সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

সহপাঠ প্রশ্ন

স্বাধীনতা স্পর্শমণি সবাই ভালোবাসে, সুখের আলো জ্বালে বুকে দুঃখের ছায়া নাশে। স্বাধীনতা সোনার কাঠি খোদার সুধা দান,স্পর্শে তাহার নেচে উঠে শূন্য দেহে প্রাণ। মনুষ্যত্বের বান ডেকে যায় পশুর হৃদয় তলে,বুক ফুলিয়ে দাঁড়ায় ভীরু স্বাধীনতার বলে। দর্প করে পদানত উচ্চ করে শির, শক্তিহীনেও স্বাধীনতা আখ্যাদানে বীর।

  1. ক)

    'ভিক্টরি অর ডেথ, ভিক্টরি অর ডেথ'- উক্তিটি কাদের প্রতি করা হয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    'তোমার ক্ষমতা ধ্বংস কবে, সিরাজ'- কে, কাকে লক্ষ্য করে কেন এ উক্তিটি করেছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'মনুষ্যত্বের বান ডেকে যায়, পশুর হৃদয়তলে” চরণটিতে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন দৃশ্যের বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের স্বাধীনতার আস্বাদন 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে কীভাবে দেখানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘ভিক্টরি অর ডেথ, ভিক্টরি অর ডেথ’— উক্তিটি ক্যাপ্টেন ক্লেটন তাঁর অধীনস্থ সৈনিকদের প্রতি করেছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি ঘসেটি বেগম নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে লক্ষ্য করে তাঁর প্রতি চরম আক্রোশ ও প্রতিহিংসা থেকে করেছিল।
    নবাব আলীবর্দী খাঁ তাঁর কনিষ্ঠ দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলাকে বাংলার মসনদে অধিষ্ঠিত করেন। ঘসেটি বেগম চেয়েছিলেন তাঁর পালিত পুত্র শওকতজঙ্গ নবাব হোক, যাতে ক্ষমতার চাবিকাঠি তাঁর নিজের হাতে থাকে। সিরাজ সিংহাসনে বসায় ঘসেটির ক্ষমতার মোহ ধূলিসাৎ হয়। মতিঝিল প্রাসাদ থেকে সিরাজের নির্দেশে ঘসেটিকে নজরবন্দি করে মুর্শিদাবাদে নিয়ে আসা হলে তিনি তীব্র ক্রোধে ফেটে পড়েন এবং সিরাজের সর্বনাশের অভিশাপ দিয়ে এ কথা বলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চরণে স্বাধীনতার পরশে পশুতুল্য মানুষের মনেও যে মানবিকতা ও মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটে, সেই মহত্ত্বের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। পক্ষান্তরে, ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মীরজাফর, উমিচাঁদ, জগৎশেঠ প্রমুখের বিশ্বাসঘাতকতা ও দেশদ্রোহিতার দৃশ্যে এর চরম বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

    নাটকে দেখা যায়, নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন স্বাধীনচেতা ও দেশপ্রেমিক শাসক। অথচ তাঁর পারিষদবর্গ ও সেনাপতিদের অন্তঃকরণ পশুর চেয়েও অধম হয়ে পড়েছিল। স্বার্থপরতা ও ক্ষমতার লোভে মীরজাফর ও তাঁর সহচররা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিদেশিদের কাছে বিক্রি করে দেয়। উদ্দীপকের ভাব অনুযায়ী দেশপ্রেম বা স্বাধীনতার ছোঁয়ায় মানুষের পাশবিক প্রবৃত্তি দূর হয়ে মনুষ্যত্ব জাগ্রত হওয়ার কথা থাকলেও নাটকের স্বার্থলোভী চরিত্রগুলোর মাঝে সেই মনুষ্যত্বের ছিটেফোঁটাও দেখা যায় না; বরং তাদের হিংস্রতা ও হীন চক্রান্ত বাংলার স্বাধীনতার সূর্যকে অস্তমিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে স্বাধীনতার মহিমা ও মুক্তির পরশে মানুষের আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত হওয়ার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে স্বাধীনতার এই আস্বাদন বা গুরুত্ব নবাবের স্বদেশপ্রেম ও স্বাধীনতা রক্ষার মরণপণ সংগ্রামের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

    নবাব সিরাজউদ্দৌলা স্বাধীনতাকে অমূল্য সম্পদ মনে করতেন। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যকৌশলের আড়ালে দেশ দখলের কুৎসিত রূপ তিনি চিনতে পেরেছিলেন। স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখার জন্য নবাব তাঁর সর্বস্ব বাজি রেখে লড়াই করেছেন, ব্যক্তিগত অহমিকা ভুলে মীরজাফরদের মতো বিশ্বাসঘাতকদের কাছেও দেশের স্বার্থে হাত জোড় করে মিনতি জানিয়েছেন। দেশ পরাধীন হলে বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হবে— এ উপলব্ধি থেকেই তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছেন। উদ্দীপকে যেমন স্বাধীনতাকে ‘সোনার কাঠি’ ও ‘সুধার দান’ বলা হয়েছে, নাটকেও সিরাজের কাছে স্বাধীনতা ছিল বাংলার অস্তিত্বের পরমতম ধন, যা রক্ষার জন্যই তিনি আত্মোৎসর্গ করেছিলেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন