বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
'মেঘনাদবধ কাব্যে'র দেশপ্রেমিক রাক্ষসরাজ রাবণ দেশে শত্রুবেষ্টিত ও অবরুদ্ধ। রামচন্দ্র ও তার বানর সৈন্য লঙ্কা নগরীকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। রাবণের অনুজ বিভীষণ শত্রুসেনাদের সাথে যোগ দিয়ে রাবণের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। চারিদিকে অবিশ্বাস, প্রতারণা ও বিপর্যয়ের হাতছানি। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বীর পুত্রদের মৃত্যুর খবর আসে তাঁর কানে। বিষন্ন ও দ্রোহক্ষুব্ধ রাবণ শত্রুর মোকাবিলা করার জন্য যুদ্ধসাজ নিয়ে রণক্ষেত্রে অগ্রসর হয়। দেশের জন্য এ সংগ্রাম প্রকৃত বীরত্বের মহিমায় উজ্জ্বল।
- ক)(1)
কার নির্দেশে সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করা হয়?
- খ)(2)
"শওকত জঙ্গ নবাব হলে সকলের উদ্দেশ্য হাসিল হবে।"- কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রাবণ চরিত্রটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দেশপ্রেম 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে তা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মীরনের নির্দেশে মোহাম্মদি বেগ সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শওকত জঙ্গ নির্বোধ, অদূরদর্শী ও বিলাসী হওয়ায় তাকে সহজে নিয়ন্ত্রণ করে স্বার্থোদ্ধার করা যাবে বলেই ষড়যন্ত্রকারীরা চেয়েছিল সে নবাব হোক।
ঘসেটি বেগম ও রাজবল্লভের মতো ষড়যন্ত্রকারীরা জানত যে, সিরাজউদ্দৌলা একজন তেজস্বী ও স্বাধীনচেতা শাসক, যিনি তাদের অন্যায় প্রভাব খর্ব করবেন। অন্যদিকে পূর্ণিয়ার শওকত জঙ্গ দুর্বল চরিত্র ও অযোগ্য প্রকৃতির হওয়ায় তাকে হাতের পুতুল বানিয়ে সিংহাসনে বসানো সম্ভব হতো। এতে ষড়যন্ত্রকারীরা নির্বিঘ্নে ক্ষমতা ও আর্থিক সুবিধা ভোগ করতে পারত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রাবণ চরিত্রটি শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রধান চরিত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে রাবণ চতুর্দিক থেকে শত্রু দ্বারা অবরুদ্ধ, আপন অনুজ বিভীষণ শত্রুর সাথে হাত মিলিয়েছে, প্রিয়জনদের মৃত্যু ও বিশ্বাসঘাতকতায় সে ক্ষতবিক্ষত; তবুও দেশের স্বাধীনতার জন্য সে বীরের মতো যুদ্ধসাজে রণক্ষেত্রে অগ্রসর হয়। তার এই অবস্থান দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের প্রতীক।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও দেখা যায়, নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের মতো বহিরাগত শত্রুর আগ্রাসনে চারদিক থেকে পরিবেষ্টিত। তাঁর আপন খালা ঘসেটি বেগম এবং প্রধান সেনাপতি মীরজাফর শত্রু ইংরেজদের সাথে গোপন চুক্তি করে নবাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। চরম সংকট, প্রাসাদ-ষড়যন্ত্র ও মানসিক বিপর্যয়ের মাঝেও সিরাজউদ্দৌলা বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য পলাশীর প্রান্তরে আত্মনিবেদন করেন। নিজের জীবন বা সিংহাসনের চেয়ে মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল থাকার মানসিকতায় রাবণ ও সিরাজউদ্দৌলা চরিত্র দুটি গভীরভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রাবণের বীরত্বব্যঞ্জক যে দেশপ্রেমের চিত্র দেখা যায়, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার ত্যাগ, আত্মমর্যাদাবোধ ও স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে তা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে রাবণের দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে ঘরের শত্রুর বিভীষণ রূপ এবং বাইরের আক্রমণ উপেক্ষা করে মাতৃভূমি লঙ্কার জন্য মৃত্যুপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে। সেখানে আত্মস্বার্থ নয়, দেশের মর্যাদাই সর্বাগ্রে স্থান পেয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও দেখা যায় নবাব সিরাজউদ্দৌলা বাংলার স্বাধীনতার প্রতীক। তিনি মীরজাফরদের দেশদ্রোহিতা বুঝতে পেরেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তাদের কাছে কোরআন ছুঁয়ে শপথ করিয়েছিলেন। তিনি ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও রাজসিংহাসনের মোহের ঊর্ধ্বে উঠে মাতৃভূমির স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। এমনকি পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের পরও তিনি মনোবল হারাননি, পাটনায় গিয়ে পুনরায় সৈন্য সংগ্রহ করে ফরাসিদের সাহায্যে দেশকে মুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েও তিনি আপস করেননি। পাশাপাশি নাটকে মীরমদন ও মোহনলালের আত্মত্যাগী দেশপ্রেমও এই ভাবকে মহিমান্বিত করেছে।
সুতরাং, প্রতিকূল পরিস্থিতি ও বিশ্বাসঘাতকতার মুখেও দেশের সম্মান ও স্বাধীনতার জন্য নিঃশর্ত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে উদ্দীপকের দেশপ্রেম 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে পূর্ণাঙ্গ ও মহিমান্বিতভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও