সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

কুমিল্লার লালমাই থানার একটি গ্রাম দাপাড়। এ গ্রামের কৃষক রহিম মিয়া তের বছর বয়সী ফরিদাকে বিয়ে দিয়েছেন। এলাকার সমাজকর্মী অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়াকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং এ সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের নিম্নরূপ ধাপটি অনুসরণ করেন- সমস্যা চিহ্নিতকরণ -সচেতনতা সৃষ্টি- আইন প্রণয়নে -চাপ প্রয়োগ- আইন প্রণয়ন- আইনের বাস্তবায়ন।

  1. ক)

    সামাজিক সমস্যা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    যৌতুক বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন "সামাজিক সমস্যাটি" সমাধানে সমাজকর্মের অনুশীলন দেখানো হয়েছে? ব্যাখ্যা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের অন্যান্য সামাজিক সমস্যা সমাধানে উপরোক্ত পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায় কি? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক সমস্যা হলো সমাজের এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি, যা সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং যার সমাধানের জন্য যৌথ সামাজিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিবাহের শর্ত হিসেবে বরপক্ষ কনেপক্ষের কাছ থেকে অথবা কনেপক্ষ বরপক্ষের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অর্থ, সম্পত্তি বা মূল্যবান কোনো সুযোগ-সুবিধা দাবি বা গ্রহণ করাকে যৌতুক বলে। বাংলাদেশে যৌতুক একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'বাল্যবিয়ে' নামক সামাজিক সমস্যাটি সমাধানে সমাজকর্মের অনুশীলন দেখানো হয়েছে।

    বাল্যবিয়ে হলো আইনগতভাবে নির্ধারিত বয়সের পূর্বে ছেলে বা মেয়ের বিবাহ সম্পন্ন হওয়া (বাংলাদেশে ছেলেদের জন্য ২১ এবং মেয়েদের জন্য ১৮ বছরের পূর্বে)। এটি একটি মারাত্মক সামাজিক ক্ষতিকর প্রথা যা নারী স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতিকে ব্যাহত করে।

    উদ্দীপকে কৃষক রহিম মিয়া তার তেরো বছর বয়সী কন্যা ফরিদার বিয়ে দেন, যা প্রচলিত আইনে স্পষ্টত একটি বাল্যবিয়ে। এলাকার সমাজকর্মী এই ঘটনাটিকে একটি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং সমস্যা দূরীকরণের জন্য ধারাবাহিক ধাপসমূহ (যেমন: সচেতনতা বৃদ্ধি, চাপ প্রয়োগ ও আইনের বাস্তবায়ন) অনুসরণের উদ্যোগ নেন। অতএব, উদ্দীপকে বাল্যবিয়ে রোধে সমাজকর্মের অনুশীলনের প্রতিফলন ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, বাংলাদেশের অন্যান্য সামাজিক সমস্যা সমাধানে উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ্ধতিটি (সামাজিক নীতি/আইন প্রণয়ন ও সামাজিক আন্দোলনের ধারাবাহিক ধাপ) কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়। নিম্নে এর পক্ষে যৌক্তিক মতামত তুলে ধরা হলো:

    উদ্দীপকে বর্ণিত ধাপগুলো হলো— সমস্যা চিহ্নিতকরণ → সচেতনতা সৃষ্টি → আইন প্রণয়নে চাপ প্রয়োগ → আইন প্রণয়ন → আইনের সঠিক বাস্তবায়ন। এটি সমাজকর্মের সামাজিক নীতি, পরিকল্পনা ও সমাজ সংস্কারের একটি বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়া।

    বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে ছাড়াও যৌতুক প্রথা, মাদকাসক্তি, নারী ও শিশু নির্যাতন, কিশোর অপরাধ, নিরক্ষরতা ও দুর্নীতির মতো বহুবিধ সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান। এসব সমস্যা নিরসনে:
    ১. প্রথমে সমস্যার মূল কারণ ও গভীরতা নির্ণয় (চিহ্নিতকরণ) করা অপরিহার্য।
    ২. সাধারণ মানুষের মধ্যে কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি না করলে কোনো সমাধান টেকসই হয় না।
    ৩. নাগরিক সমাজ ও সমাজকর্মীদের মাধ্যমে আইনপ্রণেতাদের ওপর কার্যকর আইন প্রণয়নের চাপ সৃষ্টি করা আবশ্যক।
    ৪. সবশেষে আইনের কঠোর বাস্তবায়ন ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে সমস্যা সমূলে বিনষ্ট করা সম্ভব।

    সুতরাং, একটি নিয়মতান্ত্রিক ও কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়া হওয়ায় এটি বাংলাদেশের যেকোনো জটিল সামাজিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও স্থায়ী সমাধানে সফলভাবে প্রয়োগযোগ্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন