বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ওয়ার্ল্ড গার্ডেন নেটওয়ার্ক নামে একটি বেসরকারি কোম্পানি রাতারাতি সারা দেশ ব্যাপী প্রসার লাভ করে। স্বল্প বিনিয়োগে মোটা অংকের মুনাফা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা দেশের সাধারণ মানুষের নিকট হতে টাকা তোলা শুরু করে। কয়েক মাসের মধ্যে কোম্পানিটির জনপ্রিয়তা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। প্রচুর পরিমাণে টাকা হাতিয়ে নিয়ে কোম্পানিটি এক রাতের মধ্যে সারা দেশ হতে গায়েব হয়ে যায়। এই ভুয়া কোম্পানির নিকট দেশের সাধারণ মানুষগুলো তাদের সর্বস্ব খুইয়ে দারুণভাবে প্রতারিত হয়।
- ক)(1)
নবাব আলীবর্দি খাঁর প্রিয়পাত্র কে ছিলেন?
- খ)(2)
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনধি কেন সিপাহসালারের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ওয়ার্ল্ড গার্ডেন নেটওয়ার্ক কোম্পানির সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের কোম্পানির উদ্দেশ্যে এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে বর্ণিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদ্দেশ্য একই সূত্রে গাঁথা'- তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নবাব আলীবর্দি খাঁর প্রিয়পাত্র ছিলেন তাঁর দৌহিত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি নবাবের প্রধান সেনাপতি মীরজাফরকে নবাবের বিরুদ্ধে হাত করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির ষড়যন্ত্র পাকা করার উদ্দেশ্যে তার সাথে দেখা করতে এসেছিলেন।
ইংরেজরা সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করে নিজেদের পুতুল নবাব বসাতে চেয়েছিল। এ জন্য তারা সিপাহসালার মীরজাফরের ক্ষমতার লোভকে কাজে লাগিয়ে নবাব-বিরোধী চক্রান্তে তাকে প্রধান সহযোগী বানানোর প্রস্তাব ও চুক্তি চূড়ান্ত করতে এসেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ওয়ার্ল্ড গার্ডেন নেটওয়ার্ক কোম্পানির সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতারণা, প্রবঞ্চনা এবং অর্থ লিপ্সার দিক দিয়ে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শুরুতে বাণিজ্য করার অজুহাতে বাংলায় আসে। তারা এ দেশের মানুষকে মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে ও নানা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা এ দেশের সম্পদ অবাধে লুণ্ঠন করে এবং দেশীয়দের বিশ্বাসভঙ্গ করে চরম ক্ষতিসাধন করে।
উদ্দীপকের ওয়ার্ল্ড গার্ডেন নেটওয়ার্ক কোম্পানিও অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সারা দেশের নিরীহ মানুষের কাছ থেকে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নেয় এবং একরাতে সর্বস্ব লুটে নিয়ে গায়েব হয়ে যায়। যেভাবে ওয়ার্ল্ড গার্ডেন নেটওয়ার্ক দেশের সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলে তাদের নিঃস্ব করেছে, ঠিক তেমনিভাবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিও বাণিজ্যের নামে বাংলার মানুষের অর্থসম্পদ শোষণ ও লুণ্ঠন করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। এদিক থেকে দুটি কোম্পানির মধ্যে সাদৃশ্য স্পষ্ট।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কোম্পানির উদ্দেশ্য এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে বর্ণিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদ্দেশ্য শোষণ ও লুণ্ঠনের দিক থেকে এক সূত্রে গাঁথা—বক্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নিছক ব্যবসা করার জন্য বাংলায় আসেনি; তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলার অগাধ ধন-সম্পদ লুণ্ঠন করা এবং সাধারণ মানুষকে শোষণ করে নিজেদের মুনাফা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। এই স্বার্থ চরিতার্থ করতে তারা ষড়যন্ত্র, প্রতারণা এবং নৈতিকতাবিবর্জিত নানা কুকর্মের আশ্রয় নেয় এবং বাংলার সার্বভৌমত্ব হরণ করে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করে।
উদ্দীপকের ওয়ার্ল্ড গার্ডেন নেটওয়ার্ক কোম্পানির উদ্দেশ্যও ছিল অভিন্ন। তাদের লক্ষ্য কোনো জনকল্যাণ বা প্রকৃত ব্যবসা পরিচালনা নয়, বরং সাধারণ মানুষকে লোভে ফেলে স্বল্প সময়ে তাদের অর্থ আত্মসাৎ করে নিঃস্ব করা। উভয় প্রতিষ্ঠানই মানুষকে মিষ্টি প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রলুব্ধ করেছে এবং সুযোগ বুঝে মানুষের সম্বল লুট করে নিয়েছে।
অতএব, প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া এবং শোষণ করার হীন মানসিকতার দিক বিবেচনায় উভয়ের উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে একই সূত্রে গাঁথা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও