পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
মুনিয়ার মামা এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত। দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি এ মরণব্যাধি থেকে সুস্থতার জন্য জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরীক্ষা শেষে মুনিয়া মামাকে দেখার জন্য রওনা হয়। পথিমধ্যে কিছু বখাটে যুবক বাজে অঙ্গভঙ্গি ও অগ্নীল মন্তব্যের মাধ্যমে তাকে বিরক্ত করে। পাশেই কর্তব্যরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি। লক্ষ করে এগিয়ে আসেন। পুলিশ দেখে বখাটে যুবকরা পালিয়ে যায়।
- ক)(1)
প্রতিবন্ধী কত প্রকার?
- খ)(2)
দুর্নীতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
মুনিয়ার মামা তোমার পঠিত কোন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে মুনিয়া যে নাগরিক সমস্যার সম্মুখীন তা থেকে পরিত্রাণের জন্য কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্রতিবন্ধী ১২ প্রকার। (সাধারণভাবে প্রধানত চার প্রকার: শারীরিক, দৃষ্টি, শ্রবণ/বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ অর্থে দুর্নীতি হলো নীতিবিরুদ্ধ বা নীতিভ্রষ্ট আচরণ। পৌরনীতি ও সুশাসনের ভাষায়, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি, সুবিধা বা লাভের জন্য অর্পিত সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা ও পদের অপব্যবহার করাই হলো দুর্নীতি। যেমন—ঘুষ গ্রহণ, স্বজনপ্রীতি, অর্থ আত্মসাৎ ইত্যাদি দুর্নীতির অন্তর্ভুক্ত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুনিয়ার মামা এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত, যা এইডস (AIDS - Acquired Immune Deficiency Syndrome) রোগের কারণ। অর্থাৎ তিনি মরণব্যাধি 'এইডস'-এ আক্রান্ত।
এইচআইভি (Human Immunodeficiency Virus) একটি মারাত্মক ভাইরাস, যা মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (শ্বেত রক্তকণিকা) ধীরে ধীরে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। ফলে সামান্য কোনো সংক্রামক রোগেও আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হতে পারে না এবং একপর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সাধারণত অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ, ব্যবহৃত সুচ/সিরিঞ্জ ব্যবহার কিংবা সংক্রমিত মায়ের মাধ্যমে এইডস ছড়ায়। উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে মুনিয়ার মামা এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন, যা এইডস ব্যাধিকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মুনিয়া পথিমধ্যে বখাটে যুবকদের দ্বারা বাজে অঙ্গভঙ্গি ও অশালীন মন্তব্যের শিকার হয়েছে, যা আমাদের সমাজে 'ইভটিজিং' (Eve Teasing) বা যৌন হয়রানি নামক নাগরিক সমস্যা।
এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য নিম্নোক্ত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে:
১. আইনের কঠোর প্রয়োগ: যৌন হয়রানি ও ইভটিজিং প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনের কঠোর ও দ্রুত প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
২. পুলিশি টহল জোরদার: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসস্ট্যান্ড ও পথঘাটে নিয়মিত ও সক্রিয় পুলিশি নজরদারি ও টহল বৃদ্ধি করতে হবে।
৩. সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ: পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিকভাবে নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। বখাটেদের সামাজিকভাবে বয়কট ও প্রতিহত করতে হবে।
৪. হটলাইন ও দ্রুত সহায়তা: জরুরি সেবা যেমন—৯৯৯-এর প্রচার ও নারীদের সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক হেল্পলাইন কার্যকর রাখতে হবে।
৫. নৈতিক শিক্ষা ও পারিবারিক মূল্যবোধ: যুবসমাজকে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চায় যুক্ত করা এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো আবশ্যক।সুতরাং, সমন্বিত আইনগত, পারিবারিক ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল ইভটিজিংয়ের মতো মারাত্মক নাগরিক সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও