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করেই রাষ্ট্রীয় শিল্পনীতিতে নির্ধারণ করা হয়।
শিল্পনীতি অনুযায়ী, ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের ক্ষেত্রে মূলধনের পরিমাণ যদি ৭৫ লাখ টাকার নিচে এবং শ্রমিক অনধিক ৩০ জন হয়, তবে তা মাইক্রো শিল্প; আবার মূলধন ৭৫ লাখ থেকে ১৫ কোটি এবং শ্রমিক ৩১ থেকে ১২০ জন হলে তা ক্ষুদ্র শিল্প; মূলধন ১৫ কোটির বেশি থেকে ৫০ কোটি এবং শ্রমিক ১২১ থেকে ৩০০ জন হলে মাঝারি শিল্প; এবং মূলধন ৫০ কোটির বেশি বা শ্রমিক ৩০০ এর অধিক হলে তা বৃহৎ শিল্প হিসেবে গণ্য হয়। উদ্দীপকে মহিমার প্রতিষ্ঠানে ৫০ জন শ্রমিক এবং ৫ কোটি টাকা মূলধন থাকায় তা ক্ষুদ্র শিল্পের মর্যাদা পেয়েছে। যদি তার মূলধন ও শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেত, তবে তার প্রতিষ্ঠানটির শ্রেণিবিভাগও পরিবর্তিত হয়ে মাঝারি বা বৃহৎ শিল্পে রূপ নিত।
অতএব, শ্রমিকের সংখ্যা ও মূলধনের পরিমাণের ভিন্নতার কারণেই যেকোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের আকার ও প্রাতিষ্ঠানিক ধরন নির্ধারিত ও পরিবর্তিত হয়, যা উদ্দীপকের পরিস্থিতি দিয়ে প্রমাণিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও