যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের উদ্দীপকের আলোকে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: সোহেল বলল, 'মানুষ হলো বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব।' নাসির বলল, 'মানুষ হলো এমন জীব যার দুটি পা, দুটি হাত আছে; সে হাসে, কাঁদে ও তাঁর ব্যক্তিত্ব আছে।' আসমা বলল, 'মানুষ হলো কলুর বলদ।'
- ক)(1)
বাহুল্য সংজ্ঞা কী?
- খ)(2)
পাপ নয় পূণ্য- সংজ্ঞাটি সঠিক নয় কেন?
- গ)(3)
আসমার বক্তব্যে যৌক্তিক সংজ্ঞার কোন নিয়মের লঙ্ঘন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সোহেল ও নাসিরের বক্তব্যে যে দুটি বিষয় ফুটে উঠেছে তাদের মধ্যে ৩ পার্থক্য দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো পদের সংজ্ঞায় আসন্নতম জাতি ও লক্ষণ ছাড়াও পদটির কোনো অবান্তর লক্ষণ উল্লেখ করা হলে যে অনুপপত্তি ঘটে, তাকে বাহুল্য সংজ্ঞা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'পাপ নয় পূণ্য'—সংজ্ঞাটি সঠিক নয়, কারণ এতে যৌক্তিক সংজ্ঞার নঞর্থক নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে।
যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম অনুযায়ী, যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে, তা যদি ইতিবাচক বা সদর্থক শব্দ দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব হয়, তবে তাকে নঞর্থক শব্দ দিয়ে সংজ্ঞায়িত করা যাবে না। 'পাপ' একটি স্বতন্ত্র বিষয়, যার নিজস্ব গুণাবলি রয়েছে। কিন্তু এখানে 'পূণ্য নয়' বলে কেবল পাপের অনুপস্থিতি নির্দেশ করা হয়েছে, যা পদটির যথার্থ স্বরূপ বা আসন্নতম জাতি ও লক্ষণ প্রকাশ করে না। ফলে এটি 'নঞর্থক সংজ্ঞা অনুপপত্তি'তে দুষ্ট হয়েছে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আসমার বক্তব্যে যৌক্তিক সংজ্ঞার রূপক বা আলংকারিক নিয়মের লঙ্ঘন ঘটেছে।
যৌক্তিক সংজ্ঞার চতুর্থ নিয়ম অনুযায়ী, যে পদের সংজ্ঞা দেওয়া হবে তা যেন সুস্পষ্ট ও সহজবোধ্য হয়; সংজ্ঞায় কোনো রূপক, দুর্বোধ্য বা আলংকারিক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। রূপক শব্দ ব্যবহার করলে 'রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' (Fallacy of Figurative Definition) ঘটে।
উদ্দীপকে আসমা বলেছে, 'মানুষ হলো কলুর বলদ।' এখানে 'কলুর বলদ' একটি রূপক বা বাগধারামূলক শব্দ, যা দ্বারা মানুষের কোনো লক্ষণ বা জাত্যর্থ প্রকাশ পায় না; বরং এটি অত্যন্ত রূপক ও অস্পষ্ট অভিব্যক্তি। মানুষের প্রকৃত স্বরূপ (বুদ্ধিবৃত্তি ও জীববৃত্তি) প্রকাশ না করে রূপক ভাষা ব্যবহার করার ফলে এখানে যৌক্তিক সংজ্ঞার চতুর্থ নিয়ম লঙ্ঘিত হয়ে রূপক সংজ্ঞা দোষ ঘটেছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সোহেলের বক্তব্যে যৌক্তিক সংজ্ঞা এবং নাসিরের বক্তব্যে যৌক্তিক বিবরণ ফুটে উঠেছে। নিচে এদের মধ্যকার ৩টি পার্থক্য দেখানো হলো:
১. স্বরূপগত পার্থক্য: যৌক্তিক সংজ্ঞা কেবল কোনো পদের আসন্নতম জাতি ও মূল লক্ষণ (জাত্যর্থ) প্রকাশ করে। যেমন সোহেল বলেছে, 'মানুষ হলো বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব'—এখানে আসন্নতম জাতি 'জীব' ও লক্ষণ 'বুদ্ধিবৃত্তি' উল্লেখ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে, বিবরণ হলো কোনো পদের আসন্নতম জাতির সাথে তার উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণের উল্লেখ। যেমন নাসির মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, হাসিকান্না ও ব্যক্তিত্বের মতো উপলক্ষণ ও অবান্তর লক্ষণের কথা বলেছে।
২. বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক মূল্য: যৌক্তিক সংজ্ঞা নিশ্চিত, সুস্পষ্ট এবং অপরিবর্তনীয় কারণ এটি পদের আবশ্যিক গুণ প্রকাশ করে, যা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে যথার্থ। কিন্তু বিবরণ পদের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করায় এটি ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে এবং এর বৈজ্ঞানিক মূল্য সংজ্ঞার চেয়ে কম।
৩. প্রয়োগের পরিধি: যেসব পদের পূর্ণ জাত্যর্থ জানা থাকে কেবল তাদেরই যৌক্তিক সংজ্ঞা দেওয়া যায় (যেমন মানুষ পদ)। কিন্তু বিশিষ্ট ব্যক্তি, স্থান বা এমন অনেক পদ যার নির্দিষ্ট লক্ষণ নেই, সেগুলোর কেবল বিবরণ দেওয়া সম্ভব, সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। ফলে বিবরণের পরিধি সংজ্ঞার পরিধির চেয়ে অনেক বিস্তৃত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও