পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি নির্বাচনে শাসক দলের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। বিরোধীদলগুলোর জোট ২১ দফার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ী হয়। এই নির্বাচনের পরেই দেশটিতে একটি সংবিধান রচিত হয় এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়। তাছাড়া এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে। মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
- ক)(1)
বাংলাদেশের আইনসভার গঠন উল্লেখ কর।
- খ)(2)
৬ দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচন তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত নির্বাচন মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে— মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের আইনসভা এক কক্ষবিশিষ্ট, যার নাম 'জাতীয় সংসদ'; এটি প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ৩০০ জন সংসদ সদস্য এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০ জন সদস্যসহ মোট ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্থাপিত ৬ দফা কর্মসূচিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক মুক্তি, নিজস্ব মুদ্রা বা ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং নিজস্ব মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের মতো মৌলিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শোষণ ও বৈষম্য থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার সার্বিক রূপরেখা প্রদান করেছিল বলেই একে বাঙালির 'মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনা কার্টা' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচনটি ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকারের চরম ভরাডুবি ঘটেছিল। মওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে গঠিত বিরোধীদলীয় জোট 'যুক্তফ্রন্ট' ২১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিয়ে অভূতপূর্ব বিজয় অর্জন করে (২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে)। এই নির্বাচনের ফলেই ১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাই উদ্দীপকের নির্বাচনটি নিশ্চিতভাবেই ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালের নির্বাচন পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিল—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
এ নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙালি জনগণ ব্যালটের শক্তিতে প্রথমবারের মতো বুঝতে পারে যে জনগণের রায়ই ক্ষমতার আসল উৎস। মুসলিম লীগের মতো একটি পরাক্রমশালী ও ঔপনিবেশিক মানসিকতার রাজনৈতিক দলকে পরাজিত করে সাধারণ মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। নির্বাচনের ২১ দফার মধ্যে ভাষা, অর্থনীতি, স্বায়ত্তশাসন এবং কৃষকদের স্বার্থসংক্রান্ত বাস্তবমুখী দাবি থাকায় সাধারণ মানুষ জাতীয় রাজনীতি ও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে।
এই নির্বাচন তরুণ ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে নতুন নেতৃত্বের বিকাশ ঘটায়। এটি বাঙালির মধ্যে দ্বি-জাতি তত্ত্বের মোহভঙ্গ ঘটিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করে, যা পরবর্তীকালে ১৯৬৬-এর ৬ দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পথ সুগম করে। সুতরাং, এ নির্বাচন রাজনৈতিক সচেতনতা বিকাশে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও